

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তির স্মার্টফোনে অনলাইন ক্যাসিনোতে আসক্ত হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে বহু পরিবার। দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা এই সর্বনাশা খেলায় মেতে বিপথগামী হচ্ছে।
ঝিকরগাছায় এমন তথ্যও মিলেছে যে, কোটিপতি বাবার সম্পদ হারিয়ে আজ পথে বসেছে আদরের সন্তান। অনেকের ধারণা, ‘গেম’ খেলার নামে দেশি-বিদেশি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে, যেখানে সাময়িকে লাভের আশায় লাখ লাখ টাকার লোকসান অবধারিত। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে এই জুয়ায় প্রবেশ করে অতি অল্প সময়ে নিঃস্ব হচ্ছেন মানুষ।
এক ভুক্তভোগী জানান, এটি এমন এক ভয়াবহ আসক্তি যেখান থেকে ফেরার পথ নেই। আসক্তরা স্ত্রী, সন্তান বা সংসারের ভালো-মন্দের তোয়াক্কা না করে দিনরাত বুঁদ হয়ে থাকছেন ফোনে। অতীতে যারা ঝিনাইদহের ‘কাজল হুন্ডি’ বা ইউনিপে টু ইউ-এর মতো এমএলএম ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হয়েছিলেন, এখন তাদের সামনে নতুন আপদ হিসেবে এসেছে এই অনলাইন ক্যাসিনো। এমনকি শার্শার এক প্রতিষ্ঠিত হোমিও চিকিৎসকও নিজের পৈত্রিক সম্পদ ও উপার্জিত বিপুল অর্থ এই জুয়ায় হারিয়ে এখন পারিবারিক অশান্তিতে ভুগছেন।
এই নেশা কেবল উচ্চবিত্ত নয়, গ্রাস করেছে কুলি-মজুর, ভ্যানচালক ও চা-দোকানিদেরও। শ্রমজীবী মানুষেরা সারাদিনের আয় দিয়ে ইন্টারনেটের এমবি কিনে জুয়ায় মত্ত থাকছে, ফলে অনেকের ঘরেই এখন ঠিকমতো হাঁড়ি চড়ছে না। ব্যবসায়ীরা দোকানের পুঁজি হারিয়ে ঘর ভাড়া ও মহাজনি দেনায় জর্জরিত হচ্ছেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, অনলাইন জুয়ার এই ভয়াবহতা রোধে এখনো কার্যকর কোনো প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার পাশাপাশি জনজীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :