

আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-কে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার তেহরান দাবি করেছিল, তাদের নৌবাহিনী মার্কিন এই বিশাল যুদ্ধজাহাজটিতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করে মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বুধবার নিয়মিত ফ্লাইট অপারেশন চলাকালীন জাহাজে একটি দূর্ঘটনা ঘটে। যার ফলে এক নৌসেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।
মার্কিন ৫ম ফ্লিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৫ মার্চ আরব সাগরে অবস্থানকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এটি কোনো সরাসরি যুদ্ধ বা হামলাজনিত আঘাত নয়। আহত সেনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত জাহাজ থেকে উপকূলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও ঠিক কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে জানানো হয়েছে, বুধবার ইরানের নৌবাহিনী তাদের উপকূলে অবস্থিত ‘কাদের’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-কে লক্ষ্যবস্তু বানায়। ইরানি নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘শত্রু পক্ষের বিমানবাহী রণতরীটি আমাদের নজরদারিতে ছিল। এটি আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সীমানার মধ্যে প্রবেশ করা মাত্রই আঘাত হানা হয়েছে, যার ফলে রণতরীটি তার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।’ তেহরান একে তাদের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান উত্তজনা এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে এই রণতরীটি বর্তমানে ওই অঞ্চলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দুর্ঘটনার ধাক্কা সামলে নিয়ে আব্রাহাম লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপ তাদের নির্ধারিত সামরিক মিশন অব্যাহত রেখেছে।
আপনার মতামত লিখুন :