পরীক্ষায় আসছে ব্যাপক পরিবর্তন, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তি চলতি মাসেই


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২, ২০২৬, ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ /
পরীক্ষায় আসছে ব্যাপক পরিবর্তন, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তি চলতি মাসেই

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে। তবে, এবারের নিবন্ধনে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসছে। ‘ওভার সনদ’ বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রার্থীকে সনদ দেওয়ার দীর্ঘদিনের প্রচলন থেকে সরে আসছে সংস্থাটি।

নতুন নীতি অনুযায়ী, সারাদেশে যতগুলো শূন্য পদ থাকবে, ঠিক ততজন প্রার্থীকেই চূড়ান্তভাবে নিবন্ধিত করা হবে। একই সঙ্গে এমসিকিউ ও ভাইভার সমন্বয়ে নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি এবং দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ক্ষেত্রে এবার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে নিয়োগের ভিত্তি নির্ধারণে। আগে নিবন্ধন পরীক্ষার সঙ্গে শূন্য পদের সরাসরি কোনো সম্পর্ক থাকত না; পরীক্ষার মাধ্যমে বড় সংখ্যক প্রার্থীকে সনদ দেওয়া হতো এবং পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী ধাপে ধাপে নিয়োগ দেওয়া হতো। তবে, নতুন পদ্ধতিতে আগে সারাদেশের স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও চূড়ান্ত নিবন্ধন দেওয়া হবে।

জানা গেছে, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের লক্ষ্যে গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রথম দফায় ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা ১ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর ই-রেজিস্ট্রেশন শেষে গত ৩১ মার্চ থেকে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহে ‘ই-রিকুইজিশন’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত।

এনটিআরসিএ’র পরিচালক (শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নির্দিষ্ট ইউজার আইডি ব্যবহার করে অনলাইনে এই তথ্য প্রদান করতে হবে।
নিবন্ধনের প্রচলিত তিন ধাপের কাঠামো বদলে প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাইয়ে নতুন পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার পর সরাসরি ভাইভা নেওয়া হবে। এবারই প্রথমবারের মতো ভাইভার নম্বর চূড়ান্ত মেধা তালিকায় যুক্ত করা হচ্ছে। এতে প্রার্থীর বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের সমন্বিত মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্যতম শিক্ষক বাছাই করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা পদ্ধতিতেও আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগে এনটিআরসিএ’র নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা এই তিন ধাপ থাকলেও চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে ভাইভার নম্বর যুক্ত করা হতো না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীর সামগ্রিক দক্ষতার পূর্ণ মূল্যায়ন সম্ভব হতো না। পাশাপাশি পরীক্ষার ধাপ বেশি হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগত এবং ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে প্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হতো।

এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, নতুন প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে আগের সেই কাঠামো ভেঙে আরও সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এবার ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে, যেখানে বিষয়ভিত্তিক ও সাধারণ— উভয় অংশই থাকবে। এরপর নেওয়া হবে ভাইভা এবং প্রথমবারের মতো ভাইভার নম্বর চূড়ান্ত ফলাফলে যুক্ত করা হবে। এতে প্রার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, উপস্থাপনা ও ব্যক্তিত্বের একটি সমন্বিত মূল্যায়ন সম্ভব হবে।

এছাড়া স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি— তিন ধারার জন্য আলাদা পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে একটি অভিন্ন ও মানসম্মত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বৈষম্য তৈরি না হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও এই একক পদ্ধতির পক্ষে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনে আমরা একটি বাস্তবভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছি। আগে পরীক্ষার সঙ্গে শূন্য পদের সরাসরি সম্পর্ক ছিল না; কিন্তু এবার আগেভাগেই শূন্য পদের সঠিক তথ্য নেওয়া হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ীই নিবন্ধন দেওয়া হবে। যতটি পদ থাকবে, ঠিক ততজনকেই সনদ দেওয়া হবে— এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।