মধ্যপ্রাচ্যে ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন ঘাঁটিতে ২৩ হামলা ইরানের


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ /
মধ্যপ্রাচ্যে ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন ঘাঁটিতে ২৩ হামলা ইরানের

ইরাক এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এবং ইরাকের একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘সারায়া আউলিয়া আল-দাম’ জানিয়েছে, তারা গত এক দিনে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচটি সফল হামলা পরিচালনা করেছে।

একই সঙ্গে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামক অপর একটি জোট দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা ইরাকের অভ্যন্তরে এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ২৩টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এই হামলাগুলোতে কয়েক ডজন ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্যবস্তু করার এই প্রবণতা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই তারা এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান পরিচালনা করছে।

বিশেষ করে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে তারা উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন মোতায়েন করেছে, যা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। এই হামলার ফলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর এই সমন্বিত হামলা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা। ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের রেশ ধরে ইরাকের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখন মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানাকে তাদের প্রধান কৌশলে পরিণত করেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় এত বিপুল সংখ্যক ড্রোন হামলা এটাই প্রমাণ করে, গোষ্ঠীগুলোর সামরিক সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে এতগুলো হামলা পরিচালনার ফলে ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের মধ্যে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরাকি সরকারের ওপরও চাপ বাড়ছে, কারণ বিদেশি বাহিনীর ওপর এই ধরনের হামলা দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই অঞ্চল থেকে মার্কিন আধিপত্য ও সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না হবে, ততক্ষণ তাদের এই ‘প্রতিরোধমূলক’ হামলা অব্যাহত থাকবে।

গত ২৪ ঘণ্টার এই ধারাবাহিক অভিযানগুলো মার্কিন বাহিনীর জন্য সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হামলার পর মার্কিন প্রশাসন পাল্টা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

সূত্র: আল জাজিরা