

ইরানের কাছে হার মানতে চলেছে কি যুক্তরাষ্ট্র? ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে চলছে তোলপাড়!
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিশ্বকে চমকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের বৈরী দেশ ইরানের সাথে চলমান সংকট নিয়ে তিনি এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন।
ফক্স নিউজের মারিয়া বার্টোরোমোর সাথে এক আলাপচারিতায় ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “ইরানের সাথে যুদ্ধ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ওয়াশিংটন থেকে বারবার তেহরানকে সামরিক অ্যাকশনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ট্রাম্পের এই ‘অ্যাডমিশন’ বা স্বীকারোক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার আড়ালে হয়তো যুদ্ধের দামামা থিতিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত হচ্ছে। আগামী বুধবার এই বিষয়ে বিস্তারিত সাক্ষাৎকার প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবরোধ মোকাবিলায় তেহরান তাদের বিশাল ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগানোর ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি জানিয়েছেন, ইরানের ৮,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থল ও সমুদ্র সীমান্ত রয়েছে। যদি সমুদ্রপথ বাধাগ্রস্ত হয়, তবে তারা প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক, ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সাথে স্থলপথে বাণিজ্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। ইতিমধ্যে পাকিস্তান হয়ে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত একটি নতুন ট্রানজিট করিডোর চালু হয়েছে।
এদিকে মার্কিন অবরোধের ফলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব অনেকটা বিপাকে পড়েছে।
রিয়াদ আশঙ্কা করছে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে, তবে তারা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ‘বাব আল-মানদেব’ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে। এই পথটি বর্তমানে সৌদি তেলের জন্য প্রধান লাইফলাইন।
ফলে সৌদি কর্মকর্তারা গোপনে ট্রাম্প প্রশাসনকে অবরোধ শিথিল করে আলোচনার টেবিলে ফেরার অনুরোধ জানাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এখন বন্দুকের নলের চেয়ে আলোচনার টেবিলই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
আপনার মতামত লিখুন :