ইমরান খানের উন্নত চিকিৎসা দাবিতে আবেদন সুপ্রিম কোর্টে


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : মে ১২, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ /
ইমরান খানের উন্নত চিকিৎসা দাবিতে আবেদন সুপ্রিম কোর্টে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন তাঁর বোন ডা. উজমা খান। ইসলামাবাদ হাইকোর্টের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সোমবার এই আবেদন দাখিল করা হয়।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর, তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য পরিবারের কাছে সরবরাহের দাবি জানানো হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী উজাইর কারামত ভান্ডারির মাধ্যমে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, ডা. উজমা খান ইসলামাবাদ হাইকোর্টের মূল মামলার পক্ষ না হলেও ওই রায়ের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী একটি রায়ের উল্লেখ করে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি আদালতের আদেশে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তবে তিনি সেই রায় চ্যালেঞ্জ করার অধিকার রাখেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবি আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আছেন। অন্যদিকে, তাঁদের দুই ছেলে বিদেশে অবস্থান করছেন। ফলে পাকিস্তানে পরিবারের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে ডা. উজমা খানই তাঁর দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আবেদনকারী উল্লেখ করেন, তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক হওয়ায় ভাইয়ের স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও সীমাবদ্ধতার কারণে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, কারা কর্তৃপক্ষ ইমরান খানের স্বাক্ষরিত ওকালতনামা তাঁর আইনজীবীর কাছে পৌঁছে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর ফলে তিনি নিজে আদালতে আবেদন করতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে ডা. উজমা খান তাঁর পক্ষে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদনে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইমরান খানের অবিলম্বে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এ জন্য খুররম মির্জা, অসিম ইউসুফ, ফয়সাল সুলতান ও সামিনা নিয়াজিসহ কয়েকজন চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ইমরান খানের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তারের পর থেকে ইমরান খান একাধিক মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন। তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বারবার অভিযোগ করে আসছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে চাপের মুখে রাখা হচ্ছে। তবে পাকিস্তান সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তথ্যসূত্র : দ্য ডন