শার্শায় সাংবাদিক রিমুর ওপর হামলা: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় জিডি


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুন ২৬, ২০২৬, ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ /
শার্শায় সাংবাদিক রিমুর ওপর হামলা: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় জিডি

স্টাফ রিপোর্টার:
যশোরের শার্শা বাজারে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে উপজেলা প্রেসক্লাব শার্শার সাধারণ সম্পাদক ও নাভারণ ডিগ্রি কলেজের ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক আতিকুজ্জামান রিমু’র ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় সাবেক ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আরিকুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

থানায় করা জিডির সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) বেলা আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে শার্শা বাজারের প্রাইভেট স্ট্যান্ড এলাকায় সাংবাদিক আতিকুজ্জামান রিমুকে দেখা মাত্র আরিকুল  অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে সাংবাদিক রিমু এর প্রতিবাদ করলে আরিকুলের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি তাকে জাপটে ধরে। সেই সুযোগে আরিকুল একটি লাঠি দিয়ে তার গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

হামলায় আহত সাংবাদিক আতিকুজ্জামান রিমু প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর শার্শা থানায় উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডিতে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।সাংবাদিক আতিকুজ্জামান রিমু বলেন,
“আমি দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছি। সংবাদ সংগ্রহ ও সত্য প্রকাশের কারণে আমার ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়, বরং সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিক এ ধরনের হামলার শিকার না হন।”

এবেপারে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।”

এদিকে হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সাংবাদিকের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ক্ষমতায় না থাকলেও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কিছু ক্যাডার এখনও এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।