

সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় আগের মতো আর চোখে পড়ে না সাদা বক। একসময় আকাশে সারি বেঁধে উড়ে চলা কিংবা বিলের ধারে এক পায়ে ভর দিয়ে মাছ শিকারের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য গ্রামবাংলায় নিত্যদিনের রূপ থাকলেও, আজ তা প্রায় বিলুপ্তির পথে।
উপকূলীয় ও গ্রামীণ কবি-সাহিত্যিকদের কবিতায় উঠে আসা এই নান্দনিক পাখিটি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খাবারের সন্ধানে আর খাল-বিলে আসে না। অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন, গাছপালা নিধন, অবাধে বিলে পানি না থাকা এবং অসাধু শিকারিদের দৌরাত্ম্যই এই পাখি বিলুপ্তির প্রধান কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ধল্বেশর গ্রামের আব্দুল বারেক তালুকদার ও গোপালপুর গ্রামের ড্যা. অসীম মন্ডল জানান, কয়েক বছর আগেও এলাকার জবোখালি ও গোপালপুর বিলে অজস্র বক দেখা যেত, যা দেখতে আশপাশের গ্রামের মানুষ ভিড় জমাত। সাবেক কামারখন্দ চৌবাড়ি ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক রেজাউল করিম রাজা এবং উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, জবখালি, কর্ণসূতি ও কৃষ্ণদিয়া বিলে একসময় প্রচুর বক দেখা গেলেও এখন শিকার ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে তা শূন্যের কোঠায় ঠেকেছে।
দেশে বর্তমানে পাঁচ প্রজাতির সাদা বক রয়েছে, যাদের আকার ৪৫ থেকে ১৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. এ কে এম আনোয়ারুল হক জানান, মিঠাপানির খাল-বিল, পুকুর ও ডোবায় বাস করা এই পাখি মূলত মাছ, পোকামাকড়, শামুক ও ব্যাঙ খেয়ে বেঁচে থাকে। শস্যখেতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ এবং নদী-বিল ভরাটের ফলেই বক আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।
আপনার মতামত লিখুন :