পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী বালাগাল উলা বিকামালিহি কাসাফাদ্দোজা বিজামালিহি


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৫, ২০২৬, ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ /
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী বালাগাল উলা বিকামালিহি কাসাফাদ্দোজা বিজামালিহি
  • হযরত ঈসা (আঃ)-এর জন্মস্থান যিয়ারত ও হুযুর (সাঃ) জন্মদিনে রোজা রেখে স্বয়ং খুশী প্রকাশ করেছিলেন:

হযরত আনাস বিন মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হুযুর নবী আকরাম (সাঃ) স্বীয় মি’রাজ ভ্রমণ বয়ান করতে গিয়ে বলেছেন যে, জিব্রাঈল (আঃ) ‘বাইতুল লাহাম’ নামস্থানে আমাকে বললেন, আপনি বোরাক হতে অবতরণ করুন এবং নামাজ পাঠ করুন? আমি অবতরণ করে নামাজ আদায় করলাম। তখন জিব্রাঈল (আঃ) বললেন, আপনি কি জানেন যে, আপনি কোথায় নামাজ আদায় করেছেন? আপনি বাইতুল্লাহাম-এ নামাজ আদায় করেছেন। যেখানে হযরত ঈসা (আঃ)-এর জন্ম হয়েছিল।

এই হাদীস মোবারক হতে জানা গেল যে, জুমার দিনের ফযিলত ও সম্মান যেভাবে হযরত আদম (আঃ)-এর সৃষ্টির কারণে অর্জিত হয়েছে, যা মূলত তাজিমে জমানী সময় ও কাল ভিত্তিক তাজিম। অনুরূপভাবে বাইতুল্লাহামে হযরত ঈসা (আঃ)-এর জন্মস্থান হওয়াতে তাজিমে মাকানী অর্থাৎ স্থানগত মর্যাদা হাসিল হয়েছে। এ কারণেই হুযুর নবী আকরাম (সাঃ) কে সেখানে নামাজ আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল।

এই হাদীস শরীফের দ্বারা নবীর জন্মস্থানের গুরুত্ব ও তাজিম প্রমাণিত হয়। এ জন্য আশেকানে রাসূল মাওলাদুন নবী (সাঃ) কে (সে স্থান যেখানে হুযুর নবী আকরাম (সাঃ)-এর সৌভাগ্যপূর্ণ জন্ম হয়েছে) তাজিম করে এবং যিয়ারত করে। মক্কাবাসীদের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে এই আচরণ চলে আসছিল যে তারা সেই স্থান হতে জসনে মিল্লাদুন নবী (সাঃ) এর জুলুস বের করে আসছিল। তদুপরি যদি নবীর জন্ম উপলক্ষে কোন স্থানকে বরকতময় এবং স্মৃতিচিহ্ন ও স্মরণীয় করে দেয়, যা সরাসরি হাদীসে নববীর দ্বারা প্রমাণিত ও স্বীকৃত, তাহলে সে দিনটি এবং মুহূর্তটি যখন হুযুর নবী আকরাম (সাঃ)-এর জন্ম হয়েছে, তা ওয়াজিবুত তা’জিম, স্মরণীয় এবং ঈদের দিন কেন হবে না?

(ক) সুনাসে নাসায়ী : কিতাবুস সালাত, বাবু ফারদিস সালাত, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা- ২২২, বর্ণনা সংখ্যা-৪৫০।
(খ) তিরবানী মুসনাদুস সামীন, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৯৪, বর্ণনা সংখ্যা-৩৪১। তবে নিম্নবর্ণিত কিতাবসমূহে উপরোক্ত হাদীসটি হযরত শাদ্দাদ বিন আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।
(গ) বাযযার আল বাহরুজ জাখখার (আল মুসনাদ) খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-৪১০, বর্ণনা সংখ্যা-৩৪৮৪।
(ঘ) তিররানী : আল মু’জামুল কবীর : খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা ২৮৩, বর্ণনা সংখ্যা-৭১৪২।
(ঙ) হাইছামী : মাজমাউজ জাওয়াইদ ওয়া মাম্বাউল ফাওয়াইদ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৭৩।
(চ) আসকালানী : ফাতহুল বারী, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-২৮৩, বর্ণনা সংখ্যা-৭১৪২।
(ছ) আসকালানী : ফাতহুল বারী, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-১৯৯]

মীলাদ অনুষ্ঠানের শরীয়তভিত্তিক উল্লেখিত প্রামাণ্য দলিলগুলোর সাথে সাথে এই প্রশ্নের উদয় হয় যে, হুযুর নবী আকরাম (সাঃ) স্বয়ং জন্মদিন সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কোন হেদায়েত বা তালকীন করেছেন কিনা? এর উত্তর হ্যাঁ বাচক। হুযুর নবী আকরাম (সাঃ) স্বয়ং সাহাবায়ে কেরামকে স্বীয় জন্মদিনে আল্লাহপাকের শোকর আদায় করার তালকীন করেছেন এবং তাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি স্বয়ং স্বীয় জন্মদিনে রোজা রেখে আল্লাহপাকের দরবারে শোকর গুজারী ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। হুযুর নবী আকরাম (সাঃ)-এর এই মুবারক আমল নিম্নে বর্ণিত রেওয়াতের দ্বারা প্রমাণিত হয়।