দেশের আলেম সমাজ ক্ষোভে অসন্তোষে ফুঁসছেন


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৬, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ /
দেশের আলেম সমাজ ক্ষোভে অসন্তোষে ফুঁসছেন
  • লা’মাযহাবী লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করায় প্রতিবাদের ঝড় * জাতীয় কনভেনশনে শীর্ষ উলামায়ে কেরাম * জামায়াতের মতাদর্শের বিষয়ে সতর্ক করলেন আলেমরা

হানাফি মাজহাবের বাইরের ‘লা-মাযহাবী’ আকিদার শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে বসানোয় সারাদেশের আলেমদের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। একজন লা-মাযহাবীকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা। জনবিস্ফোরণের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে সরকার ও ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। হানাফি মাজহাবের অনুসারী কোনো যোগ্য আলেমকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। ক্ষমতায় এসেই তিনি (ধর্ম প্রতিমন্ত্রী) কিছু নাটক শুরু করেছেন। বিভিন্ন মাদরাসায়, মারকাজে যাওয়া শুরু করেছেন। কেউ কেউ ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে তাকে (ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে) বরণ করে নিচ্ছেন।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা-বিশ্বাস সংরক্ষণ এবং সার্বিক গণসচেতনতা সৃষ্টি, ঈমান বিধ্বংসী ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুত তাওহীদ নিষিদ্ধ এবং সংসদে পাস হওয়া ট্রান্সজেন্ডার বান্ধব শ্রম আইন বাতিলের দাবিতে রাজধানী ঢাকার কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গতকাল মঙ্গলবার ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি আয়োজিত জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম এসব কথা বলেন। কনভেনশনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের নিয়োগ ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শীর্ষ উলামায়ে কেরাম।

কনভেনশনে সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুত তাওহীদ নিষিদ্ধ এবং ট্রান্সজেন্ডার বান্ধব শ্রম আইন বাতিলের জোর দাবি জানান শীর্ষ উলামায়ে কেরাম। ‘লা-মাযহাবী’ ধর্মপ্রতিমন্ত্রী লিংকনের পক্ষে জামায়াত পরোক্ষভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলেও কেউ কেউ অভিযোগ তোলেন। সারাদেশ থেকে আলেমরা এসে এ কনভেনশনে অংশগ্রহণ করেন। তারা সরকারকে সতর্ক করে বলেন, দেশের আলেম সমাজ রাস্তায় নামার আগেই ‘লা-মাযহাবী’ লিংকনকে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে নেয়া উচিত। তা না হলে আলেম সমাজ কোনোভাবেই একজন ‘লা-মাজহাবী’কে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মেনে নেবে না। কেউ কেউ ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান, আপনি ‘লা-মাযহাবী’ নন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে স্বীকার করুন।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর ও দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশের আমীর মাওলানা আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে এবং মুফতি সুলতান মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় জাতীয় কনভেনশনে আমন্ত্রিত মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের মারজাজ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের পরিচালক মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, হবিগঞ্জের আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলিপুরী, আন্তর্জাতিক মজলিস তাহফফুজে খতমে নবুওয়তের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মুফতি মোহাম্মদ আলী আফতাবনগর, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মাওলানা নেয়ামাতুল্লাহ আল ফরিদী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম সুবহানী, মুফতি ইমাদ উদ্দিন, মুফতি রেজাউল করিম আবরার, মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, মাওলানা আহমদ কবির আমকুনী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী, বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান, মাওলানা মাহবুবুল্লাহ কাসেমী, মুফতি বশির উল্লাহ, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী, মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা ইমরানুল বারি সিরাজী ও মাওলানা ইয়ামিন।

কনভেনশনে অন্য শীর্ষ আলেমদের পাশাপাশি জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী।
মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী নবাগত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের নিয়োগ ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি কওমি মাদরাসার আলেমদের প্রতি সরকারের দ্বিচারিতা ও বিভ্রান্তিকর নীতির সমালোচনা করে দাবি করেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত ও অবস্থান চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী আল্লামা বাবুনগরীসহ শীর্ষ আলেমদের প্রতি সরকারের অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাবুনগরী সাহেবের কাছে গেলেন, দোয়া নিলেন মাশাল্লাহ ভালো কথা। কিন্তু ঢাকায় ফিরেই সেই বাবুনগরী সাহেবের দেওয়া বিবৃতি ও বক্তব্যের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। এটা সরকারের চরম বিভ্রান্তিকর নীতির পরিচয় দেয়। নতুন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকনের নিয়োগ ও বিভিন্ন মাদরাসায় গিয়ে সংবর্ধনা গ্রহণের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,‘ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আগে কখনো পূর্ণমন্ত্রী করা হতো না, প্রতিমন্ত্রী করা হতো। এবার পূর্ণমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কেন আবারও একজন প্রতিমন্ত্রী দিতেই হলো, আর দিতে হলে লিংকন সাহেবকেই দিতে হবে এর অর্থ কী? আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।’

মাওলানা ইউসুফী ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, ক্ষমতায় এসেই তিনি (ধর্ম প্রতিমন্ত্রী) কিছু নাটক শুরু করেছেন। বিভিন্ন মাদরাসায়, মারকাজে যাওয়া শুরু করেছেন। আর আমাদের কিছু ভাই তাকে ফুলের তোড়া দেওয়া শুরু করেছেন। আমার ভাইয়েরা বলেন, ‘আমাদের এখানে এসেছে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী তাঁকে একটু সম্মান না করলে কেমনে হয়?’ এসময় তিনি সতর্ক করে বলেন, আপনি সম্মান করেন, আপনি ঘরে বসে তাকে খাওয়ান, বিরিয়ানি খাওয়ান, পোলাও খাওয়ান, সবকিছু করেন। আপনি ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁকে সম্মান জানাবেন, এই বিষয়টি ভাবছেন? আপনার এই কাজের কারণে এই লোকটার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু বাড়ছে জনগণের কাছে? এসব বিষয়ে কঠোর সচেতনতা দরকার উল্লেখ করে মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঈমান-আকিদা এবং ধর্মীয় অবস্থানে যারা বাধা সৃষ্টি করবে, দেশের আলেম সমাজ তা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না। কনভেনশনে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বিতর্কিত ট্রান্সজেন্ডার বান্ধব শ্রম আইন বাতিল এবং হিজবুত তাওহিদ নিষিদ্ধের জোরালো দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর ও সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের আহ্বায়ক আল্লামা আব্দুল হামিদ (মধুপুর পীর সাহেব)। একই সাথে ‘লা-মাযহাবী’ ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনকে সরিয়ে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ হানাফি মাজহাবের অনুসারী কোনো যোগ্য আলেমকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মধুপুর পীর সাহেব।

তিনি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নানান সমসাময়িক বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সরকারের প্রতি একাধিক দাবি পেশ করেন। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কঠোর সমালোচনা করে মধুপুর পীর সাহেব বলেন, ইউনূস সর্বস্বান্ত করে দিয়ে গেছে অল্প কয়দিনের মধ্যে, ইউনূস ক্ষমতায় এসে সর্বনাশ করে রেখে গেছে দেশকে। জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ট্রান্সজেন্ডার বান্ধব শ্রম আইনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি সরকারকে এ ধরনের আইন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, পুরুষ নারী হওয়া বা নারী পুরুষ হওয়া কোনো ধর্মেই (ইসলাম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, ইহুদি) স্বীকৃত নয়।

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) হলেন হকের মাপকাঠি। যারা সাহাবায়ে কেরামকে মানে না, তারা ইসলামের শত্রু, ভণ্ড ও প্রতারক। এ দলটির প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর ভাবধারার জামায়াত কখনো ইসলামের প্রকৃত কাজ করেনি। তিনি নির্বাচনের আগে ‘রোজা-পূজা সমান’ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান এবং গাইবান্ধায় মন্দির নির্মাণের বিষয়ে কেন মুসলমান ও আলেমরা চুপ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

দেশে ৯০ ভাগ মানুষ হানাফি মাজহাবের অনুসারী উল্লেখ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের এই নায়েবে আমীর বর্তমান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা ও আকিদা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, হানাফি মাজহাবের বাইরের লোক বা ‘লা-মাযহাবী’ আকিদার কাউকে (লিংকনকে) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে বসানোয় দেশে বিভ্রান্তি ও অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সরকার ও ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান এবং হানাফি মাজহাবের অনুসারী কোনো যোগ্য আলেমকে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে উপহার দেওয়ার দাবি জানান।

আল্লামা আব্দুল হামিদ (মধুপুরী পীর সাহেব) আরো জানান, নবনিযুক্ত ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর পক্ষে বারবার তাঁর সাক্ষাৎ ও দাওয়াত নিয়ে একাধিকবার লোক পাঠানো হলেও তিনি এই সপ্তাহে কথা না বলে আগামী সপ্তাহে কথা বলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অনাকাক্ষ্মিত বিতর্ক ও বিভ্রান্তি এড়াতে তিনি (লিংকন) যেন অবিলম্বে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজের আকিদা ও অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি পরামর্শ দেন যে, (ধর্ম প্রতিমন্ত্রী) নিজে ‘হানাফী মাযহাবের অনুসারী এবং লা-মাযহাবী নন’ মর্মে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিলে সব বিভ্রান্তির নিরসন হবে এবং উদ্ভূত সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান ঘটবে। আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুত তাওহিদ কুফরি মতবাদ। ইসলামের জন্য দেশের জন্য এরা হুমকি। অবিলম্বে হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হেফাজতের আমীরের সাথে সাক্ষাৎ করতে বাবুনগরে গিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী আলেমদের ভালোবাসেন তার প্রমাণ দিতে হবে। দেশের অধিকাংশ আলেম-ওলামাগণের মতামত ছাড়া ধর্মীয় কোনো সিদ্ধান্ত নিবেন না। মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, আমরা বাতেলের মোকাবিলা করবো। তাকওয়ার বাউন্ডারি যদি থাকে তা’হলে কোনো বাতেল আমাদের সমাজে ঢুকতে পারবে না। তাকওয়া যদি কমতে থাকে তাহলে বাতেল সয়লাব হবে। তিনি হিজবুত তাওহিদকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, গত ৬ মাসে আপনারা কি দিয়েছেন, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছেন। মন্দিরে ট্রান্সজেন্ডারের বিবাহ হচ্ছে। কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, হক হক্কানিয়াতকে টিকিয়ে রাখার জন্যই আমাদের আন্দোলন। কেউ যদি বাতেলকে প্রশ্রয় দেয় তাহলে আমরা চুপ করে ঘরে বসে থাকতে পারি না। সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, ভণ্ড দেওয়ানবাগী, নাস্তিক তসলিমা নাসরিনসহ বাতেল ফেকরাকে আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে উৎখাত করেছি। মুসলমানের দেশে আরো যেসব বাতেল ফেকরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে ঈমানী শক্তি দিয়ে তাদের অপতৎপরতা রুখে দিতে হবে।

কনভেনশনে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদুদীর মতাদর্শের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন কওমি ঘরানার আলেম ও রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাঁরা বলেছেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা-বিশ্বাসের বিষয়ে কোনো আপস করা যাবে না। কওমি ঘরানার দলগুলোকেও এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

কনভেনশনে হেফাজতে ইসলাম ও দেওবন্দ ঘরানার বিভিন্ন আলেম বক্তব্য দেন। তাঁদের কয়েকজন কওমি অঙ্গনে জামায়াতের ‘অনুপ্রবেশ’ ঘটছে বলে অভিযোগ করেন। বক্তারা বলেন, কওমি অঙ্গনে জামায়াতের অনুপ্রবেশের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামপন্থি দলগুলোর কোনো ঐক্যও হতে পারবে না।