৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণে অডিট বাধ্যতামূলক-বাংলাদেশ ব্যাংক


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৬, ২০২৬, ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ /
৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণে অডিট বাধ্যতামূলক-বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংকিং খাতে বড় অংকের ঋণের নামে জালিয়াতি, অনিয়ম এবং অর্থ পাচার রোধে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো ব্যাংক ৫০ কোটি টাকা বা তার বেশি অংকের ঋণ বিতরণ করলে, সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে তৃতীয় পক্ষের বহিঃনিরীক্ষক (External Auditor) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাধ্যতামূলকভাবে অডিট করাতে হবে। এই অডিট প্রতিবেদন বা ‘ইউটিলাইজেশন রিপোর্ট’ সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে।

ব্যাংকিং পরিভাষায় ‘এন্ড ইউজ মনিটরিং’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হবে যে, ঋণের টাকা যে উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল সেখানেই ব্যয় হয়েছে কি না। অনেক ক্ষেত্রে এক খাতের নামে ঋণ নিয়ে তা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, জমি কেনা কিংবা ভুয়া ও বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করার অভিযোগ ওঠে। নতুন এই নীতিমালার ফলে এ ধরনের জালিয়াতি শনাক্ত করা সহজ হবে এবং বহিঃনিরীক্ষকের প্রতিবেদনে কোনো গরমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক হারে বাড়ার পেছনে বেনামি ঋণ এবং জামানতের অতিরিক্ত মূল্যায়ন প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। কিছু অসাধু পরিচালক ও ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজশে হওয়া এসব অনিয়ম ঠেকাতে ভারতের মতো উন্নত দেশগুলোর আদলে ফরেনসিক অডিটের আদলে এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হচ্ছে। এতে উভয় পক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বড় ঋণের অনিয়ম খুঁজে বের করতে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। বিশেষ করে ২০ কোটি টাকার ওপর বিতরণ করা ও পুনঃতফশিলকৃত ঋণের তথ্যাদি নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জনতা ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে পর্যাপ্ত জামানত ও ডাউনপেমেন্ট ছাড়াই বড় অংকের ঋণ পুনঃতফশিলের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতে এক দিকে রেকর্ড ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তারল্য জমে আছে, অন্যদিকে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ মোট ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই ভয়াবহ আর্থিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং ঋণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবহার পর্যায়ে এমন কড়া নজরদারির উদ্যোগ নিয়েছে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত বিস্তারিত সার্কুলার জারি করা হবে।