৯০০ কোটি ডলারের বিশাল ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা নিয়েছে জাপানী হোন্ডা কোম্পানী


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ /
৯০০ কোটি ডলারের বিশাল ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা নিয়েছে জাপানী হোন্ডা কোম্পানী

জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৯৪০ কোটি মার্কিন ডলার (১.৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন) খরচ কমানোর এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। অভ্যন্তরীণ নথি এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সরবরাহকারীদের যন্ত্রাংশের দাম আমূল কমানোর কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। মূলত বিশ্ববাজারে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং ইউরোপে চীনা ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান আধিপত্য মোকাবিলা করতেই জাপানি এই অটোমোবাইল জায়ান্ট এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে। 

রয়টার্স প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিওয়াইডি-র মতো চীনা কোম্পানিগুলো উন্নত সফটওয়্যার ও ব্যাটারি প্রযুক্তি এবং তুলনামূলক অনেক কম দামের কারণে দ্রুত বাজার দখল করে নিচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম মোটরসাইকেল উৎপাদক হোন্ডা বর্তমানে তাদের ধুঁকতে থাকা কার বা গাড়ি নির্মাণ ব্যবসা পুনর্গঠনের আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইভি সংশ্লিষ্ট খাতের ক্ষতির পরিমাণ শেষ পর্যন্ত ১২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক অটোমোবাইল ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে গ্যাসোলিন-ইলেক্ট্রিক হাইব্রিড গাড়ির ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করছে।

চলতি বছরের বসন্তে জাপানের উৎসুনিমিয়া শহরে অনুষ্ঠিত এক গোপনীয় বৈঠকে হোন্ডা কর্তৃপক্ষ তাদের প্রধান সরবরাহকারীদের তিনটি বিশেষ ক্ষেত্রে অন্তত ৩০ শতাংশ ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে। এই খাতগুলো হলো-প্রেসড ও ফোর্জড যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং সফটওয়্যার-চালিত যানবাহনের (এসডিভি) যন্ত্রাংশ। বৈঠকে হোন্ডার পক্ষ থেকে সরবরাহকারীদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উৎপাদনে এই বিশাল সাশ্রয় অপরিহার্য। এছাড়া খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চীনা উৎস থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ বাড়ানো এবং সাধারণ মানসম্মত যন্ত্রাংশ ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

ব্যয় হ্রাসের এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শিল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংশয় থাকলেও হোন্ডার কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে “বিলম্ব করার কোনো সুযোগ নেই।” এদিকে, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে নিশান মোটরসের সঙ্গে যৌথভাবে সফটওয়্যার-চালিত যানবাহনের কন্ট্রোল ইউনিট তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে হোন্ডা, যা ২০২৯ সাল নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বুধবার এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর জাপানি শেয়ারবাজারে হোন্ডার শেয়ারের দর ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। চীনা প্রতিযোগিতার পাশাপাশি মার্কিন আমদানি শুল্কের হুমকি এবং ক্রমবর্ধমান শ্রম ব্যয়ও প্রতিষ্ঠানটিকে এমন কঠোর ব্যয় সংকোচনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।