রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মানুষের অভাব নেইঃ মাহমুদুর রহমান মান্না


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ /
রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মানুষের অভাব নেইঃ মাহমুদুর রহমান মান্না

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মানুষের অভাব নেই, কিন্তু নীতি ও আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো প্রজ্ঞাবান মানুষের বড় অভাব।

তিনি বলেন, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার ছিলেন তেমনই একজন বিরল রাজনীতিবিদ, যিনি ক্ষমতার ভেতরে থেকেও বিনয়ী থাকতে জেনেছেন এবং দলকে সুসংগঠিত রাখতে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। নব্বইয়ের আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ও প্রতিপক্ষের প্রতি তাঁর সৌজন্যবোধ আজকের রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জামালপুর সমিতি, ঢাকার আয়োজনে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে “সালাম তালুকদার: নেতা ও মানুষ” শিরোনামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মরহুমের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, জামালপুর ৪ থেকে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ সদস্য ও জামালপুর জেলা বিএনপির তিন বারের সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম।

প্রধান আলোচক ছিলেন সমিতির মহাসচিব ও ক্যান্সার প্রতিরোধ আন্দোলনের পথিকৃৎ অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

প্রধান আলোচক অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনে বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য সহযোদ্ধা ছিলেন তিনি। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ডা. রাসকিন বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর গৃহবধূ বেগম খালেদা জিয়া চেয়ারপার্সন হিসেবে বিএনপির হাল ধরার পর স্বৈরাচারী এরশাদের নানা প্রলোভনে যখন দলের বড় নেতারা তাঁকে ছেড়ে যাচ্ছিলো, তখন সবচেয়ে যোগ্য ও আস্থাভাজন বিবেচনায় তিনি ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। এই আস্থার মর্যাদা তিনি রেখেছেন। তাঁর গভীর দেশপ্রেম, প্রশ্নাতীত সততা, উন্নত শিক্ষা ও মননশীলতা, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ তাঁকে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে জনমনে আলাদা অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছে।

ডা. রাসকিন গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে নিজের চিকিৎসক হওয়া ও অর্থবিত্তের পিছনে না ছুটে ক্যান্সার প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের সংগঠক হওয়া ও ঢাকা ও দিনাজপুরে অলাভজনক সেবামূলক ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগে শামিল হওয়ার পিছনে চাচা সালাম তালুকদারের আগ্রহ ও অনুপ্রেরণার কথা স্মরণ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মরহুমের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, জামালপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামালপুর জেলা বিএনপির তিন বারের সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম বলেন, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার কেবল জামালপুর বা বিএনপির নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এ দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের অভিভাবক। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছে তিনি এক বটবৃক্ষের মতো ছিলেন, যার ছায়াতলে থেকে দেশপ্রেম ও রাজনীতির আসল পাঠ গ্রহণ করেছেন। ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায়ে থেকেও কীভাবে মাটির কাছাকাছি থাকা যায় এবং মানুষের মন জয় করা যায়, তা সালাম তালুকদার দেখিয়ে গেছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করেই আমি দেশ ও জনগণের কল্যাণে।নিয়োজিত করতে চাই।

সমিতির সহসভাপতি আফজাল খানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন সমিতির সহ-সভাপতি ও সাবেক মহাসচিব মো. নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবি মোঃ মুজিবুর রহমান, আবু বকর সিদ্দিক, হাসিনুর রহমান চৌধুরী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হাসানুজ্জাম শিবলী, মেজর (অবঃ) আব্দুর রব ও ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম। সঞ্চালনায় সমিতির যুগ্মমহাসচিব হুমায়ুন কবীর আকন্দ। সবশেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।