

অংশীদার
হাসি আনন্দটা সবার,
বেদনা কেন যার যার?
সকল আনন্দ উৎসবে
উপেক্ষা ক’রে সবে-
তাকে বহুদূরে রাখো
সে কষ্ট পাবে নাকো!
সে নির্লজ্জের মত
হবে না অনাহুত!
সবকিছু বুকে চেপে,
পথ চলবে মেপে!
একদা কোনো পথচারী
যদি গল্পচ্ছলে কারোরই-
দুঃখের বার্তা আনে
তড়িৎবেগে সেখানে
সহমর্মিতা জানাতে
উর্ধশ্বাসে যাবে ছুটে!
কিছু না পারলে দিতে
খুবই বেদনাহত চিতে-
বইয়ে দেবে অশ্রুধারা
কী বা দেবে সে এছাড়া?
হাসি আনন্দের ক্ষণে,
নাওনি গো তাকে সনে ৷
দুঃখ কষ্টে সঙ্গী হলে-
তিরস্কৃত হবেনা, ঘৃণ্য ব’লে!
আনন্দে না করলে অংশীদার,
অপরের দুঃখ-বেদনা যে তার!
**************
অকবি
সেদিন থেকে ভাবি কবিতার মানক্ষুন্ন হয়ে গেছে,
যেদিন থেকে আমি তা লিখি! কারণ আমার মত
নগন্য কবিতা লিখবে? কখ্খনো ভাবিনি, এখনো না।
আমার কলমের ডগা দিয়ে যা আঁচড় কাটে
ও গুলো কী সত্যিই কবিতা নাকী আবর্জনা?
যার সামনে আআসমান শূন্যতা তখন তার মুখ দিয়ে
গল্গল করে কথা বের হবেই আমার বেলায়ও তেমন ৷
আমরা কবিতায় কাব্যিকতা খুঁজি প্রাসঙ্গিকতা, আধুনিকতা,-
ছান্দিকতা, রূপকতা, গভীরতা উপমা, শৈল্পিকতা, ব্যাকরণ।
কষ্টের কী আধুনিকতা আছে? না আছে শৈল্পিকতা?
নাকী আহাজারি করতে কোনো ভঙ্গিমা জানা লাগে?
অনেক হারিয়েছি এখন প্রকাশের ভঙ্গিমা খুঁজে বেড়াই!
************
অকর্মার ঢেঁকি
কবিতা এক লিখলাম, “কালো কাপড়ের ঝাঁঝ,
কবি গুরু’র উদাহরণ দিলো, পাঠক প’ড়ে আজ।
আনন্দের স্রোতে আমি ভাসিয়ে দিয়ে মন-
কবি হওয়ার স্বপ্ন দেখার করি আস্ফালন!
আমি গাঁয়ের ছেলে, মোর কাদা-জলে বসবাস,
কবিতা লিখে দিলাম তাতে শিশিরধোয়া ঘাস।
বনের মায়াবী লতা-পাতা দিলাম একটু এনে,
পল্লী কবি’র মতো আমায় নিলো সবাই মেনে!
এবার দিলাম শেওলা-ঘাসফুল মাছরাঙাদের কথা
পাঠ ক’রে বলল সবে এযে রূপসীবাংলার কবিতা!
এবার দিলাম ক্ষুধিতের দাবি আর দ্রোহের আগুন,
বললো “সুকান্ত ভট্টাচার্য’র মতো লেখায় আছে গুণ।”
আরও একদিন দিলাম একটু ছন্দে-বন্দে তত্ব,
বললো সবাই, “বাহ বা! এযে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত!”
“গড়াগড়ি” লিখলাম যেই সবার বড্ড হাসি পেলো!
বললো সবাই “বঙ্গে কী আবার সুকুমার রায় এলো?”
শোষকের প্রাচীর ভাংতে ধমনীতে রক্ত উঠলো দুলে,
বললো পাঠক “সে কী আবার ফিরলো বাবরি চুলে?
আজও জানি না, নিজের লেখা ভালো না কী মন্দ,
নিরবে শুধু লিখেই যাই, কাটে না তো মনের দ্বন্ধ!
মন্তব্যগুলো সত্যি না আবেগ, ভাবিও না একচুল,
প্রশংসা নয়, কৃতিত্ব-যদি কেউ ধরিয়ে দেয় ভুল।
কখনও ভাবি এসব আমায়, বলার জন্যই বলা,
কী-ই বা এমন আমার ভেতর আছে কাব্যকলা?
লেখার জন্যই লিখি শুধু, কবি হতে তো নয়,
বুঝাতে কিছু আত্মকথা, জানাতে জগৎ বিচিত্রময়!
যদিও আমি বাগিচায় ফোটা পারিজাত ফুল নই,
নগণ্য, বৃথা শুধু আলো-বাতাস দখল ক’রে রই।
আমাতে দেখো কবিদের ছবি, আমি আসলে মেকি!
জোড়াতালি দিয়ে লিখি কবিতা, অকর্মার ঢেঁকি!
**********
অকাট্য উক্তি
আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করলেন সাধের দুনিয়াতে,
মহৎ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য লুকায়িত তাতে।
মানুষ তাঁর বন্দেগী করে পাবে আনুকূল্য,
আনুকূল্য লাভের মাঝে হবে মহামূল্য।
রবে’র খুশিতে মিলবে বান্দার পরলৌকিক মুক্তি,
মহামহিম আল্লাহর এটাই অকাট্য উক্তি।
সব নেয়ামত ভোগ করে ফাঁকি দিয়ে তাঁর দাবি,
করছি নিজের বন্দেগী, তা একটুও কী ভাবি?
পরনিন্দা, পরচর্চা, হিংসা লোভ, সমালোচনা,
প্রতিহিংসা, পরশ্রীকাতর, কামনা বাসনা ।
অহংকার, দাম্ভিকতা, আমিত্ম, মিথ্যা বৈভব,
আত্মতুষ্টিসাধন; নিজের বন্দেগী এগুলো সব।
বিশেষ করে কেউ দুর্দশায় থাকলে তাহার প্রতি,
করুণা করা; না দেখিয়ে সহানুভূতি।
আর শান্তিতে থাকলে তা সহ্য করতে না পারা,
প্রভুর ক্ষতি নেই, নিজের ক্ষতিকর চিন্তাধারা।
এসব কর্ম ও মনোভাব যার ভেতর বিদ্যমান,
আল্লাহ নয়, তার ভেতরে বসবাস করে শয়তান।
সরাসরি শয়তান তাকে করে পরিচালনা,
নাজাতে দরকার ক্ষমা আত্মসমালোচনা।
আপনার মতামত লিখুন :