অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে ‘দুর্যোগ পরিস্থিতি’ ঘোষণা রাষ্ট্রের


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ /
অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে ‘দুর্যোগ পরিস্থিতি’ ঘোষণা রাষ্ট্রের

ভয়াবহ দাবানলে অস্ট্রেলিয়ায় ‘দুর্যোগ পরিস্থিতি’ ঘোষণা- ছবি সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের কারণে ভিক্টোরিয়ায় ‘দুর্যোগ পরিস্থিতি’ ঘোষণা করা হয়েছে; শতাধিক বনাঞ্চল পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি শহরে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে।অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে ঘরবাড়ি ধ্বংস ও বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পুড়ে যাওয়ার পর শনিবার দেশটিতে ‘দুর্যোগ পরিস্থিতি’ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

চলতি সপ্তাহে ভিক্টোরিয়া রাজ্যজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গরম ও শুষ্ক বাতাস আগুনকে আরো উসকে দেয়, যা ২০১৯-২০২০ সালের ভয়াবহ ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলের পর সবচেয়ে বিপজ্জনক ‘অগ্নি-পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করেছে।

সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক দাবানলগুলোর একটি লংউড এলাকার কাছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর (৩ লাখ ৭০ হাজার একর) বনভূমি গ্রাস করেছে। এলাকাটি মূলত প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে ঢাকা। দমকল বাহিনী ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শুরু করেছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, মেলবোর্নের উত্তরে অবস্থিত ছোট শহর রাফিতে অন্তত ২০টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।

ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার জাসিন্টা অ্যালান শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দুর্যোগ পরিস্থিতি’ ঘোষণা করেন, যার ফলে দমকল বাহিনী জোরপূর্বক লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার বিশেষ ক্ষমতা পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এটার মূল লক্ষ্য একটাই, আর তা হলো ভিক্টোরিয়ার মানুষের জীবনকে রক্ষা করা এবং বার্তাটা খুবই স্পষ্ট- ‘যদি আপনাকে এলাকা ছাড়তে বলা হয়, তাহলে সাথে সাথে চলে যান’।রাজ্যের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আগুনের একটি অঞ্চলে একটি শিশুসহ তিনজন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রিমিয়ার অ্যালান বলেন, ‘আমি মানুষের উদ্বেগ বুঝতে পারছি।’ শনিবার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও এখনো ৩০টির বেশি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলগুলো তুলনামূলকভাবে কম জনবসতিপূর্ণ গ্রামীণ এলাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে, যেখানে অনেক শহরের জনসংখ্যা মাত্র কয়েক শ’।

চলতি সপ্তাহে তোলা ছবিতে দেখা যায়, লংউডের কাছে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় রাতের আকাশ কমলা আলোয় ভরে উঠেছে। গবাদিপশু খামারি স্কট পারসেল বলেন, ‘চারদিকে আগুনের ফুলকি উড়ছিল। এটা ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।’ আরেকটি দাবানল ওয়ালওয়া শহরের কাছে এতটাই তাপ বিকিরণ করে যে সেখানে ‘স্থানীয় বজ্রঝড়’ তৈরি হয় বলে জানিয়েছে দমকল কর্তৃপক্ষ।

অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য থেকে শত শত দমকল কর্মী ভিক্টোরিয়ায় এসে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দিয়েছেন। এ সপ্তাহের তীব্র তাপপ্রবাহে দেশের লাখ লাখ মানুষ ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়েছে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় অসহনীয় গরমে শত শত বাদুড়ের বাচ্চা মারা গেছে বলে স্থানীয় একটি বন্যপ্রাণী সংগঠন জানিয়েছে।

২০১৯ সালের শেষ থেকে ২০২০ সালের শুরুর দিকে ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলে অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলে কয়েক কোটি হেক্টর জমি পুড়ে যায়, হাজার হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয় এবং শহরগুলো বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

গবেষকদের তথ্যমতে, ১৯১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ১ দশমিক ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর ফলে স্থল ও সমুদ্রে ভয়াবহ আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে, বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী দুই প্রধান জীবাশ্ম জ্বালানি, গ্যাস ও কয়লার অন্যতম বৃহৎ উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ হিসেবেই অস্ট্রেলিয়া এখনো অবস্থান করছে।

সূত্র : বাসস