আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিল সরকার


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫, ৮:১৮ পূর্বাহ্ণ /
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিল সরকার

রাজধানীসহ সারাদেশে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধের লাগাম টানতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি র‌্যাব-পুলিশের টহল কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে গত সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে কোর কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্তগুলো গ্রহীত হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেনাবাহিনী, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, বিজিবি সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথবাহিনী গঠন করে টার্গেট এলাকায় জোরদার অপারেশন পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তল্লাশি চৌকি এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় টহল সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

সভায় অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বক্স চৌধুরীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় নেওয়া আরও সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে- রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নৌবাহিনীর একটি অতিরিক্ত পেট্রোল এবং কিছু এলাকায় কোস্টগার্ডের একটি অতিরিক্ত পেট্রোল নিয়োজিত থাকবে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটপ্রধান, উপ-পুলিশ কমিশনার, সেনাবাহিনীর মাঠে নিয়োজিত ব্রিগেড প্রধান ও অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে সময়ে সময়ে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করবেন। এ ছাড়া ডিএমপির পুলিশ সদস্য, বিজিবি, আনসার ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যদের জন্য মোটরসাইকেল ক্রয় করার সিদ্ধান্তও হয়েছে, যাতে করে তাৎক্ষণিকভাবে অলিগলিতে টহল দিয়ে অপরাধীদের পাকড়াও করা যায়।

কোর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা শহরের বাইরে, বিশেষ করে টঙ্গি, বছিলা, কেরানীগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জ এলাকায়ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়ানো হবে। ৫০০ এপিবিএন সদস্য ডিএমপিতে ন্যস্ত হয়ে পুলিশের সঙ্গে কাজ করবে। এ ছাড়া থানাভিত্তিক সন্ত্রাসীদের হালনাগাদ তালিকা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আইনের আওতায় আনতে ত্বরিত পদক্ষেপ নেবে। আর মিথ্যা, গুজব ও প্রোপাগান্ডার বিপরীতে সত্য তথ্যগুলো প্রচারে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণেরও সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে কোর কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে যৌথ বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব-পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। জোরদার করা হয়েছে টহল কার্যক্রম। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন তদারকি করতে গতকাল মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বক্স চৌধুরী পুলিশ সদর দপ্তরে স্থাপিত বিশেষ কমান্ড সেন্টার পরিদর্শন করেন। তিনি সেখানকার কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন এবং দিকনির্দেশনা দেন।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা বিধান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ঢাকা মহানগর এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ (ডিএমপি) অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সমন্বিত চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ও অন্যান্য অপরাধে ১ হাজার ৬৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে অপারেশন ডেভিল হান্টে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬৩৯ জন। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর এ তথ্য জানান।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, গত সোমবার রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির ৫০টি থানা এলাকায় জননিরাপত্তা বিধানে ২৫০টি টহল টিম দায়িত্ব পালন করে। এ ছাড়া মহানগর এলাকার নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থানে ডিএমপির ৫৪টি পুলিশি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির টহল টিমের পাশাপাশি মহানগরীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে সিটিটিসির সাতটি, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) চারটি এবং র? র‍্যাবের ১০টি টহল টিম দায়িত্ব পালন করে। এ ছাড়াও ডিএমপির চেকপোস্টের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট এপিবিএন ৩১টি চেকপোস্ট পরিচালনা করে। বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও মাদক জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ৫৯টি মামলা রুজু করা হয়।

গতকাল র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে কতিপয় দুষ্কৃতকারী ও স্বার্থান্বেষী মহল হামলা ও নাশকতার মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী ও পরিকল্পনাকারী, চুরি, ছিনতাইকারী, ডাকাত ও অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে দেশব্যাপী র‌্যাবের রোবাস্ট পেট্রোল ও চেকপোস্ট স্থাপনসহ আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকায় র‌্যাবের ৬৯টি টহল, ঢাকার বাইরে ১৪৯টি টহলসহ সারাদেশে মোট ২১৮টি টহল মোতায়েন এবং সাদা পোশাকে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে র‌্যাবের সহযোগিতা পেতে ০১৭৭৭-৭২০০২৯ নম্বরে জানানোর জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে।