

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকে স্বৈরাচার ও গুপ্ত এক হয়েছে। যারা গুপ্ত ও স্বৈরাচারী রাজনীতি করে তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এদেশ ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে জনগণ স্বাধীন করেছে। গণতন্ত্র রক্ষা দেশের মানুষ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জেগে উঠেছিল। গত ১৭ বছর দেশে কোন গণতন্ত্র ছিল না। যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে। আজকে সময় হয়েছে কাজ করে প্রমাণ করার বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকাল ৫ টায় ফুলগাজী পাইলট হাইস্কুল মাঠে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের হাতে সম্মানী তুলে দেয়ার সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের মানুষ ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। মানুষ যখন সচ্ছল হবে দেশ স্বাবলম্বী হবে। এদেশের কিছু মানুষ বলে এক দফা, এক দাবী। যারা এক দফা বলছে, স্বৈরাচার যখন মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল তখন তারা কোথায় ছিল। তখনতো তাদের কোন কর্মসূচি ছিল না। যারা অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা করে তাদের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। একটি দল নির্বাচনের আগে বেহেশত ও দোজখের টিকেট বিক্রি করেছে। তা কোন মানুষ বিক্রি করতে পারে না। বেহেশত, দোজখের মালিক আল্লাহ। যারা এমন কথা বলে তারা শিরককারী।
স্বৈরাচার যখন কণ্ঠরোধ ও ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, সেদিন ৫ আগস্ট মানুষ বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে পালাতে বাধ্য করে।
তারেক রহমান বলেন, গুপ্ত বাহিনীর লোক বলে ফ্যাসিবাদীরা দেশে আসলে আপত্তি নেই। তারাতো একসাথেই ছিল। গত ১৭ বছরধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা জেল, জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফুলগাজীতে ৫১০ জন মহিলার হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে ১ লাখের বেশি কৃষককে কৃষক কার্ড দেয়া হয়েছে। জনগন যাতে উপকৃত হয়, বিএনপি এমন কর্মসূচিই হাতে নেয়। জনকল্যাণমূলক এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে জনগণ উপকৃত হবে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপন করা হবে। যা এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিএনপি রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে ও রাজপথেই ছিল।
এর আগে পরশুরামে মুহুরী সেচ প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উদ্বোধন শেষ করে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকাল ৫ টার সময় মায়ের স্মৃতিবিজড়িত ফুলগাজী বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ ও ক্রিড়া সামগ্রী বিতরণ করেন। পরে কলেজ শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নারীদের উচ্চশিক্ষা ফ্রি করে দিয়েছেন। বিএনপি সরকার নারী শিক্ষা ও উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ কলেজের উন্নয়নে কলেজ কর্তৃপক্ষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডা: জাহিদ, সদর আসনের এমপি জয়নাল আবেদীন ভিপি, ফেনী ১ আসনের এমপি রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি রেহানা আক্তার রানু প্রমুখ।
আপনার মতামত লিখুন :