

ইয়েমেনে গত জুলাই মাস থেকে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর (UNHCR) জানিয়েছে, হুথি বিদ্রোহী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের ফলে এই শোচনীয় মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ (Taiz) শহরটি এই বাস্তুচ্যুতি সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মোট বাস্তুচ্যুতদের ৭৬ শতাংশই তাইজ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন এবং এদের ৫২ শতাংশকে এই অঞ্চলেই আশ্রয় নিতে হয়েছে। এছাড়া লাহিজে ২৩ শতাংশ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী আদেনে ১৩ শতাংশ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র ম্যাথিউ সল্টমার্শ জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আশ্রয়, খাদ্য এবং বহুমুখী আর্থিক সহায়তাই বর্তমানে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন। অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে প্রায় ৩৩ হাজার ৭০০ পরিবার এখনও যথাযথ আশ্রয়ের বাইরে রয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘের শিশু তহবিল (UNICEF) সতর্ক করে জানিয়েছে যে তাইজে তীব্র লড়াই ও জ্বালানি সংকটের কারণে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের সুপেয় পানির সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ১৬ লাখ শিশু রয়েছে। পানির সংকটপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত তাইজে এই নতুন সংকট লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সউদী সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের এই দ্বন্দ্বে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ নাগরিকদের ওপর। সূত্র: আল জাজিরা।
আপনার মতামত লিখুন :