

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন উস্কানির মুখে তেহরানের কঠোর অবস্থানের পর পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার (রণতরী)। এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রচার করে।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, হরমুজ প্রণালীর পূর্ব অংশে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো অবস্থান করছিল। আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সরাসরি সতর্কবার্তা দেওয়ার পর রণতরীগুলো সেখান থেকে সরে যেতে শুরু করে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা বৈঠক চলছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন ডেস্ট্রয়ারটি যখন দুবাইয়ের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালীর দিকে এগোচ্ছিল, তখন ইরানি সামরিক বাহিনী বিষয়টি তাদের ইসলামাবাদে অবস্থানরত প্রতিনিধি দলকে জানায়।
এরপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান মার্কিন পক্ষকে চূড়ান্ত সময়সীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দেয়। তেহরান সতর্ক করে বলে যে, জাহাজটি যদি অগ্রসর হওয়া বন্ধ না করে, তবে আগামী ৩০ মিনিটের মধ্যে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। একইসঙ্গে এই ধরনের উস্কানি চলমান শান্তি আলোচনাকে ভেস্তে দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের অনুমোদনহীন সামরিক অনুপ্রবেশ সহ্য করা হবে না। আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ড থেকে জানানো হয়েছে, “হরমুজ প্রণালীর ওপর আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। কোনো বিদেশি যুদ্ধজাহাজ অনুমতি ছাড়া এই জলসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না।”
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে যে তারা নিয়মিত ‘ফ্রিডম অফ নেভিগেশন’ কার্যক্রম চালাচ্ছিল, তবে ইরানের পক্ষ থেকে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অনড় অবস্থানের মুখে সংঘর্ষ এড়াতে মার্কিন বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আপনার মতামত লিখুন :