

থিওডোর রুজভেল্ট মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট । ছবিঃ সংগৃহীত
ইরানের আশেপাশে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দিকে তিনটি বিমানবাহী রণতরি ও দুটি মেরিন সেনা বহনকারী উভচর যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন হতে পারে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এই সামরিক সমাবেশ সম্পন্ন হওয়ার কথা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) আল জাজিরা ও তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু এ তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেছেন, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন রণতরি বহর এবং মেকিন আইল্যান্ড উভচর যুদ্ধজাহাজ বহর সান দিয়েগো ছেড়ে গেছে। মেকিন আইল্যান্ডের সাথে রয়েছে ২ হাজার মেরিন সেনা। আগামী নভেম্বরের মধ্যে পুরো সামরিক সমাবেশ শেষ হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারো হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছেন। এ পরিস্থিতিতে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি বহর ও অতিরিক্ত মেরিন সেনাবাহী জাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, নতুন করে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হতে পারে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, মেরিন সেনা ও নৌসদস্যদের নভেম্বরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা।
ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট গত রোববার নিয়মিত মোতায়েনের অংশ হিসেবে সান দিয়েগো ছেড়েছে। পরদিন সোমবার ১৩তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সেনাদের নিয়ে ইউএসএস মেকিন আইল্যান্ড উভচর যুদ্ধজাহাজ বহর যাত্রা শুরু করে।
এ অঞ্চলে এরই মধ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন অবস্থান করছে। রুজভেল্ট পৌঁছানোর পর জর্জ ওয়াশিংটন বহরও সেখানে যোগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যে একসাথে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি বহর মোতায়েন হবে। গত এপ্রিলের পর এই প্রথম এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের অবসান ঘটে।
নতুন সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকে অবস্থানরত ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনার সাথে যুক্ত হবে। তবে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন জাপানে নিজ ঘাঁটিতে ফিরে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ওই অঞ্চলে দুটি রণতরি বহর থাকবে।
ইরানের সর্বশেষ সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত টাইম সাময়িকীকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, কোনো সমঝোতা না হলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারো হামলা চালাতে পারেন।
ইরানের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়া এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলা হয়েছিল। এর বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট এবং সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের মোতায়েনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন। অবরোধ কার্যকর রাখা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তার জন্য ওই অঞ্চলে প্রায় ২০টি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন রয়েছে।
তবে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর এই উদ্যোগের সময় মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজের রসদসংকট ও দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের চাপের মুখে রয়েছে। সম্প্রতি ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এদিকে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নৌসদস্যদের দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকার জন্য প্রস্তুত করেছেন নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
আপনার মতামত লিখুন :