ইরানের প্রচণ্ড প্রতিশোধে, ইসরায়েল-মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোয় অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : মার্চ ১৪, ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ /
ইরানের প্রচণ্ড প্রতিশোধে, ইসরায়েল-মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোয় অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

ইরানের প্রচণ্ড প্রতিশোধমূলক ঝড়: ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা।

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ১৪তম দিনে (১৪ মার্চ ২০২৬) পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান অব্যাহতভাবে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে—ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা (যেমন গ্যালিলি, নেগেভ, জারজির, শোহাম) এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (যেমন খোররমশাহর-৪) ও ড্রোন ছুড়ছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও আইআরজিসি দাবি করেছে যে, তারা ইসরায়েলের পালমাচিম, ওভদা বিমানঘাঁটি, শিন বেত সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। একইসঙ্গে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে—সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস (যেখানে ৫টি ইউএস কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত), কুয়েত, বাহরাইন, কাতারের আল-উদেইদ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা, জর্ডান, ইরাকসহ অন্যান্য স্থানে—হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের নতুন নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন ঘাঁটি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানও তীব্রতর হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে সামরিক লক্ষ্যবস্তু “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করা হয়েছে এবং দ্বীপের তেল অবকাঠামো পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে শত শত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে তেহরানে ব্যাপক বিস্ফোরণ ও কেন্দ্রীয় এলাকায় আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ৬,০০০-এরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

ইরানের প্রতিশোধে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির, বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। হিজবুল্লাহসহ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন ছুড়ছে। গাল্ফ দেশগুলোতে ইরানি হামলা অব্যাহত থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আটকে দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধের এই ধাপে উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে—ইরানে হাজার হাজার নিহত-আহত, ইসরায়েলে শতাধিক আহত ও বেসামরিক ক্ষতি, মার্কিন বাহিনীতে কয়েক ডজন হতাহত।