ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেন মোজতবা খামেনি


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : মার্চ ৯, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ /
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেন মোজতবা খামেনি

মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনিকে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই ঐতিহাসিক খবরটি নিশ্চিত করে। দেশটির শক্তিশালী নীতিনির্ধারণী সংস্থা ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ এক বিশেষ অধিবেশনে মোজতবাকে এই শীর্ষ পদের জন্য নির্বাচিত করে। উল্লেখ্য, ইরানের সংবিধান অনুযায়ী এই পরিষদই সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষমতা রাখে।

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর এটি দেশটির নেতৃত্বে দ্বিতীয় বড় ধরণের পরিবর্তন। এর আগে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির প্রয়াণের পর আলী খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।

দীর্ঘ তিন দশক পর পিতার মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে মোজতবা খামেনির এই অভিষেক ইরানের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি দীর্ঘ দিন ধরে পর্দার আড়ালে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

পেশাগত জীবনে মোজতবা খামেনির কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদ না থাকলেও দেশটির সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর ওপর তাঁর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষ করে ইরানের এলিট ফোর্স ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ (আইআরজিসি) এবং ‘বাসিজ’ বাহিনীর সাথে তাঁর অত্যন্ত নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মোজতবা খামেনির প্রতি তাঁদের পূর্ণ আনুগত্য ঘোষণা করেছে। তবে মোজতবার এই নিয়োগ নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে, কারণ তিনি কোনো প্রথাগত উচ্চপদস্থ ধর্মীয় নেতা না হওয়া সত্ত্বেও সর্বোচ্চ পদের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

মোজতবা খামেনির ওপর আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়টিও বেশ আলোচিত। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, মোজতবা তাঁর বাবার আঞ্চলিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে আইআরজিসি-কুদস ফোর্স ও বাসিজ বাহিনীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন এই সংকটময় পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব ইরানকে কোন পথে নিয়ে যায়, সেটিই এখন বিশ্ববাসীর কাছে বড় কৌতূহলের বিষয়। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তাঁর নির্দেশে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা সংঘাতকে আরও ঘনীভূত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।