

টানা দুই বছর নিম্নমুখী থাকার পর দেশের চা উৎপাদনে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস মিলেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩ কোটি ৬ লাখ ৩১ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেশি। জানুয়ারি-জুন সময়ে এটিই দেশের চা উৎপাদনের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ছয় মাসে উৎপাদন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ২৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত বছরের জুন পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছিল ২ কোটি ২৪ লাখ ১৯ হাজার কেজি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগাম বৃষ্টিপাত, অনুকূল আবহাওয়া এবং শ্রমিক অসন্তোষ কম থাকায় দেশের ১৭০টি চা বাগানে উৎপাদনে ইতিবাচক ধারা ফিরেছে। বিশেষ করে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত উৎপাদন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
চা বোর্ডের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ৫ লাখ ৭৩ হাজার, ফেব্রুয়ারিতে ২৪ হাজার, মার্চে ২৫ লাখ ৫৮ হাজার, এপ্রিলে ৫৯ লাখ ১৮ হাজার, মে মাসে ৯১ লাখ ৫৩ হাজার এবং জুনে ১ কোটি ২৪ লাখ ৫ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় মার্চে ১২ লাখ ২৩ হাজার, এপ্রিলে ৩৬ লাখ ৪৬ হাজার, মে মাসে ৫ লাখ ৫ হাজার এবং জুনে ২৫ লাখ ৮০ হাজার কেজি বেশি চা উৎপাদিত হয়েছে।
চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ এসপিপি বলেন, উৎপাদন ও চায়ের মান বাড়াতে বাগানগুলোতে সর্বোচ্চ মনিটরিং করা হচ্ছে। চায়ের ন্যূনতম দাম নির্ধারণের পর বাগান মালিকরাও চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। উত্তরবঙ্গের বাগানগুলোর জন্য নগদে চা পাতা বিক্রিসহ বিভিন্ন খাতে ফান্ড গঠন এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফল মিলছে। চা উৎপাদনের মৌসুম বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত উৎপাদন সাধারণত কম থাকে। এ পাঁচ মাসে মোট লক্ষ্যমাত্রার ১০ থেকে ১২ শতাংশ চা উৎপাদিত হয়। জুন থেকে নভেম্বর ভরা মৌসুমে মোট উৎপাদনের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আসে। ফলে প্রথম ছয় মাসে উৎপাদন ৩ কোটি কেজি ছাড়ানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১০ কোটি ২০ লাখ কেজি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রেকর্ড ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়। এরপর ২০২৪ সালে ১০ কোটি ৮০ লাখ কেজির বিপরীতে উৎপাদন হয় ৯ কোটি ৩০ লাখ ৪২ হাজার কেজি। ২০২৫ সালে ১০ কোটি ৩০ লাখ কেজি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয় ৯ কোটি ৪৯ লাখ ২৭ হাজার কেজি।
বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। প্রথম ছয় মাসের ধারা অব্যাহত থাকলে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুধু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নয়, চায়ের মান ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি।
আপনার মতামত লিখুন :