

চীন বাংলাদেশের পরিক্ষিত বন্ধু এবং অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরকালে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণের যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা দু’দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভাবনাময়। এ করিডোর বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের সাথে চীনের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হবে। দেশের অর্থনীতিতে এটি হবে উন্নয়নের একটি মাইল ফলক। দুই দেশের ব্যবসায়ীরা সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। আমদানি-রফতানি কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। চীনে আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করেন, চীনের শিক্ষার্থীরাও এদেশে পড়তে আসেন। চীনের সাথে আমাদের যে বন্ধুত্ব তার বন্ধন আরো অটুট হবে।
রাজনীতি বিজ্ঞানের একজন ছাত্র হিসাবে আমি মনে করি চীন কখনো আধিপত্যবাদি এবং সম্প্রসারণবাদি মনোভাব পোষণ করে না। তারা নিজেদের উন্নয়ন এবং প্রতিবেশীদের উন্নয়নে মনোযোগী। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তাদের হস্তক্ষেপ করার নজির নেই। উদীয়মান শক্তি হিসাবে চীনের উত্থান সময়ের বাস্তবতা। প্রতিবেশি দেশ ছাড়াও বিশ্বের অনেক দেশের উন্নয়নে চীনের অগ্রণি ভূমিকা রয়েছে। চীনের করিডোর প্রস্তাব আমাদের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। যতদূর মনে পড়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও প্রথম চীন সফর করেছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নীতিই ছিলো পূর্বমুখি নীতি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ওই নীতিতে চীনের সাথে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তার সরকারের সময়ে চীন বাংলাদেশের উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয়তাবাদী দলের সেই আদর্শ ধারণ করেই চীনের সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করছেন। এটা অত্যন্ত প্রসংশনীয়। চীনের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
উন্নয়ন সহযোগী চীনের সাথে এ করিডোর ভূরাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিবেশীসহ সব দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার নীতিতে বিশ্বাস করে। চীন আমাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। তাদের এ প্রস্তাব আমাদের অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
আপনার মতামত লিখুন :