

কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে অস্থিরতা ও কম দামের প্রেক্ষাপটে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তজুড়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকেও টহল জোরদার করা হয়েছে।
শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান। তিনি জানান, সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোরবানির পর যতদিন চামড়া পাচারের ঝুঁকি থাকবে, ততদিন বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু থাকবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকার চলতি বছর গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়ালেও বাস্তবে সেই সুফল পাচ্ছেন না প্রান্তিক ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় প্রতিটি গরুর চামড়ায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কম দাম মিলছে।
এদিকে ছাগলের চামড়ার বাজারেও ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা। ঈদুল আজহার দিন শুক্রবার বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া নিয়ে বাজারে এলেও প্রত্যাশিত ক্রেতা পাচ্ছেন না। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।
কিছু বিক্রেতার ভাষ্য, দেশের বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেকে বেশি লাভের আশায় চোরাকারবারিদের কাছে চামড়া বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ কারণেই সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের ঝুঁকি বেড়েছে।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর কোরবানির মৌসুমে ভারতীয় বাজারে গরুর চামড়ার চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় পাচারের প্রবণতা দেখা যায়। তবে চলতি বছর যাতে কোনোভাবেই চামড়া পাচার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক তাপস কুমার আঢ্য বলেন, চামড়া পাচার প্রতিরোধে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে। সীমান্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :