

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী নাটকীয় রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের নেপথ্য নিয়ে ভারতে প্রকাশিত আলোচিত বই “দ্য স্টোরি অব অ্যান আনফিনিশড রেভলিউশন”-এ উঠে এসেছে বহু অজানা তথ্য।
বইটিতে বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট গণভবনের ভেতরে যে টানটান উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল,তা শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
সম্প্রতি “দ্য স্টোরি অব অ্যান আনফিনিশড রেভলিউশন” বইটি প্রকাশের পরই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা—আসলেই কী ঘটেছিল সেই দিন গণভবনে।
বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, ৫ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে ভারত থেকে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ এক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ফোন করে সরাসরি সতর্ক করেন। এখনই গণভবন ছাড়ুন,না হলে বাঁচবেন না। একই সময় সেনাপ্রধান গণভবনে বার্তা পাঠান যে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার বিশাল মিছিল অপ্রতিরোধ্য গতিতে রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসছে। এই মুহূর্তটিকে লেখক রাজনৈতিক থ্রিলারের মতো একটি মোড় ঘোরানোর ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এর আগের দিন, ৪ আগস্ট বিকেলে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে সতর্ক করতে গণভবনে বৈঠকে উপস্থিত হন তিন বাহিনীর প্রধান, ক্যাবিনেট সচিব এবং পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা সবাই মিলেই ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেন। তবে হাসিনা তখনও দৃঢ়,আন্দোলন দমন করতে। সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে পুলিশের মতো কঠোর হতে বলেন।
কিন্তু রাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে থাকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রদের নিহত হওয়ার খবর, পুলিশের সদস্য হারানোর ঘটনা এবং রাস্তায় লাখো মানুষের ঢলের বিবরণ গণভবনের ভেতরে ভয় ও অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি করে। আরও উদ্বেগজনক ছিল সেনা সদস্যদের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সেলফি তোলার মতো দৃশ্য,যা নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
বইটির দাবি, এনএসআই প্রধান তখন স্পষ্ট জানিয়ে দেন—দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে। সেনাপ্রধানও জানিয়ে দেন যে সেনাবাহিনী ছাত্রদের ওপর গুলি চালাতে প্রস্তুত নয়, কারণ আন্দোলনকারীদের মধ্যে সেনা ও পুলিশের পরিবারের সদস্যও রয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, কঠোর দমনপীড়নের চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর মধ্যেই বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে।
৪ আগস্ট রাতে, দীর্ঘ বৈঠক ও সতর্ক সংকেতের পর সবাই গণভবন ছাড়লেও হাসিনা ও তার বোন রেহানা শেষ চেষ্টা করেন পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায় মোকাবিলা করার।
কিন্তু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির খবর, বিরামহীন ফোনকল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়ার বর্ণনা রাতটিকে আরও ভারী করে তোলে। বইয়ের ভাষায়। সেই রাত ছিল গণভবনে তার শেষ রাত, যদিও তিনি তখনও তা জানতেন না।
আপনার মতামত লিখুন :