

জেলা পরিষদের কোনো কাজের মাধ্যমে সরকার ও দল যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে দ্রুত নির্বাচনের আভাস দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দেশের ৪২ জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে প্রশাসকদের নানা দিকনির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান। বৈঠক শেষে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ওবায়দুল হক নাসির সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকারকে গতিশীল এবং শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে সাধারণ মানুষ স্থানীয় সরকারের সুফল পায়। ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা শতভাগ নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করবেন। বিগত সময়ে এই প্রতিষ্ঠানের অনেক বদনাম ছিল। আপনারা এমন কোনো কাজ করবেন না, যাতে দল এবং সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। এই দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে আপনাদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আপনারা নিজেদের পারফরম্যান্স দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন। জনগণের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করবেন কল্যাণমূলক কাজ দিয়ে।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক প্রশাসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধানমন্ত্রী জেলা পরিষদকে স্থানীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে কার্যকর করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে অতীতে প্রতিষ্ঠানটি ‘নির্জীব ও নিষ্ক্রিয়’ ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, প্রশাসকদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই দায়িত্ব দীর্ঘমেয়াদি নয়, শিগগির নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রশাসক জানান, বাজেট বাড়ানোর দাবি তোলা হলেও বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। সীমিত বাজেটের মধ্যেই সর্বোচ্চ কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। তবে সরকার এখনো দাম সমন্বয় করেনি এ বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠকে বলেন, নতুন প্রশাসকদের মাধ্যমে জেলা পরিষদের কার্যক্রমে গতি আনার লক্ষ্য নিয়েই এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের জন্য সম্মানজনক পদমর্যাদা নির্ধারণের দাবিও বৈঠকে উত্থাপিত হয়। তবে এ বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানানো হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
গাড়ি থামিয়ে বঞ্চিত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী : সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গাড়ি থামিয়ে পদোন্নতিবঞ্চিত বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল দুপুর ৩টার দিকে সচিবালয় থেকে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার সময় গাড়ি থেকে নেমে পদোন্নতিবঞ্চিত বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে।
দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে নিজ কার্যালয় থেকে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে যাত্রা শুরুর পর ৫ নম্বর ফটকের সামনে হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে থাকা একদল চিকিৎসকের দিকে এগিয়ে যান। গাড়ি থেকে নেমে তিনি সরাসরি পদোন্নতিবঞ্চিত বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রতিনিধিদের দিকে যান এবং তাদের বক্তব্য শোনেন।
চিকিৎসকদের পক্ষে ডা. বর্ণালী দীর্ঘদিনের পদোন্নতি বঞ্চনা, এসবি (ঝই) রিপোর্টের জটিলতা এবং কর্মজীবনে স্থবিরতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
সবকিছু শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখওয়াত হোসেনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, তাঁর পক্ষ থেকে কিছু করার থাকলে দেখবেন। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ এক হাজার ৮২১ জন চিকিৎসক তাদের দাবি তুলে ধরতে এদিন সচিবালয়ে জড়ো হন। সকালে তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরেও যোগাযোগ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তার বের হওয়ার পথে অবস্থান নেন। পদোন্নতিবঞ্চিত ২৮তম বিসিএসের ডা. মো. মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, সব ধরনের যোগ্যতা ও চাকরির বয়স পূর্ণ হওয়ার পরও নানা অজুহাতে আমরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। অনেক জুনিয়র পদোন্নতি পেলেও আমরা পাইনি, যা আমাদের জন্য বিব্রতকর এবং পেশাগতভাবে ক্ষতিকর। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগে আমরা আশাবাদী যে সমস্যার সমাধান হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনকে দেওয়া লিখিত আবেদনে চিকিৎসকরা জানান, তাদের অনেকের চাকরির বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং স্নাতকোত্তরসহ প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ফিটলিস্টে নাম থাকা সত্ত্বেও প্রজ্ঞাপনে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলেও অভিযোগ করেন।
শহীদ মীর মুগ্ধের বাবার খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী : জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন জুলাই গণ আন্দোলনে শহীদ মীর মুগ্ধের বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সেখানে তাঁকে দেখতে যান তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তাও তুলে দেন মীর মুগ্ধের পরিবারের হাতে। দায়িত্ব নেন চিকিৎসারও।
ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটুর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, প্রফেসর ডা. মো. খালেকুজ্জামান, প্রফেসর ডা. মো. মহসীন হোসেন, প্রফেসর ডা. তৌফিকুজ্জামান, প্রফেসর ডা. আশরাফ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ টি এম নূরন্নবী, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল, সহযোগী অধ্যাপক ডা. শ্যামল, সহকারী অধ্যাপক ডা. সারোয়ার হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহবুব হাসান রিপন, সহকারী পরিচালক ডা. মেজবাহ, ডা. মো. সামিউর রহমান, ডা. হাসিবুল ইসলাম, ড্যাবের আইন বিষয়ক সম্পাদক ডা. এম আর হাসান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল নেতা আজহারুল ইসলাম হামীম, মো. আমান উল্লাহ ও অপু দেবনাথ।
এর আগে গত সোমবার শহীদ মীর মুগ্ধের বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমানের হার্টে রিং পরানো হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আপনার মতামত লিখুন :