দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত, চার জেলায় নিহত ৫


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ /
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত, চার জেলায় নিহত ৫

কয়েক সপ্তাহ তীব্র তাবদাহের পর যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের পর বিভিন্ন জেলায় এলাকায় ঝড় ও বজ্রপাত হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে; ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সেইসঙ্গে উপড়ে গেছে গাছপালা। খুঁটি ভেঙে পড়ায় দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের পর যশোরের বিভিন্ন এলাকায় ঝড় ও বজ্রপাত হয়েছে। এ সময় এক কৃষক নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের সময় ১৬টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে; ২০টির বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। সেইসঙ্গে উপড়ে গেছে অর্ধশতাধিক গাছপালা। খুঁটি ভেঙে পড়ায় দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যশোর হাসপাতাল সূত্র, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যশোরের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালোমেঘে ছেয়ে যায়। এরপর শুরু হয় প্রচন্ড ঝড় ও সেই সাথে বজ্রপাত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মণিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে বাড়ি থেকে মাঠে যাচ্ছিলেন কৃষক লুৎফর রহমান সরদার। এসময় বজ্রপাত আঘাত হানলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আকস্মিক মৃত্যুতে ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অন্যদিকে উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা এলাকায় কাল বৈশাখি ঝড় তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। গাছ ভেঙ্গে আছড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে। ওই এলাকাসহ ঝাাঁপা, হরিহরনগর, রাজগঞ্জ এলাকায় বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

অন্যদিকে, কেশবপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। ঝড়ে আহত হয়ে ৯ জন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে দু’জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলার মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি। তার প্রতিষ্ঠানের ছাদের উপর গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত। যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, ‘ঝড় বৃষ্টিতে যশোরে তেমন ক্ষতি হয়নি। কিছু কিছু জায়গায় বোরো ধান হেলে পড়েছে; সেগুলোতে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা দেখছি না। যশোরে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টি ধানের জন্য আর্শিবাদ। তার পরেও কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান বলেন, ‘কাল বৈশাখী ঝড়ে মণিরামপুর ও কেশবপুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে গেছে। অসংখ্য জায়গায় তারের উপর গাছ পড়ে আছে। আমাদের কর্মীরা রাতেও কাজ করছে। তবে সব জায়গায় বিদ্যুৎ লাইন সচল করা সম্ভব হবে না।’ যশোর জেলা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বজ্রপাতে মণিরামপুরে একজন মারা যাওয়ার খবর আছে। তবে কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; সেটা নিরূপণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ যশোর স্থানীয় খবর

মণিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাবুর আলী সরদারের ছেলে লুৎফর রহমান মাঠে কৃষি কাজ করার সময় বজ্রপাতে নিহত হন। এদিকে মাত্র তিন মিনিটের ঝড়ে পারখাজুরা বাজার লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এদিন ঝড় বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নিহত হন রামপুর গ্রামের বাবর আলীর ছেলে লুৎফর রহমান।

মহেশপুরে বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যু ও এক কৃষক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বাতানগাছি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মহেশপুর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বাতান গাছী গ্রামের মিজানুরের স্ত্রী রোজিনা (৩৫) দুপুরে বাড়ির পাশে কাজ করার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে একই গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় কৃষক পিলু (৫২) বজ্রপাতের গুরুতর আহত হন। তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও দর্শনা উপজেলায় আলাদা স্থানে বজ্রপাতের স্কুল ছাত্রসহ দুইজন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রাম এবং দর্শনা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। কৃষক বাবার জন্য মাঠে খাবার দিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলোনা ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিমুল আজিম। খাবার দিয়ে ছেলে যখন বাবার কাজে একটু সাহায্যের হাত বাড়ালো ঠিক তখনই বজ্রপাতে ঝলসে প্রাণ গেলো আজিমের। আজিমের করুণ মৃত্যুতো শুধু পরিবারের মধ্যেই নয়, গোটা গ্রামের মানুষ শোকে কাতর হয়ে পড়েছে। দর্শনার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের পারকৃষ্ণপুর মাঝপাড়ার তাজিমুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে যান ইউনিয়ন মাঠে নিজের জমিতে কৃষি কাজে। বেলা গড়িয়ে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে মেমনগর ডিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণিতে ছাত্র আলিমুল আজিম বাবার জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে যান মাঠে। খাবার দিয়ে আজিম বাবার কাজের সাহায্যের জন্য জমির ঝাল তুলতে থাকেন। ঠিক সে সময় বিকট শব্দে বজ্রপাত হতে থাকে।

তাজিমুল জানান, চোখের সামনেই তার ছেলের উপর বজ্রপাত আঘাত হানলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো শরীর ঝলসে যায়। ছেলেকে কোলে তুলে চিৎকার করে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন তাজিমুল। সাহায্যের জন্য চিৎকার করে ডাকাডাকি করলেও সে সময় মাঠে কোন কৃষক না থাকায় কারো সাড়া মেলেনি। ফলে ঘটনাস্থলেই বাবার কোলেই ছেলের মৃত্যু হয়। তবুও ছেলেকে নিয়ে দর্শনার বিভিন্ন ক্লিনিকে ছুটেছেন তিনি। খবর পেয়ে দর্শনা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিমেল রানা, সেকেন্ড অফিসার এসআই ইমরান হাসান, এসআই আলমগীর হোসেন এবং এএসআই নজরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছান। পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে। আছর বাদ স্থানীয় গোরস্থানে বেদনা বিধুর পরিবেশে আজিমের লাশ দাফন করা হয়েছে। জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, ঘোষনগর গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে রাসেল মারা যান। নিহত ২৫ বছর বয়সি রাসেল ওই গ্রামের রেজাউল হোসেনের ছেলে। স্বজনরা জানান, রাসেল বাড়ির পাশে কৃষি জমিতে তামাকের খড়ি গোছানোর কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সংবাদ ডেটা বিশ্লেষণ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বজ্রপাতে এক দিনমজুরের প্রাণ গেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে ধানখোলা ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা জানান। নিহত ৫০ বছর বয়সী জারজিত হোসেন ওই ভাটপাড়া গ্রামের মো. দাউদ হোসেনের ছেলে। ভাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহিদ হাসান বলেন, “জারজিত হোসেন সম্পর্কে আমাদের চাচা হয়। তিনি ভাটপাড়া জোলের মাঠে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। “এ সময় আকাশে কালো মেঘ করে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন।” জারজিতকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলেন ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক মো. নাহিদ হাসান বলেন, জারজিত হোসেনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মৃত্যু হয়। আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন, বজ্রপাতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

যশোরের চৌগাছায় বজ্রপাতে একটি বিশাল কড়াই গাছের মাথা থেকে গোড়া পর্যন্ত দুইখন্ড হয়ে গেছে। শুধু তাই না গাছের বিভিন্ন অংশ খন্ড খন্ড হয়ে ছিটকে পড়েছে বহুদুর পর্যন্ত। তবে এই বজ্রপাতে কোন হতাতের খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে চৌগাছার জগদীশপুর ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামে এই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারটার পরপরই চৌগাছার আকাশ কলোমেঘে ঢেকে যায়। এর কিছু পরই শুরু হয় বজ্রবৃষ্টি। বিদ্যুৎ চমকানোর সাথে সাথে বিকট শব্দে বজ্রপাত ঘটতে থাকে। তবে বজ্রপাতে উপজেলার আর কোথাও থেকে কোন খবর পাওয়া না গেলেও আড়কান্দি গ্রাম হতে খবর আসে ভয়াবহ বজ্রপাতে একটি বড় কড়াই গাছ দুই খন্ড হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাছটি কমপক্ষে ১২০ ফুট হতে দেড়শ ফুট উচু। এই গাছের মগডালে ঘটেছে বজ্রপাত আর গোড়া পর্যন্ত ফেটে দুই খন্ড হয়ে গেছে। গাছটির উপর যখন বজ্রপাত ঘটেছে তখন এর কান্ড হতে গাছের অংশ (চলা সাদৃশ্য) বহুদুরে যেয়ে পড়েছে। কড়াই গাছের মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বসত বাড়ির অদূরে কড়াই গাছটি। বাসাতে আমার ৮ বছরের ভাইপো ছাড়া কেউ ছিলনা। সে জানালার ধারে বসে বৃষ্টি দেখছিল। এই সময়ে ঘটে বজ্রপাত, সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আমরা দ্রুতই বাসাতে ফিরে তাকে সুস্থ করে তুলি। যশোর স্থানীয় খবর

বাঁকড়ায় কালবৈশাখীর ছোবলে গাছ, বসত ঘর, কৃষকের বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। (১৬ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঁকড়া ইউনিয়নে কালবৈশাখী আঘাত হেনেছে। ইউনিয়নের আলীপুর, দিগদানা, খোশালনগর, উজ্জ্বলপুরে ঝড়ের আঘাতে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। এতে বোরোধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলীপুর গ্রামের চৌকিদার এবাদ আলীর ঘরের ওপর একটি নারিকেল গাছ পড়ে ঘরটি বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অল্পের জন্য জীবনহানি ঘটেনি। বাঁকড়া বাজারের খোকনের চায়ের দোকানের টিনের চাল উড়ে গেছে। উজ্জ্বলপুর গ্রামের দাউদ হোসেন জানান, তার বাড়ির পিছনের বাসিন্দা আলিয়ার রহমানের টিনের চালে গাছ পড়ে ঘর ভেঙে গেছে। দিগদানা গ্রামের সাইদুলের টিনের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে।