

য়বিশ্ব সাহিত্যে বিরাট একটি অংশ দখল করে আছেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সাহিত্যে বিভিন্ন ভাষার শব্দের এমন সুনিপুণ ব্যবহার বিশ্বে একমাত্র নজরুল ইসলামই করতে পেরেছেন।
কবি নজরুলকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়ে আলোচকরা বলেন, নজরুলকে কেউ কেউ কেবল ইসলামের কবি, হিন্দু ধর্মের কবি, নারী জাগরণের কবি, বিদ্রোহী কবি, জাতীয় সত্তার কবি, প্রেমের কবি কিংবা গানের কবি হিসেবে আলাদা করে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন; যা মোটেই সমীচীন নয়।
আমাদের সামগ্রিক নজরুলকে উপস্থাপন করতে হবে, তার সাহিত্যকে পূর্ণাঙ্গরূপে তুলে ধরতে হবে; নতুবা তার প্রতি এবং সাহিত্যের প্রতি অবিচার করা হবে।
বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ (বিএসপি) সোমবার (২৪ মে) রাত ৯টায় জুম প্ল্যাটফর্মে কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘নজরুল ইসলাম জীবনী’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইইউ) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ মেহেদী হাসান।
তিনি বলেন, ‘নজরুল ইসলাম বিশ্ব সাহিত্যের এক বিরাট সম্পদ। বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। এই সম্পদকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে ও ব্যবহার করতে হবে, তবেই এ সমাজের মুক্তি মিলবে।’
অনুষ্ঠানের আরেক আলোচক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মীম মিজান বলেন, ‘নজরুল ইসলাম বৈচিত্র্যময় জীবনের অধিকারী ছিলেন, যা সবাই জানেন। কিন্তু এই বৈচিত্র্যময় জীবনে কবিতায় প্রতিবাদী হওয়ার গল্পটিও বেশ বৈচিত্র্যময়। তার কাব্যভাবনায় একদিনে প্রতিবাদ বা বিদ্রোহ আসেনি; সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য তার মন একদিনেই প্রতিবাদী হয়ে ওঠেনি।’
পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্ত হওয়া গবেষক ড. রাজেশ কর বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে বলেন, ‘কবির বিদ্রোহী সত্তা জাগ্রত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রানীগঞ্জ থেকে। নজরুল ত্রিশাল থেকে এসে রানীগঞ্জ স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন। এখানে দুই বছর অবস্থানকালে তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং তার সেই শুরুর লেখাই ছিল প্রতিবাদী।’
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন কলকাতার ছায়ানটের সভাপতি, নজরুল গবেষক ও নজরুলসংগীত শিল্পী সোমঋতা মল্লিক। তিনি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলা ভাষার সৌভাগ্যের প্রতীক উল্লেখ করে বলেন, ‘নজরুলের প্রতিভা নিয়ে বেশি বেশি গবেষণা করা প্রয়োজন। তার সাহিত্যকে যত বেশি ছড়িয়ে দেওয়া যাবে, যত বেশি অনুবাদ করা যাবে, তত বেশি বিশ্ববাসী তার সম্পর্কে জানতে পারবেন। কেবল বাঙালি কবি হিসেবে নয়, বিশ্বের কবি হিসেবে তার প্রতিভার উন্মোচন হওয়া দরকার। সরকারি ও বেসরকারি, উভয় পক্ষ থেকেই এ কাজটি করা খুবই জরুরি।’
বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি আহমদ রাজুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মুন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কবি অরুণ বর্মণ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের কবি, সাহিত্যিক ও গবেষকেরা অংশ নেন।
আপনার মতামত লিখুন :