

সম্প্রতি সংসদীয় দলের সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই সভায় দলের সংসদ সদস্যগণ নিজ নিজ এলাকার সমস্যা, সরকার পরিচালনার সমস্যা এবং সরকারি দলের নানাবিধ সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। বিশেষ করে- দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজী, দখল, নেতাকর্মীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জ¦ালানি সমস্যা, সরকারের নানাবিধ সুবিধা গ্রহণে অনিয়মের কথা জানান তারা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে প্রসংশিত হচ্ছেন তিনি। সভায় প্রধানমন্ত্রীর সামনে মন খুলে সমস্যা ও সঙ্কটের কথা বলতে পেরে খুশি সংসদ সদস্যগণ।
দলের সংরক্ষিত আসনের এমপি সানজিদা ইয়াসমিন তুলি বলেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যগণ চাইলেও অনেক কথা সংসদে বলতে পারেননা। কিন্তু সংসদীয় দলের সভায় অনেকে মনখুলে কথা বলেছেন, সমস্যাগুলো তুলে ধরেছেন, করণীয় পরামর্শ দিয়েছেন। আরেক এমপি এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, সভায় বিভিন্ন সমস্যার কথা এমপিগণ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীও আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরণের সভা মাঝে মাঝে হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দলের এমপিদের পাশাপাশি সারাদেশের প্রকৃত চিত্র জানতে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরও কথা শুনতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে। এতে যেমন দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবেন, দল চাঙ্গা হবে, পাশাপাশি এমপিদের বাইরে ভিন্ন দৃষ্টিতেও ভিন্ন চিত্র দেখতে পাবেন তিনি।
যদিও নেতাকর্মীরা বলছেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তাদের যেভাবে যোগাযোগ ছিল সেটিতে কিছুটা ছেদ পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ, দেশ পরিচালনার বাস্তবিক ব্যস্ততার মেনে নিলেও মাঝে মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগও চান তারা।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বিধ্বস্ত রাজনৈতিক ও বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশি-বিদেশী নানা ষড়যন্ত্র, অর্থনৈতিক পুনগর্ঠন, দেশকে স্থিতিশীল হিসেবে গড়ে তোলার বড় দায়িত্ব পড়েছে তাঁর কাধে। তিনি অনুধাবন করছেন বলে নিজে নানামুখী সাশ্রয় করছেন, দেশ ও দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি করতে একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছেন। এই বাস্তবতা নেতাকর্মীদেরও বুঝতে হবে।
তবে নেতাকর্মীদের আবেগের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর আবেগ আছে। তারা তাকে আগের মতো পেতে চায়, কথা বলতে চায় এটা স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতাও বুঝতে হবে। দলও এক্ষেত্রে উদ্যোগ নিতে পারে। তাদের কথা শোনার জন্য দলের একাধিক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে পারে। তারা নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসবেন এবং তাদের কথাগুলো দলের চেয়ারম্যানের কাছে রিপোর্ট আকারে তুলে ধরবেন। এ ধরণের কাজ ইতোপূর্বেও করা হয়েছে।
দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। বার বার কারাবন্দী হয়ে শিকার হয়েছেন অমানবিক নির্যাতনের। সেসময় দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল এসব নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ছিল তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তার নেতৃত্বে দলীয় নেতৃত্বকে চাঙ্গা রাখা, নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং আন্দোলন গড়ে তোলা। সেই সময়ে তিনি দলের প্রতিটি স্তরের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করেছিলেন। নেতাকর্মীরাও জানতেন যে তাদের যেকোনো সংকট বা পরামর্শের কথা সরাসরি তারেক রহমান পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব। তাই নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েও তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েই ভুলে যেতেন সেই দুঃসহ যন্ত্রণা। ছাড়া পেয়ে, সুস্থ্য হয়ে আবারও ফিরে এসেছেন রাজপথে। আর সুদুর লন্ডন থেকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের কাছে কাণ্ডারিতে পরিণত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে এসেছে জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দলটির দীর্ঘকালীন কা-ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের কাজের পরিধি আকাশচুম্বী হয়েছে। দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কার করার মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ এখন তাঁর প্রতিদিনের রুটিন। রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কূটনীতি এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুদায়িত্বের মাঝে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর আগের মতো সরাসরি ও অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখা বাস্তবসম্মতভাবেই কঠিন হয়ে পড়েছে। ছেদ ঘটেছে পূর্বের সেই যোগাযোগে। প্রিয় অভিভাবকের সঙ্গে এই দূরত্ব মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। আবার এই শূন্যতার সুযোগে দলের একটি অংশÑযাদের মধ্যে অতিলোভী কিংবা সুবিধাবাদী চক্র রয়েছে-চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরে আসার সাথে সাথেই জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু গুটিকয়েক ব্যক্তির কারণে দলের এবং সরকারের সুনামহানী কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বিপুল সংখ্যক ত্যাগী নেতাকর্মীরা। নিজেদের সামনে ঘটা অনিয়মগুলো প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে না পারার কষ্টও পোড়াচ্ছে তাদের। তাই নিজেদের ক্ষোভ, দুঃখ, কষ্টের কথা এবং সরকার ও দলের জন্য চ্যালেঞ্জগুলোও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে তুলে ধরার সুযোগ চান তারা।
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা দাবি জানিয়ে বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় দলের সভায় এমপিদের কথা শুনেছেন, একইভাবে যদি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে মাঝে মাঝে বসেন এবং তাদের কথা শুনেন তাহলে দল ও দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত থাকবে। এতে দল ও দেশ উপকৃত হবে।
এদিকে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে এসেছে জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দলটির দীর্ঘকালীন কাণ্ডারি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণ করেই ভঙ্গুর অর্থনীতি, বৈশি^ক সঙ্কটের প্রভাব, পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া দোসর এবং দেশি-বিদেশী নানামুখী ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। যদিও এর মধ্যে তিনি তাঁর কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেকে ব্যতিক্রমী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের মানুষের কাছে উপস্থাপন করেছেন। সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করা (কোন কোন ক্ষেত্রে কম), প্রটোকল কমিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে জনকল্যাণমুখী নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আসিন হয়েছেন। কিন্তু অন্যদিকে দলের একটি অংশ- যাদের মধ্যে অতিলোভী কিংবা সুবিধাবাদী চক্রের চাঁদাবাজী, দখলবাজী এবং নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ম্লান হচ্ছে বিএনপি সরকারের সুনাম। যদিও যেখানেই এধরণের ঘটনা ঘটছে দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করছে দল এবং সরকার। তারপরও সুবিধাবাদীদের এসব কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ দীর্ঘদিনের ত্যাগি নেতাকর্মীরাও। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সর্বশেষ দলের সংসদীয় কমিটির সভায় হুশিয়ারী দিয়ে বলেছেন, যারাই চাঁদাবাজী, দখলসহ কোন ধরণের অনিয়মে জড়ালে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের সুবিধাবাদী একটি অংশের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরাট অংশ আগের মতোই আর্থিক অনটন ও দুঃখ-কষ্টে দিন পার করছে। অথচ এই চিত্রটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কোনভাবেই পৌঁছানো হচ্ছে না। এমনকি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন তারা এখন প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পর্যন্ত পাচ্ছে না, পারছে না তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরতে। ফলে এসব নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ছে, অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। যা দল এবং সরকার কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কৌশলে তাদের কাছ থেকে দূরে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এই দূরত্ব দূর করতে মাঝে মাঝে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসা, তাদের কথা শোনার জন্য দাবি জানিয়েছেন তারা।
ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মামুন খান যিনি ফ্যাসিবাদবিরোদী আন্দোলনে অসংখ্যবার নির্যাতন-নিপীড়ন, হামলা-মামলা এবং গ্রেফতার হয়েছিলেন। গতকাল তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখেছেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিগত ১৫ বছরের মজলুমদের শর্ট লিস্ট যদি আমার শত্রুকে দিয়েও করান সেই লিস্টে আমার নামটা থাকবে। আমার অপর যে সকল সহযোদ্ধাদের নাম ঐ তালিকায় থাকবে তারা এবং আমি বিএনপি সরকারের এক গ্লাস পানি এখন পর্যন্ত পান করিনি। চাঁদাবাজি, ধান্ধাবাজি এগুলো তো অনেক পরের বিষয়। আপনার রাষ্ট্রীয় সকল গোয়েন্দা সংস্থার চৌকস টিম দিয়ে তদন্ত করলেও আমাদের আমলনামায় কেউ লাল কালি বসাতে পারবে না। পাওয়া না পাওয়া নিয়ে আমাদের কষ্ট হচ্ছে না কিন্তু কষ্ট হচ্ছে আমাদের রক্তের উপর দিয়ে আসা সরকার আমাদেরকে প্রতিদিন তিলেতিলে মারছে।
তিনি আরো লেখেন, খুনী হাসিনার আমলে আমরা আঘাত পেতাম শুধু শরীরে, হাসপাতালে কাতরাচ্ছি কিন্তু ভাইয়া (তারেক রহমান) ফোন করে খবর নিছে এতেই সুস্থ হয়ে উঠতাম। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর জেল খেটে বের হয়ে ভাইয়াকে (তারেক রহমান) ফোনে সালাম দিলেই থানা, গারদ, রিমান্ড ও জেলের সকল যন্ত্রণা ভুলে যেতাম।
সেই আমরা এখন প্রতিদিন কষ্ট পাচ্ছি। শুধু কষ্ট না সামাজিক পারিবারিক রাজনৈতিক সকল দিক বিবেচনায় আমরা মৃত্যু যন্ত্রণার মতো এক ভয়ংকর রাজনৈতিক যন্ত্রণায় ছটফট করছি। আল্লাহ না করুক এই মজলুমদের কারও সুইসাইড নোট আপনার টেবিলে যাওয়ার আগে তাদের বর্তমান খারাপ পরিস্থিতির খবরটা যেন যায়। তারা যেন তাদের সেই ভাইয়াকে একবারের জন্য হলেও বলতে পারে, আপনি আজ প্রধানমন্ত্রী হলেও আমাদের ভাইয়া আমাদের অভিভাবক। মামুন খান লেখেন- আপনাকে সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, সত্যিকারের রাজপথের ৯৫% নেতা কর্মীরা ভালো নেই। এভাবে চলতে পারেনা, এভাবে চলতে থাকলে আপনি এক বিশাল সৈন্য বাহিনী হারাবেন যারা ১৫/২০ বছর নিজের খেয়ে নিজের পড়ে, রক্ত-ঘাম, ত্যাগ-শ্রম দিয়ে নিজেদেরকে তিলেতিলে এক একজন বীর সৈনিক হিসেবে গড়েছে।
সিদ্ধান্ত আপনার, আমরা যদি ভালো না থাকি বিএনপি সরকার ভালো থাকবেনা। বিএনপি সরকার ভালো না থাকলে দেশ ভালো থাকবেনা। আমার এই কথাগুলো আমলে না নিলে পুরো সরকার একদিন অনুশোচনা করবে, তখন সময় থাকবেনা।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম সরোয়ার বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন প্রধানমন্ত্রী। সবচেয়ে কঠিন ও দুঃসময়ে আমরা উনার সঙ্গে কথা বলতাম। তার নির্দেশনা পেয়ে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিতাম। কিন্তু এখন অনেকেই উনার থেকে অনেক দূরে। ত্যাগী নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কিছু চায় না। শুধু উনার সামনে মনের কথা, কষ্টের কথা বলতে চায়। সেই সুয়োগটুকুও হচ্ছে না। ফলে অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। যেটা দল, দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক নয়।
বরিশাল দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন কেবল দলের নয়, তাকে দেশের কথা চিন্তা করতে হয়। দেশের সমস্যা, দেশের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র নিয়ে ভাবতে হয়। বাস্তবতার কারণে হয়তো নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ কমে গেছে। এতোকিছুর পরেও উনি সব সময় নেতাকর্মীদের কথা ভাবেন। কিন্তু নেতাকর্মীরাও উনাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে চান, কথা বলতে চান। যদিও ইতোমধ্যে তিনি বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে বসা শুরু করেছেন, আমাদের প্রত্যাশা ধারাবাহিকভাবে তিনি সারাদেশের সকল ইউনিটের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসবেন, তাদের কথা শুনবেন। এটি হলে দল চাঙ্গা হবে এবং নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি নেতাকর্মীদের অপ্রত্যাশিত আকাক্সক্ষা বাড়ছে। তারা মনের দুঃখ, কষ্টের কথা বলতে চান, তাঁর সাথে দেখা করতে চান এটা স্বাভাবিক। কারণ বিএনপি সরকার গঠন করেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, নিঃশ্ব হয়েছেন তাদের জন্য আমরা কিছু করতে পারিনি। আবার কিছু সুবিধাবাদী ঢুকে পড়েছে এটি ত্যাগিদের জন্য হতাশার। এই হতাশা থেকে অনেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, এর জন্য দায়ী আমরাই। আমাদেরকে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। এতে দল ও দেশ উপকৃত হবে। আমরা যদি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারি, বসতে পারি তাহলে তারা কথা বলার সুযোগ পাবে। যেমন- সংসদীয় দলের সঙ্গে সম্প্রতি বসা হয়েছে। সেখানে অনেকে অনেক কথা মন খুলে বলেছেন, অনেক সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। এটি অন্য কোথাও বলার সুযোগ নেই। এই সুযোগটা তৈরি হলে সকলে কথা বলতে পারবেন এবং প্রধানমন্ত্রীও দেশের নানা প্রান্তের সমস্যার কথা জানতে পারবেন এবং প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে অবহিত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
আপনার মতামত লিখুন :