পোশাক রপ্তানিতে দক্ষ্মিণ এশিয়ায় সবার পিছনে বাংলাদেশ


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুলাই ১৫, ২০২৬, ৭:০২ পূর্বাহ্ণ /
পোশাক রপ্তানিতে দক্ষ্মিণ এশিয়ায় সবার পিছনে বাংলাদেশ

বিশ্বের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাজারে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানটি কোনোমতে ধরে রাখলেও ২০২৫ সালে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে আশঙ্কাজনক ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এশিয়ার প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। যখন অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো বিশ্ববাজারে নিজেদের আধিপত্য জোরালো করছে, তখন বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে তার গতি হারাচ্ছে।

ডব্লিউটিও-এর তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ মোট ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৩৮ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে এই রপ্তানি বৃদ্ধির হার মাত্র ০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অথচ এই সময়ে বিশ্বজুড়ে পোশাক রপ্তানিতে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। বৈশ্বিক চাহিদার এমন ইতিবাচক পরিবেশের মধ্যেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি এক শতাংশের নিচে থাকা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হ্রাসেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে চীন, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি কমেছে। তবে এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলো ঈর্ষণীয় উন্নতি করেছে। বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৩৭ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর ফলে বাংলাদেশের সাথে ভিয়েতনামের রপ্তানি আয়ের ব্যবধান কমে মাত্র ১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া কম্বোডিয়া ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতও যথাক্রমে ৬ দশমিক ৮৩, ৫ দশমিক ৭৯ এবং ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এই মন্থর গতির কারণে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বও সংকুচিত হয়েছে। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা ৭ শতাংশ থাকলেও ২০২৫ সালে তা কমে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমেছে। বিপরীতে ভিয়েতনামের অংশীদারিত্ব ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ হয়েছে, যা দেশটিকে বাংলাদেশের অত্যন্ত কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে শীর্ষে থাকা চীনের অংশীদারিত্ব কমে ২৭ দশমিক ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। চীনের ছেড়ে দেওয়া এই বাজার মূলত ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো দখল করে নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্রতিযোগী দেশগুলো যখন তাদের উৎপাদন সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগী, তখন বাংলাদেশ নতুন ক্রয়াদেশ পেতে লড়াই করছে। বর্তমানে দেশের পোশাক খাত তীব্র গ্যাস ও জ্বালানি সংকট, ব্যাংক ঋণের চড়া সুদ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়ের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এই সমস্যাগুলো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থানকে দিন দিন দুর্বল করে দিচ্ছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গ্রাফে বড় ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। ২০২২ সালে রেকর্ড ২৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও পরের বছর তা সংকুচিত হয়ে ২১ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে আসে। ২০২৪ সালে সামান্য ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি আবারও এক শতাংশের নিচে নেমে আসায় এই খাতের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। রপ্তানিকারকদের মতে, যদি দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করা না যায়, তবে বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে ভিয়েতনাম যেভাবে এগিয়ে আসছে, তাতে দ্বিতীয় স্থানের লড়াই এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠিন রূপ নিয়েছে।