বগুড়ায় বিএনপি নেতার বাসায় জামাতের হামলা, ছেলের চোখ নষ্টের সংবাদ শুনে মায়ের মৃত্যু


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ /
বগুড়ায় বিএনপি নেতার বাসায় জামাতের হামলা, ছেলের চোখ নষ্টের সংবাদ শুনে মায়ের মৃত্যু

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ভোটের টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে জামাত কর্মিদের হামলায় থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদের চোখ গুরুতর ভাবে জখম হয়েছে। এদিকে মজিদের ওপর হামলার খবর জানতে পেরে তার মা হার্ট এ্যাটাকে মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে এই সংঘর্ষ ও আহত বিএনপি নেতার মায়ের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে উল্লেখিত স্থানে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি বেলাল হোসেন ও জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করেন ধানের শীষের নেতা-কর্মীরা। পরে তাদের কাছ থেকে বেশকিছু টাকা উদ্ধার করা হয়।

আটক দুজনকে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার পারশন গ্রামের বাড়িতে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে লাঠিসোঁটা হাতে জামাতের কর্মি সমর্থকরা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

এ সময় আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে হামলা করা হয়। উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে আটকে রাখা দাঁড়িপাল্লার কর্মী বেলাল ও ফারুককে উদ্ধার করে নিয়ে যায় জামাতের লোকেরা।

এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করে মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা মধ্যরাতে আমাদের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

এ সময় তার বাবা-মাসহ বাড়ির লোকজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা আমার বাবার চোখে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। আর এই খবরে তার দাদী মাজেদা বেগম আতংকে হার্ট এ্যাটাকে মারা যান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও বগুড়া-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র হাতে দাঁড়িপাল্লার কয়েকশো সমর্থক নিয়ে বিএনপি নেতা মাসুদ রানাসহ ধানের শীষের কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। তারা বসতবাড়ি ভাঙচুর করে টাকাসহ আটক কর্মীদের ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদ রানাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মোশারফ হোসেন বলেন, থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদের মা মাজেদা বেগম যখন শুনেছে সংঘর্ষের ঘটনায় তার সন্তান একটি চোখ হারিয়েছে- তখন তিনি হার্ট এ্যাটাকে মারা গেছেন। জামায়াতের হামলায় মাজেদা বেগমও আহত হয়েছিলেন। যখন তার কাছে খবর আসে ছেলে মজিদের চোখ নষ্ট হয়েছে তখনই তার মৃত্যু হয়।