

বহুল কাক্সিক্ষত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইতোমধ্যে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। আজ থেকে শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি সিলেট থেকে শুরু করছে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা। প্রচারণার প্রথম দিনে সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেট আলিয়া মাদরাসায় মাঠে নির্বাচনী সমাবেশের মাধ্যমে শুরু করে একে একে মৌলভিবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গতকাল বুধবার গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয় এক সংবাদ ব্রিফিঙে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মূখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমীন এসব তথ্য জানান।
জানা যায়, সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করতে গতকাল রাত ৭টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে রাত ৮টা ৪ মিনিটে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেটে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে তিনি রাতেই হয়রত শাহ জালাল (রহ) এর মাজার জিয়ারত করেন। মাহাদী আমিন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট আলীয়া মাদরাসা মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন তারেক রহমান। এরপর তিনি মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলা মাঠে, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত উপজেলা মাঠে, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব স্টেডিয়ামে, নরসিংদীর পৌর এলাকা সংলগ্ন এলাকায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার রুপগঞ্জের গাউসিয়ায় সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
মাহাদী আমিন আরো বলেন, এসব সমাবেশে অংশ নিয়ে গভীর রাতে গুলশানের বাসায় ফিরবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী ১৬ বছরের দীর্ঘ আন্দোলনে এবং গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি ও প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের ছিলো অনবদ্য ও অভূতপূর্ব ভূমিকা। তাদের প্রতি ভালোবাসা থেকে বিএনপি চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার প্রতিটি সফরে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী শীর্ষ নেতাদের পর্যায়ক্রমে সফরসঙ্গী হিসেবে নিয়ে যাবেন এবং দেশের জন্য তাদের যে সংগ্রাম তাকে মূল্যায়িত করবেন। সিলেট সফরে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আছেন বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসান, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইয়াসীন ফেরদৌস মুরাদ এবং ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বেশ কিছু ত্যাগী-সংগ্রামী তরুণ নেতৃবৃন্দ। সামনের সফরে এরকম আরো ত্যাগী নেতারা সম্পৃক্ত হবেন ইনশাল্লাহ।
রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহাদী আমিন বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আমরা বিশ্বাস করি ইতিবাচকভাবে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক দল সর্বোচ্চ সহনশীলতা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করবে। সকল রাজনৈতিক দলের কাছে আমরা আহ্বান জানাই, নির্বাচন আচরণবিধির পূর্ণাঙ্গ প্রতিপালনের মধ্য দিয়ে বহুল আকাক্সিক্ষত নির্বাচনে জনগণের আকাংখা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে। আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে এ নির্বাচন একটি অনন্য দৃষ্টি স্থাপন করতে পারবে ইনশাল্লাহ।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, সিলেটের পর পরবর্তী সফর হবে চট্টগ্রামে। সেটা পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
বাসায় বাসায় গিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকা- অনাকাক্সিক্ষত উল্লেখ করে মাহাদী আমিন বলেন, বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ও বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করা এটি কোনোভাবে কাম্য না। আমরা বলছি, জনগণ যেন এই ব্যাপারে সজাগ থাকেন। কারণ জনগণের অনেক আকাংখা আছে এবার ভোট দেবার। সেজন্য কোনোভাবেই যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড যেন নষ্ট না হয়। আমরা যদি দেখি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কেউ সংঘবদ্ধভাবে কোনো জায়গায় পোস্টাল ব্যালেট পেপার দেখলাম প্রবাসে, কোনো কোনো জায়গায় আইডি নিচ্ছেন, বিকাশ নাম্বার নিচ্ছেন এগুলো অনাকাক্সিক্ষত।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের দলের নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানাব, যে প্রচারণা শুরু হবে সেখানে ইতিবাচক রাজনীতিকে ধারণ করে যেন সাধারণ মানুষের কাছে ছুটে যাই, আমাদের পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরি এবং যেসব অপপ্রচার হচ্ছে তার বিরুদ্ধে সঠিক অবস্থা নেই। যারা এভাবে আইডি সংগ্রহ করছেন, বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করছেন- এই নেতিবাচক রাজনীতির কৌশল থেকে যেন বেরিয়ে আসেন আমরা তাদের সেই আহ্বান জানাব।
‘ইসিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে, জনগণের ভোটের অধিকার সত্যির অর্থে মূল্যায়িত হয় তাহলে অবশ্যই বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করবে ইনশাল্লাহ। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আহ্বান জানাব, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, নির্বাচনটা যেন ত্রুটি মুক্ত হয়, নির্বাচনটা যেন বিতর্কমুক্ত থাকে। প্রতিটি দল যাতে নির্বাচন আচরণ বিধি মেনে চলে তা নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে। ইতোমধ্যে বিএনপির কয়েকটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন গিয়ে এই বিষয়ে কথা বলেছেন, তাদের বলেছেন যে, তারা যেন একটি শক্ত অবস্থান গ্রহন করে।
সংবাদ ব্রিফিঙে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জকরিয়া, জুবায়ের বাবু, মোস্তাকুর রহমান, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :