মার্কিন ড্রোন ভূপানতিত করে আলোচনায় এখন ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : মে ২৯, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ /
মার্কিন ড্রোন ভূপানতিত করে আলোচনায় এখন ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা

কতটা শক্তিশালী ইরানের নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা?কয়েক মাস ধরে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র বিমান হামলার পরও ইরান তার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছে বলে দাবি করেছে।

সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) ড্রোন ভূপাতিত করার পর তেহরানের সামরিক শক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সম্পূর্ণ নতুন একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ড্রোনটি নামানো হয়েছে।

কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত কিশমি দ্বীপের কাছে মার্কিন ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়। এই অভিযানে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে ইরানের স্থানীয়ভাবে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আরাশ-ই কামানগির’ (Arash-e Kamangir)।

ফার্সি পুরাণের বীর তিরন্দাজ ‘আরাশ’-এর নামানুসারে এই সিস্টেমটির নামকরণ করা হয়েছে, যা ইরানি সংস্কৃতিতে বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, এই নতুন সিস্টেমে রাডার ফাঁকি দেওয়া বা ‘স্টিলথ’ প্রযুক্তির বিমান ও ড্রোন শনাক্ত করার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ড্রোন হারানোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতি বা নিশ্চিতকরণ না এলেও, বিশ্লেষকরা বলছেন যে এই ঘটনাটি ইঙ্গিত করে যে ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক হামলার পরও তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ফুরিয়ে যায়নি।

কয়েক মাস ধরে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র বিমান হামলার পরও ইরান তার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছে বলে দাবি করেছে।

সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) ড্রোন ভূপাতিত করার পর তেহরানের সামরিক শক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সম্পূর্ণ নতুন একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ড্রোনটি নামানো হয়েছে।

কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত কিশমি দ্বীপের কাছে মার্কিন ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়। এই অভিযানে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে ইরানের স্থানীয়ভাবে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আরাশ-ই কামানগির’ (Arash-e Kamangir)।

ফার্সি পুরাণের বীর তিরন্দাজ ‘আরাশ’-এর নামানুসারে এই সিস্টেমটির নামকরণ করা হয়েছে, যা ইরানি সংস্কৃতিতে বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, এই নতুন সিস্টেমে রাডার ফাঁকি দেওয়া বা ‘স্টিলথ’ প্রযুক্তির বিমান ও ড্রোন শনাক্ত করার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে।

তবে এর সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ড্রোন হারানোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতি বা নিশ্চিতকরণ না এলেও, বিশ্লেষকরা বলছেন যে এই ঘটনাটি ইঙ্গিত করে যে ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক হামলার পরও তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ফুরিয়ে যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতামত ও কৌশলগত গুরুত্ব:
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হলেও এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক কৌশলের সাথে মিলে যায়।

কিংসব কলেজ লন্ডনের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মার্ক হিলবোর্ন জানান, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিতে বেশ স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের মতো ইরানও যুদ্ধের অর্থনৈতিক সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। তারা অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও সহজে স্থানান্তরযোগ্য (মোবাইল) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ব্যয়বহুল ড্রোন বা বিমানকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যালেক্স আলমেদা মনে করেন, ‘আরাশ-ই কামানগির’ হয়তো কোনো প্রথাগত বড় রাডার-নির্ভর ব্যবস্থা নয়। এটি সম্ভবত ‘ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল’ বা তাপ-সন্ধানী (হিট-সিকিং) প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ‘পপ-আপ’ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (SAM) সিস্টেম, যা খুব দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায় এবং লুকিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় রাশিয়ার সরবরাহ করা এস-৩০০ (S-300) এর মতো ইরানের বড় বড় রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, এই ধরনের ছোট ও সস্তা মোবাইল ইউনিটগুলো স্থায়ীভাবে ধ্বংস করা কঠিন।

ফলে যেকোনো সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে ইরান এক প্রকার মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা ধরে রাখতে পারছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পারস্য উপসাগরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির ক্ষমতা রাখে।