মালয়েশিয়া দূতাবাসে ‘৩৬ জুলাই’ উদযাপনে প্রবাসীদের ক্ষোভ প্রকাশ


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : আগস্ট ৬, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ /
মালয়েশিয়া দূতাবাসে ‘৩৬ জুলাই’ উদযাপনে প্রবাসীদের ক্ষোভ প্রকাশ
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে প্রকৃত যোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন ও প্রবাসীদের আন্দোলনে পুলিশ হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন তাদেরকেও ডাকা হয়নি।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ বা ‘৩৬ জুলাই’ উদযাপিত হয়। তবে এই অনুষ্ঠানে প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা ও আন্দোলনে সক্রিয় প্রবাসীদের একটি অংশকে বাদ দেয়া হয়েছে—এমন অভিযোগে কিছু প্রবাসীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

২৪ এর জুলাই এ কোটা বিরোধী আন্দোলনের সেই উত্তাল সময়ে যে সমস্ত প্রবাসীরা দলমত নির্বিশেষে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং বিভিন্নভাবে পুলিশের হাতে আটক, দূতাবাসের হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন তাদেরকে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ৩৬ জুলাই উদযাপন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

তাছাড়া অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত দু’টি ডকুমেন্টারিতে জুলাইয়ে শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ মুগ্ধর কোনো নামও নেয়া হয়নি। ২৪ এর জুলাইয়ে কুয়ালালামপুরে যে সমস্ত প্রবাসীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছিলেন তাদের বিরুদ্ধে দূতাবাসের কর্মকর্তা প্রণব ভট্রাচার্য় পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছিলেন সেই প্রণব ভট্রাচার্য-ই ৩৬ জুলাই উদযাপন অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। এসব ঘটনায় মালয়েশিয়ার প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের সংগঠন ‘৩৬ জুলাই স্মৃতি সংসদ মালয়েশিয়া’ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন।

৩৬ জুলাই স্মৃতি সংসদ মালয়েশিয়ার স্বমন্বয়ক ও কমিউনিটির নেতা শেখ সেলিম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে প্রকৃত যোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন ও প্রবাসীদের আন্দোলনে পুলিশ হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন তাদের কেউ ডাকা হয়নি। সবচেয়ে নিন্দাজনক বিষয় হলো কুয়ালালামপুরে যখন প্রবাসীরা ৩৬ জুলাই আন্দোলন করেছিল তখন স্বৈরাচারের দোসর দূতাবাসের সাবেক কর্মকর্তা খোরশেদ আলম খাস্তগীর ও বর্তমান কর্মকর্তা প্রণব ভট্রাচার্য তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে হয়রানি করেছিলেন।’

অবিলম্বে অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রণব ভট্টাচার্যের প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

এবিষয়ে পিএইচডি গবেষক ও জুলাই স্বমন্বয়ক আলমগীর চৌধুরী আকাশ বলেন, ‘আমি দূতাবাসের ৩৬ জুলাই উদযাপন অনুষ্ঠানে গিয়ে আমি খুবই হতাশ হয়েছি কারণ, যারা প্রকৃত অর্থে জুলাই যোদ্ধা ছিল তাদের কাউকে দাওয়াত দেয়া হয়নি এবং অনুষ্ঠানে তাদের বক্তব্য দেয়ার সুযোগ না দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’

৩৬ জুলাই আন্দোলনকারী ও স্বমন্বয়ক মো: মোকাম্মেল হুসাইন বলেন, ‘ঐসময় আমরা যারা কুয়ালালামপুরে আন্দোলনে সরাসরি অংশ্রগ্রহণ করেছিলাম আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, আন্দোলনের সময় দূতাবাস থেকে হুমকি দিয়েছিল আমাদের পাসপোর্ট বাতিল করে দেশে ফেরত পাঠিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হবে, দূতাবাসের ঐ কর্মকর্তার সাথে যাদের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীক সম্পর্ক আছে তাদেরকেই দাওয়াত দেয়া হয়েছে, আমরা হাইকমিশনের কাছে দাবি জানাই ৩৬ জুলাই নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান হলে অবশ্যই যেন জুলাই প্রকৃত যোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।’

এবিষয়ে কুয়ালালামপুরের দূতাবাসের কর্মকর্তা প্রণব ভট্রাচার্য-এর কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক মালয়েশিয়া সফরে আসলে প্রতিবেদক দূতাবাসের স্বৈরাচারী দোসর কর্মকর্তাদের অপসারণের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সবে তো মাত্র কয়েকমাস হল আমরা ক্ষমতায় এলাম।’