

মালয়েশিয়ার শরণার্থী বিষয়ক নিবন্ধন দলিল (ডিপিপি) কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তি কোনো শরণার্থীকে দেশে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল।
শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত পরিণতি তিনটির মধ্যে যেকোনো একটি হবে – স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন, অথবা বহিষ্কার।
দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা ও ফ্রি মালয়েশিয়া টুডেসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার তাপাহের বিদোরে শরণার্থী ও আশ্রয় প্রার্থীদের বিশেষ আটক কেন্দ্র (পিপিকেপিপিএস) পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিটি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নির্দেশনা নম্বর ২৩ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার লক্ষ্য শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল, সুসংগঠিত ও মানবিক করে তোলা।
তবে ডিপিপি কর্মসূচির সম্ভাব্য চূড়ান্ত ফলাফল তিনটিই থাকবে। ডিপিপিতে নিবন্ধন এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে শরণার্থীদের সংযুক্ত করার অর্থ এই নয় যে, তারা এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবে। চূড়ান্ত ফলাফল হবে হয় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন, অথবা বহিষ্কার” বলে জনিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এবং বুকিত আমান অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ ইউসরি হাসান বাসরিও উপস্থিত ছিলেন।
ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে লিখেছে, এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ডিপিপি কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে মূলত মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী-যারা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অভিবাসন ডিপোতে আটক রয়েছেন – তাদের শরণার্থী মর্যাদা নির্ধারণ (আরএসডি) প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ২০টি মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা যৌথভাবে ব্যক্তিগত তথ্য, বায়োমেট্রিক ডেটা, ফেশিয়াল রিকগনিশন এবং কণ্ঠস্বর রেকর্ডিং সংগ্রহ করছে।
মালয়েশিয়া ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোইলেকট্রনিক সিস্টেমস (মিমোস) কর্তৃক তৈরি একটি বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি ব্যাপক জাতীয় ডেটাবেজ গড়ে তোলা হবে।
বারনামা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাতে জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশ থেকে শরণার্থীরা এসেছেন, তবে প্রথম পর্যায়ে আমরা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছি, যাদের সংখ্যা মোট ৪,০১০ জনের মধ্যে ৪,০০৮ জন। বাকি দুজন যথাক্রমে সুদান ও সিরিয়ার নাগরিক।
এই ডেটাবেজ ভবিষ্যতে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী শরণার্থীদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংযুক্ত করার উদ্যোগকেও সহায়তা করবে – উৎপাদন, নির্মাণ, কৃষি, বাগান এবং সেবা – এই পাঁচটি মূল অর্থনৈতিক খাতে শূন্যপদ পূরণে।
এই উদ্যোগ ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে আনুমানিক ১ কোটি ৭০ লাখ কর্মশক্তির মধ্যে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বা ১৭ লাখে সীমিত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশটির বিদোর আটক কেন্দ্র প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনিয়েছেন, ৪০০ জন ধারণক্ষমতার এই কেন্দ্রে বর্তমানে ১০১ জন রোহিঙ্গা আটক রয়েছেন – যাদের মধ্যে ১০০ জন পুরুষ ও একজন নারী। এদের মধ্যে ৭৮ জন ইতোমধ্যে ডিপিপি কর্মসূচির আওতায় শরণার্থী মর্যাদা পেয়েছেন।
বারনামা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাতে আরও জনিয়েছে, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সমস্ত এসওপি চূড়ান্ত হওয়ার পর আগামী মাসের শুরুর দিকে ডিপিপি কর্মসূচি সারাদেশে চালু করা হবে।
১ জুনের মধ্যে ৪,০১০ জন শরণার্থীর জন্য কর্মসূচি চালু হবে। ১ জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর থেকে সিস্টেম ও স্ক্রিনিং প্রশ্নপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছিল।
আপনার মতামত লিখুন :