মালিক-শ্রমিক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখবে বললেন ডা: শফিকুর রহমান


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : মে ১, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ /
মালিক-শ্রমিক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখবে বললেন ডা: শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে কোনো সংঘাত নয়, বরং একটি শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১ মে) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে ইনসাফপূর্ণ এবং শান্তিপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাস করে। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চাই যেখানে শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক নিশ্চিত হবে এবং মালিক-শ্রমিক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদেশে অবস্থিত মিশন, হাইকমিশন বা দূতাবাস থাকলেও প্রবাসীরা নানা ভোগান্তির শিকার হন। পাসপোর্ট নবায়নে গিয়ে তারা দালালদের খপ্পরে পড়ে হয়রানির মুখে পড়েন। এছাড়া চাকরি হারালে অনেক সময় তাদের পাশে দাঁড়ানোরও কেউ থাকে না।

জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, প্রবাসীদের দাবিদাওয়া যথাযথভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। প্রবাসীদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। যেসব দেশে দূতাবাস প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না, সেখানে এমন অ্যাম্বাসি থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তার মতে, দূতাবাসের কাজ কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে লালন-পালন করা নয়, বরং দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা।

শ্রমিক দিবস প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, শিকাগোর বেদনাদায়ক ঘটনার ১৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে শ্রম দিবস পালিত হচ্ছে এবং জাতিসংঘ এটিকে আন্তর্জাতিক দিবসের স্বীকৃতি দিয়েছে। বিভিন্ন দেশে এদিন রাজনৈতিক নেতারা শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের আশ্বাস দেন। কিন্তু ১৪০ বছরে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সামান্য অংশও যদি বাস্তবায়িত হতো, তাহলে শ্রমিকদের আর কোনো দাবি থাকতো না। ৩৬৪ দিন সবাই শ্রমিকদের দাবিগুলো ভুলে থাকলেও পহেলা মে দরদি ও আন্তরিক হয়ে ময়দানে নেমে পড়ে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, শ্রমিকদের প্রয়োজন ও মর্যাদাকে উপেক্ষা করে কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না।

শফিকুর রহমান বামপন্থী সংগঠনগুলোর সমালোচনা করে বলেন, দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে যারা নিজেদের বামপন্থী বলে দাবি করেন, তারা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে বেশি সংগ্রাম করেন। এখন বাংলাদেশ, তার আগে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে এটি চলে আসছে। যখনই কোনো ইস্যু আসে, বাম দলের নেতা-নেত্রীরা সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায়। তারপরে আন্দোলন দানা বেধে ওঠে, মাঠ গরম হয়, কিছু মানুষের জীবন যায়, কিছু মানুষ আহত হয়। আর কিছু মানুষের চাকরি যায়। কিন্তু নেতা-নেত্রীরা রাতের আঁধারে তাদের ভাগটা পেয়ে যায়, ভাগ পেয়ে তারা সন্তুষ্ট হয়ে যায়। তখন গড়ে ওঠা আন্দোলনকে তারা ব্ল্যাকমেইলিং করে। এভাবে যুগ যুগ ধরে নেতা-নেত্রীর কপালের পরিবর্তন হলেও সাধারণ শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘তারা (বামপন্থি নেতা-নেত্রী) আবার শ্রেণি-সংগ্রামের আওয়াজ তোলেন। তারা বলেন, শ্রেণি শত্রু খতম করতে হবে। শত্রু কারা? শত্রু হচ্ছে মালিকপক্ষ। আচ্ছা, মালিকও যদি না থাকে তাহলে শ্রমিকটা কাজ করবে কোথায়? আমরা ওই খতমের রাজনীতিতে বিশ্বাসী না। আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা, ভালোবাসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী।’

জামায়াত আমির বলেন, মালিক শ্রমিকের উপর ইনসাফ করলে শ্রমিক কাজ করবে। তবে মালিক যদি শ্রমিককে ঠকায়, তাহলে ওই শ্রমিক নিজের সর্বোচ্চ উজাড় করে মালিকের জন্য কিছু করবে না। এতে উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে সংসদ হবে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। বিরোধী দল গালগল্প করা বা ইতিহাসের মাস্টার হতে সংসদে যায়নি। সেখানে বিরোধী দল গিয়েছে দুঃখী মানুষের পক্ষে কথা বলতে। শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে সংসদের ভিতরে ও বাহিরে লড়াই চলবে। শ্রমিকদের ন্যায্যতা ও মর্যাদা যতদিন প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন লড়াই অব্যাহত থাকবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির আনম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ প্রমুখ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান।