

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের কমান্ডার এ কে নিয়াজী সম্মিলিত ভারতীয় বাহিনীর জিওসি-ইন-চিফ জেনারেল অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটে এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়। এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কোন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। মওদুদ আহমদ তার ‘শেখ মুজিবের শাসনকাল’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘শেষ মুহূর্তে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার (পরবর্তীতে এয়ারভাইস মার্শাল) ভারতীয় বাহিনীর সহগামী হিসাবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।’
যে আত্মসমর্পণ দলিল স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হলো, সেই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না কেন, কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিনায়কের কাছেই বা পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ করলো না কেন, এটি একটি বহুল উচ্চারিত প্রশ্ন। এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর আজও মেলেনি। তবে বিখ্যাত সাংবাদিক এন্টনি মাসকারেনহাসের একটি সাক্ষাৎকার থেকে উত্তর কিছুটা মিলেছে। ১৯৮৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রায়’ এ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। বিচিত্রার পক্ষ থেকে তার কাছে প্রশ্ন ছিল : ‘আপনি লিখেছেন, পাকিস্তানি সৈন্যরা ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আমরা জানি, তারা যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?’ উত্তরে তিনি বলেন : ‘ননসেন্স, জেনারেল অরোরার আনুগত্য হলো ভারতীয় বাহিনীর প্রতি। কি করে তিনি অন্য কারো প্রতি আনুগত্য দেখাতে পারেন? জেনারেল অরোরা এই এলাকার ভারতীয় বাহিনীর অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন। আত্মসমর্পণের পর আমি জেনারেল অরোরা ও ফিল্ড মার্শাল মানেকশ’র সঙ্গে আলাপ করি। আমি বলি ভারতীয় বাহিনী সাহায্য করেছে এ জন্যে বাংলাদেশিরা কৃতজ্ঞ। ইন্দিরা গান্ধী এ ব্যাপারে অত্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আপনারা কেন বাংলাদেশিদের কাছে তাদের শত্রুদের আত্মসমর্পণ করালেন না? তাদের একজন আমাকে বলেন, কি করে আপনি আশা করেন, ভারতীয় বাহিনী সহস্র বছরের মধ্যে তাদের প্রথম বিজয়ের ফল অন্যের হাতে তুলে দেবে?’বিজয় দিবস
এ থেকে এটি পরিষ্কার, ভারতের সমরনায়করা এই বিজয়কে তাদের হাজার বছরের মধ্যে ‘প্রথম বিজয়’ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। তাদের এ উক্তি হাজার বছর ধরে উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ-সঙ্ঘাতের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। সম্ভবত এ জন্যে ভারত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে দেয়নি। বিজয়ের দিন প্রবাসী সরকারের কলকাতায় অবস্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর হেলিকপ্টারে রহস্যজনক হামলার ঘটনা আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধির উপস্থিত হতে না দেয়ার পরিকল্পনার অংশ কি-না সেটি বিবেচনার দাবি রাখে।
মুক্তিযুদ্ধ ছিল এক অনিবার্য বাস্তবতা। ‘সত্তরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের গড়িমসি ও ষড়যন্ত্র এবং ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকবাহিনীর বর্বরতম গণহত্যা এই মুক্তিযুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল। স্বাধীনতা ঘোষণা ও পাকবাহিনীকে বাংলাদেশের ভূমি থেকে বিতাড়িত করা ছাড়া এ দেশের মানুষের সামনে তখন আর কোনো বিকল্প পথ বা উপায় ছিল না। স্বভাবতই স্বাধীনতা ঘোষিত হয় এবং শুরু হয় দেশকে হানাদারমুক্ত স্বাধীন করার লড়াই। শেখ মুজিব ছাড়া আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। অন্যান্য কয়েকটি দলের নেতারাও ভারতে চলে যান। তাদের জন্যে আগে থেকেই সীমান্ত উন্মুক্ত করে রাখা হয়েছিল। ভারত সরকারের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ নেতারা সেখানে প্রবাসী সরকার গঠন করে এবং ভারত থেকে আশ্রয়, খাদ্য, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র এবং রসদ জোগান দেয়া হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতি সমর্থন দানকারীদের বাইরে অন্যান্যের সহায়তা না করার জন্যে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করলেও বহু রাজনৈতিক দল ও ক্যাডারবাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং ভারতকেই নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গঠিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে পাকবাহিনীর পরাজয় যখন প্রায় নিশ্চিত, ঠিক সেই সময় ভারতীয় বাহিনী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ১৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনী পরাজয় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করে। এই যুদ্ধে পাকবাহিনীর হাতে দেশের লাখ লাখ মানুষ শাহাদতবরণ করে। বাড়িঘর সহায়-সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, এত কম সময়ে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নিহত হওয়ার ঘটনা বিশ্বের আর কোনো দেশে ঘটেনি।
স্বাধীনতার জন্যে দীর্ঘ ৯ মাসের লড়াই এবং বিপুল রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ে বাংলাদেশের মানুষের আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি নেই। এটা ভাবতে বিস্মিত হতে হয়। বিজয়ের কৃতিত্ব ভারত ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। পাকবাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর অসাধারণ বীরত্ব ও সাহসিকতার পরিচায়ক। অথচ এই অহঙ্কার ও আত্মশ্লাঘা থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করা হয়েছে। গোটা কৃতিত্ব ও বিজয়কে দেখানো হলো ভারতীয় বিজয় হিসেবে। এর থেকে দুর্ভাগ্যের আর কী হতে পারে! শুধু তখনই নয় এখনো ভারত ওই বিজয়কে তার ইস্টার্ন কমান্ডের বিজয় হিসেবেই দেখে থাকে। ওই যুদ্ধের বিজয় যদি ভারতের কাছে হাজার বছরের মধ্যে প্রথম বিজয়’ (জেনারেল মানেকশ’ অথবা জেনারেল অরোরার মতানুসারে) হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের কি? আমাদের বিজয় কোথায়? বিজয় দিবস?
মুক্তিযুদ্ধকে ভারত সেদিন কি চোখে দেখেছিল এবং এখনো দেখে থাকে, তা এ প্রসঙ্গে অবশ্যই গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে। ভারতীয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর তৎকালীন অন্যতম পরিচালক কে, সুব্রামানিয়ামের বক্তব্য থেকেই শুরু করা যেতে পারে। ৩০ মার্চ, ১৯৭১, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে তিনি বলেন, ‘যে বিষয়টি ভারতের উপলব্ধিতে আনতে হবে, সেটি হলো পাকিস্তানের ভাঙন আমাদের স্বার্থেই আসবে। এ জাতীয় সুযোগ কখনো আসবে না।’ অর্থাৎÑ ভারতীয় উপলব্ধিতে এটা ছিল ভারতের জন্য পাকিস্তান ভেঙে ফেলার একটি সুযোগ যা ভবিষ্যতে আর আসবে না। কে, সুব্রামানিয়াম যৌথভাবে মোহাম্মদ আইউব এবং তার লেখা ‘দ্য লিবারেশন ওয়ার’ গ্রন্থের ভূমিকায় ঠিক অনুরূপ বক্তব্যই রেখেছেন। বলেছেন, ‘ভারতের জন্য এটা এমন এক ঘটনা যা শতাব্দীতে আর ঘটেনি।’ তার ভাষায়, ২৫ মার্চ হামলাকে অখ- পাকিস্তানকে খ-িত করার জন্যে শতাব্দী বিরল ঘটনা। (মাসুদুল হক, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘র’ ও সিআইএ’ দ্রষ্টব্য)। ‘শতাব্দী বিরল’ এই ঘটনা ঘটানোর জন্যে অর্থাৎ পাকিস্তান খণ্ডবিখণ্ড করার জন্যে ভারত ও ভারতীয় গেয়েন্দা সংস্থা যে বহু আগে থেকেই তৎপর ছিল তার প্রমাণের অভাব নেই। ‘স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র’ শীর্ষক গ্রন্থে বেলাল মোহাম্মদ একটি ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন যা থেকে বুঝা যাবে, কত আগে থেকে বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা ভারত শুরু করেছিল। বেলাল মোহাম্মদ লিখেছেন, ‘তখন ভর সন্ধ্যা। হঠাৎ করে চলে গিয়েছিল বিদ্যুৎ। ড. ত্রিগুণা সেন মুখ্যমন্ত্রীর (ত্রিপুরার) পিঠে চাপড় বসিয়ে বলেছিলেন : কী মন্ত্রিত্ব করছ? মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে কারেন্ট চলে যায়!’
মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির লনে ড. ত্রিগুণা সেন আমার কাঁধে হাত রেখেছিলেন। লোকজনের জটলা থেকে সরে এসেছিলাম এক প্রান্তে। বলেছিলাম, আমরা কবে স্বাধীন হবো? তিনি বললেন; ইয়ংম্যান, কাজ করে যাও। ১ নভেম্বর ঢাকায় বিজয় উৎসব হবে। জানো, ১৯৪৯ সালে আমরা বাংলাদেশ সেল প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। তখন থেকে ওই সেলের দায়িত্বে। এতদিন পরে দুই নদীর স্রোত মিশেছে এক মোহনায়। সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম মুখোমুখি। বলেছিলাম, স্যার, আমি পাকিস্তান রেডিওতে স্ক্রিপ্ট রাইটারের কাজ করতাম, ‘সিগনিফিক্যান্ট’ নামে একটি কনফিডেনসিয়াল তথ্য পত্রিকা আমাকে দেয়া হতো কাউন্টার প্রোগ্রামের একটি ডাটা হিসেবে ব্যবহারের জন্য। বলা হতোÑ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভারত চাইছে কি করে পাকিস্তানকে ভেঙে দেয়া যায়। আপনারা ১৯৪৯ সালে বাংলাদেশ সেল গঠন করেছেন, তাহলে তো ওই ডাটাটি মিথ্যে নয়।
ড. ত্রিগুণা সেন অপ্রস্তুত হয়েছিলেন। আমাকে চুপ করিয়ে দিয়ে বলেছিলেন : ছিঃ এসব কথা বলতে নেই খোকা! (ড. ত্রিগুণা সেন ছিলেন ভারতের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর)
পরবর্তী সময় অক্টোবরের মধ্যভাগে ড. সেনের সঙ্গে কলকাতায় দেখা। বাংলাদেশ মিশনের রাস্তায়। তিনি গেট দিয়ে বের হচ্ছিলেন। আমি ভেতরে যাচ্ছিলাম। প্রণাম জানিয়ে সামনা সামনি দাঁড়িয়েছিলাম। এই যে খোকা, তোমরা তো এখনো কলকাতাতেই আছ। কেমন আছ?
ভালো আছি স্যার। কিন্তু আপনি যে বলেছিলেন, ১ নভেম্বর ঢাকায় বিজয় উৎসব হবে। আর তো ১০-১৫ দিন বাকি নভেম্বরের। লক্ষণ কিছুই দেখা যাচ্ছে না। একটু হকচকিয়ে গিয়েছিলেন ড. ত্রিগুণা সেন। বলেছিলেন, তা কথাটা আমি কখন বলেছিলাম হে! এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে স্যার। আগরতলায়। আমি তো জ্যোতিষীর মতো ভবিষ্যতবক্তা নই। সেটি ছিল পলিটিক্যাল এজামশন। যুদ্ধের স্ট্রাটেজি পরিবর্তন হয়ে থাকে অহরহ। তবে এখন আবার বলছি ১ নভেম্বরের আর বিলম্ব নেই। কিন্তু মিডল অব ডিসেম্বর। আশা করি, এর মধ্যে পর্যাপ্ত সময়ের মার্জিন আছে, ওয়েট অ্যান্ড সি।’
ড. ত্রিগুণা সেনের কথা অনুযায়ী, ভারত কবে থেকে পাকিস্তান খ-িত করার জন্য কাজ শুরু করেছিল তার একটি হদিস পাওয়া যায়। আরো বুঝা যায়, তথাকথিত ‘বাংলাদেশ সেল’ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মাস খানেকের মধ্যেই প্ল্যান-পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ফেলেছিল ঢাকায় বিজয় উৎসব কোন তারিখে হবে। লক্ষণীয়, অক্টোবরে তিনি যে ‘ফোরকাস্ট’ করেছিলেন সে অনুযায়ীই ১৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান সম্পাদিত হয়েছিল এবং ঢাকায় লাখ লাখ লোকের বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভারতীয় পরিকল্পনা কতটা সুদূরপ্রসারী ও নিখুঁত ছিল এ থেকে ধারণা করে নেয়া যায়।ভারত সংস্কৃতি
বাংলাদেশে ভারতের কার্যকলাপের আর একটি তথ্য নির্দেশ করেছেন মাসুদুল হক। তার ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ‘র’ এবং ‘সিআইএ’ গ্রন্থে তিনি লিখেছেন : ‘১৯৬২ সালে চীন-ভারত সীমান্ত যুদ্ধে আইউব খানের ভূমিকায় পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে ভারত। পাকিস্তানকে দুর্বল করার লক্ষ্যে সে পূর্বপাকিস্তানকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নেয়। ভারতীয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ওপর সে পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্ব অর্পিত হয়।’ মাসুদুল হক আরো লিখেছেন : ‘১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিস্তান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (Director of Intelligence Bureau DIB.) জানতে পারে, কলকাতায় ভবানীপুর এলাকায় একটি বাড়িতে, যা ছিল ভারতীয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অপারেশনাল সদর দফতর, সেখানে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ নামে একটি গোপন সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। তার উদ্দেশ্য : পাকিস্তান-রাষ্ট্র থেকে পূর্বপাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রে পরিণত করা। পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থা এও জানতে পারে, চিত্তরঞ্জন সুতার ও কালিদাস বৈদ্য নামক দুই পাকিস্তানি নাগরিকের সাথে এই গোপন সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে।’ (চিত্তরঞ্জন সুতার ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নমিনেশন নিয়ে পূর্বপাকিস্তান পরিষদে সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হতেই ভারতে চলে যান। ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিব নিহত হওয়ার পরপরই ভারতে চলে যান। কালিদাস বৈদ্য ১৯৭০ সালের নির্বাচনে গণমুক্তি পার্টির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন এবং হেরে যান। এরা দুজনই পিরোজপুর জিলার নাজিরপুর উপজিলার বাসিন্দা ছিলেন।)
তথাকথিত স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ বাংলাদেশের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলো বিশেষ করে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে বলে পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পারে। কিন্তু ছাত্রদের মধ্যে এই সংগঠনের কর্মতৎপরতা জানতে ব্যর্থ হয়।’ মাসুদুল হক আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক এবং তোফায়েল আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, ‘১৯৬২ সালেই এ দু’জন (তৎকালীন ছাত্রনেতা) স্বাধীনতার দাবি সম্বলিত লিফলেট পেয়েছিলেন।’ মাসুদুল হক আরো জানিয়েছেন, ‘যদিও ভারতীয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা পরিচালিত চিত্তরঞ্জন সুতার ও কালিদাস বৈদ্যের স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের তৎপরতা শুরু হয় ১৯৬২ সালে, ছাত্র সমাজের মধ্যে এই সংগঠনটি গড়ে ওঠে ১৯৬৪ সালে। ওই বছর জুলাই মাসে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ মূলত গঠিত হয় সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে। তিনি তখন পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। আবদুর রাজ্জাক তখন পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক। তাকে এবং তৎকালীন ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা কাজী আরেফ আহমেদকে নিয়ে গঠিত হয় স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের তিন সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় সেল।’ মাসুদুল হক উল্লেখ করেছেন, ‘১৯৬৮ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা পুনর্গঠিত করে ‘রিসার্স অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং-র’ করার পর স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রদের মধ্যে ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।’ স্মরণ করা যেতে পারে, সালের ২৫ মার্চের আগেই ছাত্রলীগের এই স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ অংশ স্বাধীনতার দাবিতে ব্যাপক তৎপরতা প্রদর্শন করে। এরা ছাত্রলীগে স্বাধীনতাপন্থি বা একদফাপন্থি বলে পরিচিতি লাভ করে।বিজয় দিবস
তথ্য প্রমাণাদি থেকে এটিও অনুধাবন করা যায়, স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের এক শ্রেণির নেতার এমনকি স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমানেরও যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাছাড়া চিত্তরঞ্জন সুতার তো ’৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগেই ছিলেন। ওই সংগঠনের কর্মকা- ও উদ্দেশ্যাবলির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কর্মকা-ে সাদৃশ্য-সঙ্গতি থাকা তাই অসম্ভব নয়। ‘৭১ সালের ১৫ মার্চের পরে শেখ মুজিব যে, ‘র’-এর ডিজাইনের সঙ্গে একেবারে একাত্ম হয়ে পড়েছিলেন সেটি বুঝা যায়, তার সেই নির্দেশের মধ্যে যা তিনি দিয়েছিলেন চার যুবনেতা সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মনি, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমদকে। মাসুদুল হক লিখেছেন, চার যুবনেতাকে তাজউদ্দীনকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রথম কথা হলো স্বাধীনতার প্রশ্নে সংগ্রাম করতে হবে এবং সশস্ত্র বিপ্লব করতে হবে।’ শেখ মুজিব তাদের যে ঠিকানা দিয়েছিলেন তা কলকাতায় চিত্তরঞ্জন সুতারের ঠিকানা ২১ রাজেন্দ্র রোড। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, চিত্তসুতার অসহযোগ আন্দোলনের শুরুতেই কলকাতায় চলে গিয়েছিলেন।
এসব ঘটনা থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ভারত প্রস্তুতিমূলক যাবতীয় কাজই সম্পন্ন করে রেখেছিল। সুযোগের অপেক্ষায় ছিল কেবল। পাকবাহিনীর নির্বিচার গণহত্যা সেই সুবর্ণ সুযোগ তাদের এনে দিয়েছিল। ওই সময় যুদ্ধ ছাড়া, স্বাধীনতা ছাড়া বাংলাদেশের মানুষের আর কিছু করারও ছিল না। মার্চের আগে থেকেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নজর ছিল বাংলাদেশে কী ঘটছে তার ওপর। তখন বাংলাদেশকে বেষ্টন করে মোতায়েন ছিল ৬ ডিভিশনের বিশাল ভারতীয় বাহিনী। পরে কাশ্মিরের লাদাখ থেকে চতুর্থ মাউনটেইন ডিভিশনও পশ্চিম বাংলায় আনা হয়। ৩০ মার্চেই সুব্রামানিয়াম বাংলাদেশে সামরিক তৎপরতা পরিচালনার যে গুরুত্ব তুলে ধরেন তাকে সায় দেন কংগ্রেস ও বিরোধী দলের কিছু সদস্য। অভিন্ন মতামত দেন কয়েক অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলও। তারা ইন্দিরা গান্ধীকে অবিলম্বে বাংলাদেশে সামরিক কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ জানালেন। কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল অবিলম্বে সামরিক কার্যক্রম গ্রহণের পক্ষে প্রকাশ্যে এই যুক্তি উত্থাপন করে বলেন, সমুদ্র পথে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও রসদপত্র আনয়নের মাধ্যমে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিজেকে শক্তিশালী করার আগেই পূর্বাঞ্চলকে মুক্ত করতে হবে। তারা যুক্তি দেখালেন : ভারত পাকিস্তানকে যত বেশি সময় দেবে সামরিক দিক দিয়ে কার্যক্রম তত ব্যয়বহুল হবে। কার্যক্রম গ্রহণের সময় এখনি তারা সমস্বরে বললেন। তাদের কেউ কেউ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এ এইচ এফ জে মানেকশ’কে এই বলে অভিযুক্ত করলেন, তিনি শীতল মনোভাব দেখাচ্ছেন।
তারা এই যুক্তি উত্থাপন করেন ঈশ্বর প্রদত্ত এই সুযোগকে কোনো অবস্থাতেই হাতছাড়া করা উচিত হবে না। (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘র’ ও ‘সিআইএ’ দ্রষ্টব্য)
বিচক্ষণ ইন্দিরা গান্ধী, র পরিচালক কে, সুব্রামানিয়াম অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলদের অভিমত ও যুক্তির গুরুত্ব অনুধাবন করে আরো কিছু সময় নেয়ার নীতি গ্রহণ করেন। কারণ, ওই সময় বাংলাদেশে সামিরিক কার্যক্রম গ্রহণ করলে প্রতিবেশীর অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সে ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারত। এর পরের ঘটনাবলি অর্থাৎ প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠন, মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা, উদ্বাস্তু গ্রহণে উদার নীতি গ্রহণ এবং মুক্তিসংগ্রামে ভারতীয় সাহায্য ও সহযোগিতা উন্মুক্ত করে দেয়ার ঘটনা সবারই জানা। এছাড়া বহির্বিশ্বে ভারতীয় মিত্র অনুসন্ধান, ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদির মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিকভাবেও একটা ভালো অবস্থান অধিকার করতে সমর্থ হয়। অক্টোবরের আগেই মোটামুটি চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যায়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চাচ্ছিল, বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের তরফ থেকে বাংলাদেশে ভারতীয় সামরিক অভিযান চালানোর অনুরোধ জানানো হোক। সম্ভবত এ রকম অনুরোধ আগ বাড়িয়ে অনেকে করেছিলেনও। এক দলের আওয়মী লীগ নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে (দৈনিক বাংলাবাজার ৪ ডিসেম্বর ১৯৯৩) ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে একটি অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন। ১৩ জুলাই আসামের মেঘালয়ের টুরা জিলার টুরা সার্কিট হাউজে তিনি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে বলেছিলেন : Madam, what’s the use to train only six thousands boys a month at a time when Pakistani regime has been training thousands of person. Besides 20 thousands civil armed forces with Biharies only to kill the civillians. Insteed you please send your army to Conquer East Pakistan on our behalf. তিনি আমাকে বললেন, আপনি এই ব্যাপারে লিখিত সুপারিশ দিন।রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব
এই ধরনের অভিমত ও সুপারিশ পাওয়ার পরও পুরাপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্যে ভারত সরকার তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারকে অক্টোবর মাসে এক গোপন চুক্তির মাধ্যমে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে। এই চুক্তি সাত দফা চুক্তি নামে পরিচিত। আজও সংশ্লিষ্ট কেউ এ চুক্তির কথা অস্বীকার করেনি। চুক্তির শর্তগুলো ছিল এ রকম :
১. যারা সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে শুধু তারাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োজিত থাকতে পারবে। বাকিদের চাকরিচ্যুত করা হবে এবং সেই শূন্যপদ পূরণ করবে ভারতীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
২. বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভারতীয় সৈন্য বাংলাদেশে অবস্থান করবে (কতদিন অবস্থান করবে তার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি)। ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাস থেকে আরম্ভ করে প্রতিবছর এ সম্পর্কে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য দুদেশের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
৩. বাংলাদেশের কোনো নিজস্ব সেনাবাহিনী থাকবে না ।
৪. আভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্যে মুক্তিবাহিনীকে কেন্দ্র করে একটি প্যারা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করা হবে।
৫. সম্ভাব্য ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অধিনায়কত্ব দেবেন ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান, মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক নন এবং যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর অধিনায়কত্বে থাকবে।
৬. দুদেশের বাণিজ্য হবে বছরওয়ারী এবং যার যা পাওনা সেটা স্টার্লিংয়ে পরিশোধ করা হবে এবং
৭. বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রশ্নে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলবে এবং ভারত যতদূর পারে এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে।’ (’বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘র’ ও ‘সিআইএ’ দ্রষ্টব্য)
বাংলাদেশের জনগণের জন্যে এই চুক্তি ছিল অত্যন্ত অবমাননাকর ও হুমকিস্বরূপ। সার্বভৌম ক্ষমতায় বিশ্বাসী কোনো দেশ বা তার সরকার অন্য কোনো দেশ বা সরকারকে এ ধরনের গোলামি চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করতে পারেনা। সম্ভাব্য স্বাধীন বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্য ও লুটপাট যাতে নিশ্চিতভাবে অব্যাহত থাকতে পারে তার লক্ষ্যেই ভারত তার আশ্রিত দুর্বল ও অসহায় বাংলাদেশ সরকারকে দিয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। ভারত-সোভিয়েট মৈত্রী চুক্তি এবং বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের সঙ্গে সাত দফা চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ভারত যুদ্ধের জন্য রাজনৈতিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। ওদিকে সামরিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ অভিযানের প্রস্তুতিও চূড়ান্ত হয়ে যায়। অতঃপর শুরু হলো সেই যুদ্ধ এবং অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ভারতীয় বাহিনীর হাজার বছরের মধ্যে প্রথম ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হলো। উপেক্ষিত হলো বাংলাদেশের মানুষের জীবনদান ও আত্মত্যাগের গৌরবময় ইতিহাস। ইতিহাসের ফলাফল ডাকাতির এ রকম নজির বিশ্বের ইতিহাসে বোধ করি আর নেই।ঐতিহ্যবাহী পোশাক
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে দুর্বল করে দেয়া এবং বাংলাদেশে তার প্রভুত্ব কায়েম করা।
১৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ভারতের প্রথম উদ্দেশ্য অর্থাৎÑ পাকিস্তানকে দ্বিখ-িত ও দুর্বল করার কাজ সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য তথা বাংলাদেশে পূর্ণ আধিপত্য ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার কাজ, যা পতিত স্বৈরাচারে আমলে প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দেয়। স্বৈরাচার ভারতে পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করে। মনে রাখতে হবে, ভারত তার লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি। তাই ভারতীয় আধিপত্যবাদের সম্পর্কে বাংলাদেশীদের সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :