

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক আজ জুমার খুতবা পূর্ব বয়ানে বলেন, নবী (সা.) সিরাত ঈমানের একটি শাখা। আল্লাহর পরেই নবী (সা.) কে বেশি ভালোবাসতে হবে। নবীর নাম মানেই ঈমানের অংশ। নবী (সা.) খাতামুন নাবিয়্যিন। অর্থাৎ তিনিই শেষ নবী। খতিব বলেন, যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে মোহাম্মদ (সা.) এর প্রতি যা কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে সবকিছুকে হক মনে করে ঈমান এনেছে তাদের আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ রাসূল (সা.) এর মাধ্যমে শরীয়তের নেয়ামত দান করেছেন। তাঁর প্রসিদ্ধ নাম হচ্ছে মোহাম্মদ (সা.)। আল্লাহ রাসূল (সা.) এর প্রশংসা করেছেন। ফেরেশতাগণ, গোটা মাখলুকাত এবং যুগে যুগে নবীগণ নবী (সা.) এর প্রশংসা করেছেন। নবী (সা.) আল্লাহর সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করেছেন। এ জন্য তাঁর আরেক নাম আহমাদ।
আল্লাহ রাসূল (সা.) দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত করেছেন। আল্লাহ রাসূল (সা.) এর মাধ্যমে কুফর শিরক দূর করে দুনিয়ায় দ্বীনের আলো প্রতিষ্ঠা করেছেন। খতিব বলেন, নবী (সা.) এর শিক্ষা আদর্শকে যে সমাজ অনুসরণ করবে সে সমাজে দুর্নীতি, অন্যায় অবিচার থাকতে পারে না। খতিব বলেন, কিয়ামতের আগে ঈসা (আ.) জমিনে আসবেন। তিনি ইঞ্জিল কিতাবের বার্তা নিয়ে আসবেন না।
তিনি আখেরি নবী (সা.) এর আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করবেন। খ্রিস্টানরা মুসলমানদের খ্রিস্টান বানানোর অপচেষ্টা করে প্রতারণা করছে। খতমে নবুওয়্যাতের আকিদা ঈমানের আকিদা। খতিব বলেন, নবী (সা.) তওবার ডাক দিয়ে গেছেন। তিনি দৈনিক তওবা করতেন। নবী (সা.) বলেছেন, তোমাদের জন্য তওবার দরজা ও রহমতের দরজা খোলা রয়েছে। আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করতে হবে। সকল প্রকার পাপাচার গুনাহ থেকে ফিরে আসতে হবে। তাকওয়া অবলম্বন করতে পারলে আল্লাহ ইস্তেগফারের জিন্দেগি ও তওবার জিন্দেগি দান করবেন।
ঢাকার মোহাম্মদপুরস্থ শ্যামলী শাহী মসজিদের খতিব ড. মুফতি মো. মোরশেদ আলম সালেহী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহ তাআলার সর্বশেষ রাসূল এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত শ্রেষ্ঠতম পথপ্রদর্শক। তাঁর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি শুধু একটি জাতি বা ভূখণ্ডের জন্য নন; তাঁর আগমন সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত।
আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।” সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭। নবীজির মর্যাদার অনন্য আরেকটি দিক হলো, আল্লাহ তাআলা নিজেই তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে একটি আমল করেন এবং ফেরেশতাকুলসহ সকল মুমিন-মুমিনাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ কর।” সূরা আল-আহযাব: ৫৬। এছাড়া আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, “আমি আপনার আলোচনাকে সমুচ্চ করেছি।” আল-ইনশিরাহ: ০৪। সহিহ হাদিসে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন আমি আদমসন্তানের নেতা হব। সর্বপ্রথম আমার কবর উন্মুক্ত হবে, আমিই সর্বপ্রথম সুপারিশ করব এবং সর্বপ্রথম আমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।” সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২৭৮। নবীজির আজমত উপলব্ধি করা মানে শুধু তাঁর প্রশংসা করা নয়; বরং তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা, যথাযথ তাজিম ও সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর আদর্শকে জীবনে ধারণ করা। রাসূল (সা.) এর চরিত্র ছিল কুরআনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। তিনি মানুষকে সত্য, ন্যায়, দয়া, ক্ষমা, আমানতদারি ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছেন। তাই নবীপ্রেমের প্রকৃত দাবি হলো—তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ, তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে তাঁর মহান আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।
নবীজির (সা.) আজমত আমাদের ঈমানকে শক্তিশালী করুক এবং তাঁর ভালোবাসায় আমাদের জীবন আলোকিত হোক।
মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী আজ জুমার খুতবা পূর্ব বয়ানে বলেন, মজুদদারি, অবৈধ মুনাফা ও অপচয় রোধ করতে পারলেই দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দূর করা সম্ভব। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও চাঁদাবাজির সকল পথ রুদ্ধ করা শর্ত। রাজা-প্রজা, শাসক-শাসিত, ক্রেতা-বিক্রেতা ও সর্বসাধারণ সকলকেই তাকওয়া, আমানতদারি এবং ব্যবহারে সংযমী পন্থা অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় পণ্য অযথা মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মিথ্যা বলে দাম বাড়ানো, ওজনে কম দেওয়া, অস্বাভাবিক মুনাফার লোভে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো সম্পূর্ণ হারাম। তদ্রূপ বিনা প্রয়োজনে বেশি পণ্য কিনে জমিয়ে রাখা, গুজব শুনে আতঙ্কিত হয়ে বাজার খালি করা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কিনে অন্যের সংকট সৃষ্টি করা ইসলাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সামর্থ্য অনুযায়ী স্থানীয় ও প্রয়োজনীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব। অনুরূপ বিদ্যুৎ সংকট দূরীকরণে মসজিদ-মাদরাসা, দোকানপাট, অফিস-আদালতসহ সব ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারে কোনোরকম অপচয় করা যাবে না। সার্বিক ক্ষেত্রে মনিটরিংসহ সংকট দূরীকরণে বৈধ পন্থায় নতুন নতুন উপায়ান্তর বের করার জন্য দক্ষ অভিজ্ঞ কৌশলীদের গবেষণার কাজ চালিয়ে যাওয়াও ইসলামের নির্দেশনা। সাথে সাথে মহান রবের কাছে পেছনের ভুলত্রুটি, অন্যায়-অবিচার ও গুনাহ থেকে পানাহ চেয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করা এবং তাঁর কাছেই আত্মসমর্পণ ও দোয়া অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। কারণ এটা মহান আল্লাহর বান্দার প্রতি এক মহান পরীক্ষা। এই মহান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেই বান্দা সফলকাম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।”— সূরা আল-বাকারা: ১৫৫। অন্যত্র তিনি বলেন, “ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়; যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নিলে পূর্ণ নেয়, কিন্তু তাদেরকে মেপে বা ওজন করে দিলে কম দেয়।” সূরা মুতাফফিফীন: ১-৩। আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন, “তোমরা অপচয় করো না। নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” সূরা আল-ইসরা: ২৬-২৭। তিনি আরও বলেন, “তোমরা খাও, পান করো; কিন্তু অপচয় করো না।”
সূরা আল-আ‘রাফ: ৩১। হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি মজুতদারি করে, সে অপরাধী।” সহিহ মুসলিম। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, “আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন।”— সূরা নূহ: ১০-১২। হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতদেরকে এ জন্য দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন, যার বাংলা রূপ, হে আল্লাহ! আমাদের বাজার, রিজিক ও সম্পদে বরকত দিন। আমাদেরকে মূল্যবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য থেকে রক্ষা করুন। টাটকা, প্রশস্ত, পবিত্র ও হালাল রিজিক দান করুন। আমাদের অন্তরসমূহে ঐক্য সৃষ্টি করুন এবং আমাদের থেকে বিপদ, মূল্যবৃদ্ধি ও মহামারি দূর করুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে উপরোক্ত বিধান পালন করা ও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা দোয়া পাঠ করার তৌফিক দান করুন। আমিন। ঢাকাস্থ দক্ষিণ মুগদা ব্যাংক কলোনি রসুলবাগ জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসউদ আজ জুমার পূর্ব বয়ানে বলেন, ঈমান শুধু মুখে কালিমা উচ্চারণের নাম নয়, বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর হুকুমের সামনে আন্তরিকভাবে আত্মসমর্পণ করার নাম। একজন মুমিনের জীবনে আল্লাহর বিধানই সর্বোচ্চ। নিজের পছন্দ, প্রবৃত্তি, স্বার্থ কিংবা সীমিত বুদ্ধির চেয়ে আল্লাহর হুকুমকে অগ্রাধিকার দেওয়াই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তাই একজন মুমিন সর্বদা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের মানসিকতা লালন করে। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের পরিচয় দিতে ইরশাদ করেন—”তাদের কথা হলো, আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম।” সূরা আন-নূর: ৫১।
খতিব বলেন, একজন মুমিন আল্লাহর বিধানকে নিজের পছন্দের ওপর স্থান দেয় এবং এর হেকমত জানা না থাকলেও তার হুকুম মেনে নেয়। যেমন একজন রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিজের ইচ্ছার চেয়ে অগ্রাধিকার দেয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—”আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলে কোনো মুমিন পুরুষ ও নারীর সে বিষয়ে নিজেদের কোনো পছন্দের অধিকার থাকে না।” সূরা আল-আহযাব: ৩৬।
খতিব বলেন, মানুষের মতামত ভুল হতে পারে, তাই কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলে মুমিন কুরআন-সুন্নাহর দিকে ফিরে যায় এবং এই বিষয়ে সমাধান পাওয়ার পর মুমিন নিঃসংকোচে তা মেনে নেয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—”কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতবিরোধ হলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।” সূরা নিসা: ৫৯। অন্যত্র ইরশাদ করেন—”তারা আপনার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিজেদের অন্তরে কোনো সংকীর্णতা পাবে না এবং পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করবে।” সূরা নিসা: ৬৫। অর্থাৎ শুধু বাহ্যিকভাবে কোনো হুকুম পালন করাই যথেষ্ট নয়, অন্তর থেকেও আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা ও আনুগত্য থাকতে হয়। খতিব আরও বলেন, সব মানুষ সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয় না। যেমন অসুস্থ হলে মানুষ চিকিৎসকের কাছে যায়, তেমনি জটিল শরয়ি বিষয়ে সাধারণ মুমিনের কর্তব্য হলো যোগ্য আলেমের কাছে ফিরে যাওয়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—”তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করো।” সূরা নাহল: ৪৩। পরিশেষে খতিব বলেন, মুমিনের জীবন একটি বাক্যে প্রকাশ করা যায়—”আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম।” এ আত্মসমর্পণই ঈমানের সৌন্দর্য এবং একজন মুমিন বান্দার প্রকৃত পরিচয়। ঢাকার মুগদা উত্তর মান্ডা বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব সাইখুল হাদিস মুফতি ফয়জুল্লাহ জীবনপুরী খুতবার পূর্ব বয়ানে বলেন, ইসলাম ধর্মে নসিহত বা উপদেশ গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম। একজন মুমিনের ব্যক্তিগত চরিত্র গঠন, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথকে সুগম করতে রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের বিভিন্ন সময় অত্যন্ত মূল্যবান ও জীবনঘনিষ্ঠ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। এমনই একটি অনুপম ও সর্বজনগ্রাহ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে প্রখ্যাত সাহাবি হযরত আবু জর গিফারি (রা.) থেকে, যেখানে তিনি আল্লাহর রাসূলের নিকট এমন কিছু চিরন্তন উপদেশের আবেদন করেছিলেন যা দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার চাবিকাঠি। হজরত আবু জর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে উপদেশ দিন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করলেন: এক:- “আমি তোমাকে আল্লাহর তাকওয়া (ভয় ও সচেতনতা) অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি, কারণ এটি তোমার সমস্ত কাজের সৌন্দর্য ও অলংকারস্বরূপ।” পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমনভাবে ভয় করা উচিত, ঠিক তেমনিভাবে ভয় করো এবং মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।” (সূরা আলে ইমরান: ১০২)। কোরআনের অন্য জায়গায় আল্লাহ বলেন, “আর যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য মুক্তির কোনো না কোনো পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাই করতে পারে না।” (সূরা আত-তালাক: ২-৩)। হাদিসে হযরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে ইরশাদ করেছেন: “তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো; আর কোনো মন্দ কাজ হয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ ভালো কাজ করো, যা পূর্বের মন্দকে মিটিয়ে দেবে; এবং মানুষের সাথে সুন্দর ও সদ্ব্যবহার করো।” (সুনান আত-তিরমিজি: ১৯৮৭)
আমি নিবেদন করলাম: আমাকে আরও কিছু বলুন। তিনি বললেন: দুই: “তোমার জন্য আবশ্যক হলো কুরআন তিলাওয়াত করা এবং আল্লাহর জিকির (স্মরণ) করা, কারণ এটি আকাশে তোমার স্মরণের মাধ্যম এবং পৃথিবীতে তোমার জন্য আলোর স্বরূপ।” হাদিসের অন্য জায়গায় নবীজি (সা.) বলেন, যার অন্তরে কুরআন নেই তা বিরান ঘরের ন্যায়। আমি নিবেদন করলাম: আমাকে আরও কিছু বলুন। তিনি বললেন: তোমার জন্য আবশ্যক হলো অধিক সময় চুপ থাকা (অনর্থক কথা পরিহার করা), কারণ এটি শয়তানকে বিতাড়িত করে এবং দ্বীনের কাজে তোমাকে সহায়তা করে।” হাদিসের অন্য জায়গায় নবীজি (সা.) বলেন, যে চুপ থাকে সে নাজাত পায়। তিনি বললেন: তুমি অধিক হাসি থেকে দূরে থাকো, কারণ তা অন্তরকে মৃত করে দেয় এবং চেহারার নূর (উজ্জ্বলতা) কেড়ে নেয়।”
আপনার মতামত লিখুন :