

নিজস্ব প্রতিবেদক, বেনাপোল যশোর থেকে:যশোরের শার্শা উপজেলায় শালিসের নামে এক বৃদ্ধকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা জোরপূর্বক আদায় করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় গোগা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধ নিজের সর্বস্ব জমিজমা বিক্রি করে এই টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ন্যায়বিচার চেয়ে গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী গোলাম হোসেন (৭৫)। তিনি শার্শার পাঁচ ভুলোট গ্রামের মৃত ওসমান মোড়লের ছেলে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখ শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গোলাম হোসেনের নিজ বাড়িতে একই গ্রামের আব্দুর রহমানের স্ত্রী সাথী খাতুন (২২) পান খাওয়ার কথা বলে প্রবেশ করেন।
অভিযোগকারীর দাবি, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ ছিল। সাথী খাতুন ঘরে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও কয়েকজন ব্যক্তি হুট করে ঘরে ঢুকে বৃদ্ধ গোলাম হোসেনকে আটকে ফেলে।
এরপর তারা জানায়, ওই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় গোগা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং তার সহযোগী আশরাফ আলী ও আবুল কাশেমের নিকট শালিসে উপস্থিত হতে হবে।
পরবর্তীতে ওই দিন সন্ধ্যায় সভাপতি মোহাম্মদ আলীর নির্দেশে আনসার হুজুরের বাসায় শালিস বসানো হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে কোনো প্রকার নিরপেক্ষ তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ বা তার নিজের কোনো বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই প্রথমে ৬ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। পরে তা কমিয়ে ৩ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে এবং ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
সেদিন শালিসে উপস্থিত মোঃ এরশাদ আলী নামের এক ব্যক্তি বৃদ্ধের জামিনদার হন এবং তার মধ্যস্থতায় ১৫ দিন সময় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গোগা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলীর নিজ বাসভবনে জামিনদার এরশাদ আলী নগদ ৩ লক্ষ টাকা সভাপতিকে বুঝিয়ে দেন। টাকা হস্তান্তরের সময় আশরাফ, কাশেম, মতি ও কাদের মোল্লা উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে সভাপতি মোহাম্মদ আলী জামিনদার এরশাদ আলীকে ২০ হাজার টাকা ফেরত দেন।
ভুক্তভোগীর আকুতি:
আবেদনে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ গোলাম হোসেন উল্লেখ করেন, “ঘটনাটি ঘটার সময় আমি এতটাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম যে, নিজের পক্ষে কিছুই বুঝে ওঠার সুযোগ পাইনি। লোকলজ্জা ও সামাজিক অপমানের ভয়ে আমি আমার সর্বস্ব জমিজমা বিক্রি করে উক্ত তিন লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছি। আমি মনে করি, আমার সঙ্গে অন্যায়, অবিচার ও পরিকল্পিতভাবে অর্থ আদায় করা হয়েছে।”
তিনি এই অন্যায় ও পরিকল্পিত অর্থ আদায়ের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জেলা বিএনপি নেতৃত্বের কাছে ন্যায়বিচারের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :