

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-১ (শার্শা–বেনাপোল) আসনের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, ভবিষ্যৎ ভাবনা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরতে শার্শা ও বেনাপোলে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আজীজুর রহমান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় শার্শা উপজেলার হক কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সভায় সীমান্তবর্তী শার্শা–বেনাপোল এলাকার নানাবিধ সমস্যা, উন্নয়ন সম্ভাবনা, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং তথ্যপ্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। এ সময় সাংবাদিকরা বিভিন্ন গঠনমূলক পরামর্শ ও মতামত তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভায় মাওলানা আজীজুর রহমান বলেন, সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হলেও বাস্তবতায় বাংলাদেশের সাংবাদিকরা নানাভাবে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। ফলে তারা চরম অর্থনৈতিক সংকট, পেশাগত অনিশ্চয়তা এবং অন্যায় চাপের মধ্যে থেকেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমি একজন সাধারণ মানুষ। প্রায় পাঁচ লক্ষ শার্শাবাসীর উন্নয়ন একার পক্ষে সম্ভব নয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সাংবাদিকদের মেধা, অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও সহযোগিতা ছাড়া মানুষের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, দল-মত, ধর্ম ও শ্রেণি নির্বিশেষে শার্শার সকল মানুষের মধ্যে সততা, সম্প্রীতি ও মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মাওলানা আজীজুর রহমান বলেন, শার্শাকে প্রতিহিংসা, হয়রানি ও মিথ্যা মামলা মুক্ত করে সকল ধর্ম ও শ্রেণির মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জনপদে পরিণত করা হবে। তিনি খাল, বিল ও বাওড় দখলমুক্ত করে খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি জানান, শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিকায়ন করে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে এবং বেনাপোলে ৫০ শয্যার একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে।
বেনাপোল বন্দরকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালুর আশ্বাস দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে সিএন্ডএফ মালিক, পরিবহন মালিক, আমদানি- রপ্তানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বন্দর শ্রমিক ও কর্মজীবীদের নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক সামাজিক অবস্থান নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, শার্শা উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা ফারুক হাসান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহিদুল্লাহ কাসেমী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইঞ্জিনিয়ার তৈয়েবুর রহমান জাহাঙ্গীর, আসন পরিচালক রেজাউল ইসলাম, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান, বেনাপোল পোর্ট থানা জামায়াতের আমির রেজাউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইউছুপ আলী, এনসিপির শার্শা উপজেলা আহ্বায়ক মুরাদুদৌলা সহ উপজেলার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
আপনার মতামত লিখুন :