

ইরানে নতুন করে হামলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ জোটের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানদের দুই দিনের বৈঠক একটি যৌথ বিবৃতির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। বৈঠকে চীনের আপত্তি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে অবাধ, নিরাপদ ও অবাধ নৌ-চলাচলের আহ্বান জানিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে।
জি-২০-এর সভাপতির বিবৃতিতে বলা হয়, জ্বালানি বাণিজ্যে অব্যাহত ব্যাঘাতের বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা জোর দিয়ে বলছি, হরমুজ প্রণালি ও বিশ্বজুড়ে অবাধ, নিরাপদ ও সুনিশ্চিত নৌ-চলাচল এবং চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের সমাধান টেকসই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।
এদিকে ওয়াশিংটন জোর দিয়ে বলেছে, বৈঠকে একজন রুশ মন্ত্রীর উপস্থিতি আলোচনার ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি।যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, প্রায় সব অংশগ্রহণকারীই যেহেতু সভাপতির চূড়ান্ত বিবৃতিতে সম্মত হয়েছেন, তাই এটিই ইঙ্গিত দেয়, মস্কোর উপস্থিতির কোনো প্রভাব পড়েনি।
নর্থ ক্যারোলিনার অ্যাশভিলে যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানোভকে স্বাগত জানানোয় ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা হতাশা প্রকাশ করেছিল। তাদের প্রতিবাদের মুখে সোমবার সিলুয়ানভকে ছাড়াই জি-২০ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের প্রথাগত সম্মিলিত ছবি তোলা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সিলুয়ানভের উপস্থিতির বিষয়ে প্রতিনিধিদের খুব অল্প সময়ের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতি বিষয়ক প্রধান ভালদিস ডোমব্রোভস্কিস সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের আয়োজনে রাশিয়ার উপস্থিতিকে স্বাভাবিক করার সময় এটি নয়। তিনি বলেন, মস্কোর অংশগ্রহণ মানেই এমন একটি সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে সংবেদনশীল অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা, যারা ইউক্রেন সংঘাতে আক্রমণাত্মক যুদ্ধ চালাচ্ছে এবং প্রতিদিন বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে।
তবে বেসেন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, আমি জানি কিছু ইউরোপীয়ের মনে এ নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা বা অসন্তোষ রয়েছে, তবে আমি মনে করি আলোচনার টেবিলে সম্পৃক্ত থাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিলুয়ানভের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমি এটাও জানিয়ে রাখতে চাই, আমি অর্থমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছি, তিনি কোনো নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নন।
সম্মলনে বেইজিং অতিরিক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী ভারসাম্যহীনতা ঝুঁকি তৈরি করে এবং অর্থনৈতিক বিকৃতি ঘটাতে পারে এমন বিষয়ে আপত্তি জানিয়ছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে অতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই অতিরিক্ত সক্ষমতা অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে এবং পণ্যের দাম কমিয়ে দেয়।
শ্যাম্পেন বলেন, আমাদের আলোচনা করতে হবে এবং সম্মিলিত পদক্ষেপের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ বর্তমানে বৈশ্বিক ভারসাম্যহীনতার যে পরিস্থিতি, তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। সবাইকে আলোচনার টেবিলে থাকতে হবে।
জি-২০ জোটটি ১৯টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ১৯৯৭-১৯৯৮ সালের এশীয় আর্থিক সংকটের পর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার করার লক্ষ্যে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।িএবারের সম্মেলনটি ডিসেম্বরে মিয়ামিতে ট্রাম্পের আহ্বানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শীর্ষ সম্মেলনের জন্যও ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে। বৈঠকের ফাঁকে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-৭ এর সদস্যরাও এ নিয়ে আলোচনা করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
আপনার মতামত লিখুন :