জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করার দাবি করেছে আইআরজিসি


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ / ০ Views
জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করার দাবি করেছে আইআরজিসি

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম সোমবার (৩১ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে চালানো হামলায় যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থান এবং বিমান রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে আইআরজিসি। জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায় ইরানের এই বাহিনী।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) ভাষ্য অনুযায়ী, লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি রকেট উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল। এসব স্থাপনা থেকে হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইন ছোড়ার প্রস্তুতি চলছিল এবং সেগুলোকে আসন্ন হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের দাবি, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় দেশটির সামরিক বাহিনীর কয়েকজন সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। এর জবাবেই জর্ডান ও আমিরাতে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

এদিকে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, জর্ডানকে লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করেছে মার্কিন বাহিনী।

তবে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটির স্থাপনা ধ্বংসের বিষয়ে আইআরজিসির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় মার্কিন বাহিনীর কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ চায় না। তবে কোনো ধরনের আগ্রাসনের মুখে ইরান নীরব থাকবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। নতুন করে এই সংঘাত আঞ্চলিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তথ্যসূত্র: তাস, তাসনিম নিউজ, আল,জাজিরা