জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বুধবার উদ্বোধন 


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : আগস্ট ৪, ২০২৬, ১:৩৬ অপরাহ্ণ /
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বুধবার উদ্বোধন 

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংরক্ষণ ও তুলে ধরার লক্ষ্যে নির্মিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আগামীকাল বুধবার (৫ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাদুঘরটির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন শেষে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি, প্রদর্শনী ও স্মারক পরিদর্শন করবেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী পৃথকভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিভিন্ন তথ্য নিশ্চিত করেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনের প্রথম দিন জাদুঘরটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও যুদ্ধাহত পরিবারের সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে সাধারণ দর্শনার্থীরাও জাদুঘরটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে অনলাইন বুকিং ও প্রবেশ ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাদুঘরে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্লভ আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও রেকর্ড, সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, আন্দোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, শহীদদের ব্যক্তিগত স্মারক এবং আন্দোলনের নানা নিদর্শন সংরক্ষণ করা হয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রদর্শনী, ডিজিটাল আর্কাইভ এবং মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শনার্থীরা গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার টানা আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটানো ওই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আন্দোলনে প্রাণ হারানো শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।