

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরের নিট আন্দোলনকে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে ভুলভাল তুলনা করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন ইসলাম বিদ্বেষী নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তবে তাঁর এই বক্তব্যকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। তসলিমার এমন মন্তব্য তাঁদের আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত ও হেয় করার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি কলকাতায় অবস্থানকালে দিল্লিতে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের এই আন্দোলনকে ঘিরে এক সাক্ষাৎকারে বিতাড়িত তসলিমা নাসরিন দাবি করেন, দিল্লির যন্তর মন্তরের ভিডিও ক্লিপ দেখে তাঁর বাংলাদেশের ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী অভ্যুত্থানের কথা মনে পড়ে গেছে। তিনি বিষোদগার করে বলেন, “আন্দোলন শেষ পর্যন্ত উগ্রপন্থীদের দখলে চলে যায়।”
তসলিমার এমন মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তা উড়িয়ে দেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপক। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “(তসলিমার বয়ান থেকে) আমরা সম্পূর্ণ আলাদা। আমাদের আন্দোলনকে বাংলাদেশের পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
সোমবার ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন অভিজিৎ দীপক। তিনি জানান, দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে তাঁরা আবারও যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচিতে বসতে বাধ্য হবেন।
নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এর জেরে হতাশায় প্রাণ হারানো শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে আশ্বাস সরকার দিয়েছিল, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
দীপক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমপি বা এমএলএ কেনাবেচার সময় কোটি কোটি রুপি অনায়াসে খরচ করা হয়। কিন্তু মৃত পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে গেলেই সরকারের নিয়ম-কানুনের দোহাই মনে পড়ে! এতেই বোঝা যায় সরকারের নিয়ত ঠিক নেই।”
উল্লেখ্য, নিট জালিয়াতির প্রতিবাদে, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণের দাবিতে টানা ৩৭ দিন যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ চালিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। গত ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে এবং সরকার দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিলে তারা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করে।
তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের জায়গায় নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রলহাদ জোশীর নিয়োগকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না সিজেপি। তাঁর অতীতের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে এই নতুন নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন অভিজিৎ দীপক।
মহিন্দুত্ববাদীদের দোসর তসলিমা নাসরিনের কাদা ছোড়াছুড়ি এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের আশঙ্কার মাঝেও নিজেদের মৌলিক দাবিতে অনড় অবস্থান স্পষ্ট করে আন্দোলনের ঝাঁজ বজায় রাখার বার্তা দিলেন সিজেপির এই প্রতিষ্ঠাতা।
আপনার মতামত লিখুন :