

তবে হাসনাত আব্দুল্লাহর অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।
কার্টুন শেয়ার করার অভিযোগে এক অ্যাক্টিভিস্টকে গ্রেফতারের ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাগরিক স্বাধীনতা, আইনের প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তবে হাসনাত আব্দুল্লাহর অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।
রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, কার্টুন শেয়ার করার কারণে অ্যাক্টিভিস্ট এ এম হাসান নাসিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে—যা একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, “আমরা কল্পনাও করতে পারিনি, একটি গণঅভ্যুত্থানের পর কার্টুন শেয়ার করায় একজনকে গ্রেফতার করা হবে।” তিনি দাবি করেন, সরকারি দলের চিফ হুইপ পূর্বে সংসদে স্যাটায়ার করে খাদ্য তালিকায় তিমি মাছ ও হাঙরের কথা বলেছিলেন। সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি কার্টুন শেয়ার করার কারণেই অ্যাক্টিভিস্ট হাসান নাসিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, চিফ হুইপের একজন কর্মী ২৫ ধারায় মামলা করেছেন, যেখানে যৌন নির্যাতনের বিষয় উল্লেখ থাকে। অথচ সংশ্লিষ্ট কার্টুনে এমন কোনো উপাদান নেই বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিরোধী মত দমন করতে এ ধরনের মামলা ও গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে জামিনও দেয়া হচ্ছে না। একই সাথে তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইনে কার্টুন শেয়ার করার জন্য মামলা করার কোনো বিধান নেই। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব স্থগিত থাকায় মন্ত্রীদের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী অধিকারের প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য দুই ঘণ্টা আগে নোটিশ দেয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তিনি এটি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেন।
পরে সংসদে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, কেবল তার কার্টুন আঁকার কারণে যদি কাউকে গ্রেফতার করা হয়ে থাকে, তবে তিনি স্পিকারের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির মুক্তির অনুরোধ জানাবেন।
তবে তিনি এও উল্লেখ করেন, গ্রেফতার ব্যক্তি অন্য কোনো সাইবার অপরাধ বা মানি লন্ডারিংয়ের সাথে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “যদি তিনি কেবল রাজনৈতিক কার্টুন এঁকে থাকেন, তবে আমার কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু অন্য কোনো অপরাধের প্রমাণ থাকলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।”
আপনার মতামত লিখুন :