কন্দর্পপুর গণগ্রন্থাগারের উদ্যোগে ‘সাপ্তাহিক আলোকিত মহল্লা বই পড়া’ কর্মসূচি


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ /
কন্দর্পপুর গণগ্রন্থাগারের উদ্যোগে ‘সাপ্তাহিক আলোকিত মহল্লা বই পড়া’ কর্মসূচি
  • কন্দর্পপুর গণগ্রন্থাগারের উদ্যোগে ‘সাপ্তাহিক আলোকিত মহল্লা বই পড়া’ কর্মসূচি, বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়”

নিজস্ব প্রতিবেদক শার্শা (যশোর): যশোরের শার্শা উপজেলার কন্দর্পপুরে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমাজে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কন্দর্পপুর গণগ্রন্থাগারের উদ্যোগে নিয়মিত ‘সাপ্তাহিক আলোকিত মহল্লা বই পড়া’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এ কর্মসূচিতে শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী পাঠক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন।

প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত দিনে মহল্লাভিত্তিক এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা গল্প, উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, জীবনী ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন বই পাঠ করেন। পাশাপাশি বই নিয়ে আলোচনা, মতবিনিময় এবং পাঠ-পরবর্তী অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটছে।

গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বই পড়ার প্রবণতা কমে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করা, নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং একটি শিক্ষিত ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কন্দর্পপুর গণগ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান বলেন, “একটি বই একজন মানুষকে বদলে দিতে পারে, আর একজন আলোকিত মানুষ বদলে দিতে পারে একটি সমাজ। তাই প্রতিটি মহল্লায় বই পড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ্য। বইয়ের আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, শিশু-কিশোরদের অবসর সময়কে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে এবং মাদক, কিশোর অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে উপজেলার আরও বিভিন্ন এলাকায় ‘আলোকিত মহল্লা বই পড়া’ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি বই আলোচনা, সাহিত্য আড্ডা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং লেখক-পাঠক মিলনমেলার আয়োজন করা হবে।
স্লোগান: “বই পড়ি, জ্ঞান গড়ি—আলোকিত মহল্লা, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি।”