

উত্তর কলকাতার জ্যোতি নগর কলোনিতে দীর্ঘ প্রায় তিন মাস ধরে পানির সরবরাহ বন্ধ থাকার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সমীরুল ইসলাম। শুক্রবার উচ্চ আদালতে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলায় (পিআইএল) প্রায় ৫,০০০ সংকটাপন্ন বাসিন্দার জন্য দ্রুত সুপেয় পানি সরবরাহ পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।
কলকাতা পৌরসংস্থার (কেএমসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত পুরোনো কাশিপুর এলাকায় গঙ্গার কোল ঘেঁষে অবস্থিত জ্যোতি নগর মুসলিম কলোনি। কয়েক দশক পুরোনো এই জনবসতিতে মূলত অত্যন্ত দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবারের বসবাস। এলাকার সিংহভাগ মানুষ ভ্যানচালক বা রিসাইক্লিং সামগ্রী সংগ্রাহক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, গত মাসের শেষ দিক থেকে এলাকার সার্বজনীন ট্যাপের পানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিগত তিন মাস ধরে রান্না করা, খাবার পানি সংগ্রহ ও দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা মেটাতে পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা রয়েছে এবং অধিকাংশ পরিবারই রান্নার জন্য কাঠের চোলা ব্যবহার করে। ফলে পানি সংকটের কারণে শ্রমজীবী পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক ও শারীরিক মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বাসিন্দাদের দাবি, কেবল খাবার পানিই নয়, কলোনির একাধিক অংশের রাস্তার আলো বা স্ট্রিট লাইটের সংযোগও কেটে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সূর্যাস্তের পর পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। গঙ্গার তীরবর্তী এই পথ দিয়ে দিনরাত ভারী ট্রাক ও লরি যাতায়াত করায় পর্যাপ্ত আলোর অভাবে শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
আদালতে মামলা দায়ের করার পর সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভার পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাংসদ সমীরুল ইসলাম বলেন, “আমি কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছি। এটি কোনো ভোটার তালিকায় নাম তোলার বিষয় নয়, এটি প্রায় ৫,০০০ বস্তিবাসীর খাবাউ পানি পাওয়ার মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই। পানিই জীবন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষকে এই মূল্যবান পানি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, কারণ কলকাতা পৌরসংস্থা জ্যোতি নগর কলোনিতে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।”
সাংসদ সমীরুল ইসলাম সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, কলোনির বাসিন্দাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই এই নাগরিক সুবিধা থেকে তাঁদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “উন্নয়ন কি তবে এমন রূপ নিয়েছে যেখানে খাবার পানি পাওয়ার বিষয়টি ধর্মের ওপর নির্ভর করবে? বিচারব্যবস্থার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আমরা আশা করি আদালত থেকে সঠিক বিচার পাব।”
আপনার মতামত লিখুন :