গার্মেন্টস শ্রমিকদের নৈরাজ্যের নেপথ্যে পলাতক ফ্যাসিস্টরা, অরাজকতায় অর্থ ঢালছে আওয়ামীলীগ


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৪, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ / ০
গার্মেন্টস শ্রমিকদের নৈরাজ্যের নেপথ্যে পলাতক ফ্যাসিস্টরা, অরাজকতায় অর্থ ঢালছে আওয়ামীলীগ

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার লক্ষ্যে অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত গার্মেন্টস শিল্পকে টার্গেট করেছে সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ও ব্যবসায়ী সহযোগীরা। মজুরি বাড়ানোর গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে শ্রমিকদের উসকে দেয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতা ও যানবাহনে ভাঙচুরসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

রাজপথে দাবি আদায়ের নামে এই নৈরাজ্যে জড়িত পলাতক দুই শতাধিক সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতা। এমনকি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন মেট্রোরেল, কেপিআইভুক্ত এলাকায় অগ্নিসংযোগ করে আতঙ্ক ছড়ানো এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে নেপথ্যে থাকা এসব ব্যক্তি। এ অবস্থায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, নিরাপত্তা জোরদার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে।

রাজধানীর মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া এবং গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে টানা পঞ্চম দিনের মতো চলা এই আন্দোলন রূপ নিয়েছে চরম সহিংসতায়। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন স্থানীয় বিএনপির এমপিদের অনুগত লোকজনও চলমান সহিংসতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২ নভেম্বর কিছু গার্মেন্টস মালিক, সাবেক মন্ত্রী-এমপি শ্রমিকদের নৈরাজ্যের নেপথ্যে রয়েছেন বলে বক্তব্য দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে কারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে নাশকতা করছে। তারপর তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন সেটাই রহস্যজনক। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, নির্দেশনা মেনে আন্দোলনের ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভ-ভাঙচুরের দৃশ্য তথা নিজের দলের সবাইকে নিয়ে গ্রুপ ছবি তুলে পাঠালেই মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে চলে আসে টাকা। সাতজনের একটি টিমের শুধু শ্রমিকদের আন্দোলনে অংশ নিতেই বরাদ্দ থাকে তিন হাজার ৫০০ টাকা। এরপর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ভিডিও পাঠালে আরো টাকা পাঠানো হয়। ভাঙচুরে তিন হাজার টাকা ও অগ্নিসংযোগে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়ার ভিডিও সাবেক এমপি ইলিয়াস হোসেন মোল্লার ভাগনে আলিফের ফোনে পাঠানো হয় ৩টি মোবাইল থেকে। কিন্তু সেই টাকা আসার আগেই তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মেহেদী নামে এক তরুণ রয়েছে।

সূত্র জানায়, ঘটনার আগের দিন নাশকতার প্রস্তুতির কথা জানানো ২৫টি হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপ শনাক্ত করেছে গোয়েন্দারা। যেসব গ্রুপে সকাল থেকেই নাশকতায় অংশ নেয়া আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছিল। সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ: নাশকতাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে তদন্ত সংস্থাগুলো। যেসব কারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, সেসব এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন ক্যামেরা এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আন্দোলনের সামনে থেকে মারমুখী হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপে নেতৃত্ব দেয়া অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট কারখানার শ্রমিক ছিল না। তারা বহিরাগত এবং অনেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল। ভিডিওর ঝাপসা ছবিগুলো আধুনিক ফেস রিকগনিশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে উন্নত করে পুরনো অপরাধী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ছবির ডেটাবেজের সঙ্গে মেলানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, অনেকের মোবাইলে সন্দেহজনক যোগাযোগ বা অর্থ লেনদেনের আলামত পাওয়া যাচ্ছে, তাদের ফোন ট্র্যাকিং এবং কল ডিটেইলস রেকর্ড পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ‘মেরিল্যান্ড আওয়ামী লীগ’, ‘সবুজ বাংলা চেতনা মুক্তিযুদ্ধ ৭১’, ‘স্পিরিট ৭১’, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা’, ‘বঙ্গবন্ধু আদর্শ গেরিলা ৭১’, ‘সংগঠন ৭১’, ‘ঢাকা জেলা গেরিলা ৭১’ ও ‘ঢাকা বিভাগ গেরিলা ৭১’সহ বিভিন্ন গ্রুপে এসব ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের। বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আক্তার বলেছেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক। তারা বেতন বাড়ানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। তবে রাজপথে যে ভাঙচুর হচ্ছে তার সঙ্গে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সম্পর্ক নেই। গার্মেন্টস শ্রমিকরা কখনো নিজেদের প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করে না। শ্রমিকদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে নেয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের অর্থদাতা ও সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে আলিফ মোল্লা, মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, যুবলীগ নেতা তাজুল ইসলাম বাপ্পি, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের মামুন, পানি জাহাঙ্গীরের সহযোগী মাহবুবুল রহমান জুয়েল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নসরুল হামিদ বিপু, নিক্সন চৌধুরী, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ও মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সাব্বির হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শুভ এবং মিরপুরের রূপনগর আওয়ামী লীগের সদস্য কামাল গাজীর নামও তদন্তে এসেছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

পুলিশের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, বিদেশে অবস্থানরত সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম এ অর্থের যোগান ও নির্দেশনা দিচ্ছেন। পুলিশের দাবি, ঢাকায় তাদের হয়ে লোক সংগ্রহ ও আন্দোলন সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন ইলিয়াস মোল্লাহর ভাগনে আলিফ মোল্লাহ এবং জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল। ডিবির তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শ্রমিকদের আন্দোলনে অংশ নেয়া, মিছিল করা, টায়ারে আগুন দেয়া, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জন্য কাজভেদে আলাদা অঙ্কের টাকা দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও পাঠানোর পর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা দেয়ার কথা ছিল। গত রোববার মিরপুর এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ থেকে গ্রেফতার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ২৬ নেতা-কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের মোবাইল ফোন যাচাই করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। নাশকতাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে। গার্মেন্টস সেক্টরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

অংশ নিলে ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা দেয়ার আশ্বাস : ডিবির তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলে অংশ নিলে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা, টায়ারে আগুন দিলে ৩ হাজার টাকা এবং গাড়ি বা কোনো স্থাপনায় আগুন দিলে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। কোথাও কোথাও গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জন্য ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা দেয়ার তথ্যও পেয়েছেন কর্মকর্তারা। কাজের প্রমাণ হিসেবে ছবি ও ভিডিও পাঠানো ছিল টাকা পাওয়ার অন্যতম শর্ত। কয়েকজন গ্রেফতার ব্যক্তি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পেয়েছেন বলেও দাবি ডিবির। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন নামে ২০ থেকে ২৫টি হোয়াটসঅ্যাপ ও অন্যান্য অনলাইন গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব গ্রুপে আন্দোলনে অংশ নেয়া ব্যক্তিরা নিজেদের অবস্থান, ছবি ও ভিডিও পাঠাতেন। গ্রেফতার ব্যক্তিদের ফোনে অগ্নিসংযোগের ভিডিও ফুটেজও পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবির মিরপুর বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগ দিয়ে নাশকতার উদ্দেশ্যে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ জন নেতাকর্মীকে জড়ো করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কক্সবাজার, নোয়াখালী ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেকে নিজ এলাকা ছেড়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক ও দিনমজুর হিসেবে কাজ করছেন। তারা শ্রমিকের ছদ্মবেশে মিরপুর ২, ১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশ এলাকায় অবস্থান নিয়ে অনলাইন গ্রুপের নির্দেশনায় নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হতেন। পুলিশের তৎপরতা বুঝে তাদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হতো বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম ও প্রিভেনশন উত্তর) মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে দুষ্কৃতকারীরা রয়েছে। যারা আইন অমান্য করছে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে, তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

১২ প্লাটুন বিজিবি, ড্রোনে নজরদারি: শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিজিবি সদর দফতর থেকে জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন।

শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতার পেছনে অনেক শিল্প মালিক জড়িত : গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে কেউ কোনো কর্মকাণ্ড চালালে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে যেসব কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে, সেগুলো দ্রুত খুলে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতার পেছনে অনেক শিল্প মালিক জড়িত। কিছু কিছু জায়গায় যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, তা অনেক ক্ষেত্রেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে কোনো কোনো মহল উৎপাদন বন্ধ রাখার জন্য উসকানি দিচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, পতিত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কোনো মহল রাজনৈতিক হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মিরপুরে চতুর্থ দিনের মতো দফায় দফায় সংঘর্ষ : পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ ও যানবাহন ভাঙচুর করেছে নাশকতাকারীরা। এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে মাটিতে ফেলে মারধর করেছেন বিক্ষোভকারীরা। আগের তিন দিনের চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে দুষ্কৃৃতকারীরা ছিল আরো সহিংস। হিংস্র আচরণ ছিল তাদের। গতকাল তারা শুধু বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত হয়নি। এক পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে তার ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছে। মিরপুর-১১ কালশী সড়কে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুপারশপের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সড়কের পাশের একটি বাসার বারান্দা থেকে এক নারীর মোবাইলে ধারণ করা এ হামলার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগেও পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। আর এতে আসামি করা হয়েছে কয়েক হাজার জনকে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, শ্রমিকদের এই আন্দোলন থেকে ছদ্মবেশে নাশকতাকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৩০ জনকে। ডিএমপি পিওএম দক্ষিণ বিভাগের ডিসি তৌহিদুল আরিফ বলেন, পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে দুষ্কৃতকারীরা অনুপ্রবেশ করেছিল। শ্রমিক নেতারা সোমবার বলেছেন যে, শ্রমিকরা এই আন্দোলন থেকে সরে আসবে। যারা এর পরও বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে, তারা কোনোভাবেই শ্রমিক নয়— বরং তারা দুষ্কৃতকারী। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতকারী সবকিছু নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। এখন যারা মাঠে রয়েছে, তাদের কেউই প্রকৃত অর্থে গার্মেন্টসকর্মী বা শ্রমিক বলে মনে হচ্ছে না। তারা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে অবস্থান করছেন। তারা মিরপুর-১১ নম্বর সড়কে ব্যারিকেড দিয়েছিল। পুলিশ কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।