জোহরা দম্পতির জীবন কাহিনীঃ পোকামাকড়ের সঙ্গে খুপরি ঘরে তাঁদের বসবাস


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুলাই ৩১, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ / ০ Views
জোহরা দম্পতির জীবন কাহিনীঃ পোকামাকড়ের সঙ্গে খুপরি ঘরে তাঁদের বসবাস

নদীর কিনারে বাঁশের খুঁটির ওপর তৈরি চাটাইয়ের মাচা। প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়া চটের বস্তা ও ঘুণে ধরা কাঠের তক্তা দিয়ে ঘেরা দেয়াল, আর মাথার ওপরে পলিথিনের ছাউনি। এমন একটি খুপরি ঘরেই পোকামাকড়ের সঙ্গে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন হাফিজুর রহমান ও জোহরা বেগম দম্পতি।

পরিবারের নামে বরাদ্দ পাওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরটিতে বর্তমানে তাদের ছেলে সন্তান-সন্ততি নিয়ে বসবাস করছেন। ফলে বাধ্য হয়ে নদীর তীরে অস্থায়ী এই ঝুঁকিপূর্ণ ঘরেই থাকতে হচ্ছে বৃদ্ধ দম্পতিকে। তাদের দাবি, নতুন একটি ঘরের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

যশোরের মনিরামপুর পৌর শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া হরিহর নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই ঘরটি যেন কবি জসীম উদ্দীনের ‘আসমানী’ কবিতার বাস্তব প্রতিচ্ছবি। প্রখর রোদ ও তীব্র গরমে পলিথিনে মোড়ানো ঘরটি চুল্লির মতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আবার বৃষ্টির দিনে ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে পুরো ঘর ভিজে যায়। সেই দুর্বিষহ পরিবেশেই দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

বংশপরম্পরায় দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে আসা এই দম্পতির কাছে কষ্ট যেন জীবনেরই অংশ হয়ে গেছে। তবু মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয়ের অপেক্ষায় দিন গুনছেন তারা। আরও দুর্ভোগের বিষয় হলো, তাদের ঘরে যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট রাস্তা নেই। ঝোপঝাড় আর দুর্গম পথ পেরিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, জোহরা বেগম হাতে কেরোসিনের একটি বোতল নিয়ে ঘরে ঢুকছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, কুড়িয়ে আনা ভেজা লাকড়িতে আগুন ধরাতে কেরোসিন ব্যবহার করতে হয়। তা না হলে রান্না করা সম্ভব হয় না।

কয়েকশ গজ দূরের একটি জায়গা দেখিয়ে তিনি বলেন, আগে সেখানে অন্যের জমিতে কষ্ট করে একটি ঘর তুলে বসবাস করতেন। গত বছর হরিহর নদী খননের সময় সেই ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়। তখন নতুন করে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।

জোহরা বেগম জানান, তার স্বামী হাফিজুর রহমান প্রতিদিন ভোরে বের হয়ে ভাঙাড়ি কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের দুই ছেলে-মেয়ের বিয়ে হয়েছে, নাতি-নাতনিও রয়েছে। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে ছেলে তার পরিবার নিয়ে থাকায় তারা সেখানে থাকতে পারছেন না। বাধ্য হয়েই নদীর তীরে এই জরাজীর্ণ খুপরি ঘরেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।